বিশেষ সংবাদদাতা
জাতীয় সংসদে গতকাল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ‘অর্থবিল, ২০২৬’ বেশ কয়েকটি বড় ধরনের সংশোধনী ও পরিবর্তনের মাধ্যমে পাস হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটের বেশ কিছু ধারা নিয়ে সংসদ সদস্যদের তীব্র আপত্তি, ব্যবসায়ী মহলের ধারাবাহিক দাবি এবং সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে অর্থ মন্ত্রণালয় এই পুনর্বিবেচনা ও সংশোধনীর সিদ্ধান্ত নেয়।
গতকাল অর্থ বিলে মূলত করদাতাদের ওপর চাপ কমানো, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা, বিনিয়োগে গতি আনা এবং কিছু বিতর্কিত প্রস্তাব প্রত্যাহারের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। আজ (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের চূড়ান্ত বাজেট পাস হওয়ার কথা রয়েছে। সংসদে পাস হওয়া প্রধান সাতটি সংশোধনী ও পরিবর্তন
১. ব্যক্তিশ্রেণীর আয়করে অতিরিক্ত ছাড় : মূল প্রস্তাবিত কর কাঠামোতে মধ্যবিত্ত ও চাকরিজীবী শ্রেণীর ওপর করের যে চাপ তৈরি হয়েছিল, তা কমাতে করমুক্ত আয়ের সীমায় প্রয়োজনীয় সমন্বয় আনা হয়েছে। সাধারণ করদাতাদের স্বস্তি দিতে কিছু অতিরিক্ত কর-সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে, যা করদাতাদের প্রকৃত ব্যয়যোগ্য আয় বাড়াতে সাহায্য করবে।
২. আবাসন খাতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিল : ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আবাসন খাতে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা বিনিয়োগের আইনি সুযোগ রাখা হয়েছিল। তবে বাজেট পেসের পর থেকেই এটি নিয়ে সংসদের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক সমালোচনা হয়। দীর্ঘ সংসদীয় আলোচনার পর নৈতিক অবস্থান এবং কর ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই বিশেষ সুবিধাটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
৩. ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএন বাধ্যতামূলক; দেশের করজাল সম্প্রসারণ এবং কর ফাঁকি রোধে একটি বড় আইনি পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন অর্থ বিল অনুযায়ী, এখন থেকে যেকোনো নতুন ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে বিপুলসংখ্যক নাগরিক প্রথাগত কর কাঠামোর আওতায় আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এই বাধ্যবাধকতা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান ।
৪. ক্ষুদ্র ব্যবসা ও মুদি দোকানের ভ্যাট প্রস্তাবে শিথিলতা : মুদি দোকানসহ প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর প্রস্তাবিত বাজেটে যে নতুন ভ্যাট ব্যবস্থা আরোপের কথা বলা হয়েছিল, তা ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য বড় বোঝা হিসেবে দেখা দেয়। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দাবির মুখে এই ভ্যাট ব্যবস্থা শিথিল ও পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে, যাতে তৃণমূল পর্যায়ের ব্যবসা সচল থাকে এবং সাধারণ ভোক্তার ওপর পণ্যের দামের চাপ না পড়ে।
৫. সঞ্চয়পত্র ও আর্থিক খাতের কর ব্যবস্থায় সমন্বয় : মধ্যবিত্ত ও সুনির্দিষ্ট আয়ের মানুষের প্রধান বিনিয়োগ মাধ্যম সঞ্চয়পত্রের ওপর প্রস্তাবিত করের হার এবং অন্যান্য আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কয়েকটি জটিল প্রস্তাব পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের নিরাপত্তা এবং আর্থিক খাতের তারল্য পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে এই কর ব্যবস্থায় নতুন সমন্বয় আনা হয়েছে।
৬. ব্যাংক রেজলিউশন আইনের বিতর্কিত ধারা প্রত্যাহারের ঘোষণা : ব্যাংক খাত সংস্কারের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘ব্যাংক রেজলিউশন আইন’-এর কয়েকটি ধারা নিয়ে আমানতকারী ও আর্থিক বিশ্লেষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। উদ্ভূত বিতর্ক ও খাতের স্থিতিশীলতার কথা চিন্তা করে সেই বিতর্কিত বিধানগুলো বাতিল বা সংশোধন করার নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে সরকার।
৭. পুঁজিবাজারে কর-সুবিধা বহাল ও সম্প্রসারণ : দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে এবং দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিদ্যমান করছাড় ও প্রণোদনাগুলো শুধু বহালই রাখা হয়নি, বরং কিছু ক্ষেত্রে এর পরিধি আরো সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
ব্যক্তিশ্রেণীর আয়কর কাঠামোতে নতুন পরিবর্তন ও স্বস্তি
আজ (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘অর্থ বিল, ২০২৬’-এ ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর এসেছে। মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করে এবং সংসদ সদস্যদের আপত্তির মুখে প্রস্তাবিত বাজেটের করমুক্ত আয়ের সীমা আরো ২৫ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার কথা বলা হলেও চূড়ান্ত অর্থবিলে তা বাড়িয়ে চার লাখ টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া করের হার সহজ করতে আগের সর্বনিম্ন ৫ শতাংশ কর ধাপটি বাতিল করা হয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য অনুমোদিত ব্যক্তিশ্রেণীর আয়করের নতুন সীমা, কর ধাপ এবং বিশেষ শ্রেণীর সুবিধাগুলোর বিস্তারিত নিচে দেয়া হলো :
১. ব্যক্তিশ্রেণীর সাধারণ করদাতাদের নতুন কর ধাপ
করমুক্ত সীমা চার লাখ টাকা পার হওয়ার পর পরবর্তী আয়ের ওপর প্রগতিশীল হারে কর নির্ধারিত হবে। নতুন অনুমোদিত ধাপগুলো নিচে দেয়া হলো :
করযোগ্য আয়ের স্তর (টাকায়) করের হার
প্রথম ৪,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ০% (সম্পূর্ণ করমুক্ত)
পরবর্তী ৩,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ১০%
পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ১৫%
পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ২০%
পরবর্তী ২০,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ২৫%
অবশিষ্ট মোট আয়ের ওপর ৩০%
মূল পরিবর্তন : আগে করমুক্ত সীমার ঠিক পরেই ৫ শতাংশ হারে একটি ধাপ ছিল। নতুন সংস্কারে ৫ শতাংশ ধাপটি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করে সরাসরি ১০ শতাংশ থেকে কর শুরু করা হয়েছে, যা কর ব্যবস্থাকে আগের চেয়ে অনেক সরল করেছে। এতে করমুক্ত আয়সীমা কমলেও মোট কর বেড়ে যাবে।
২. বিশেষ শ্রেণীর করদাতাদের জন্য নতুন করমুক্ত সীমা : সাধারণ করদাতাদের পাশাপাশি নারী, জ্যেষ্ঠ নাগরিক এবং বিশেষ সুবিধাভোগী শ্রেণীর জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা সমানুপাতিক হারে বাড়ানো হয়েছে :
নারী করদাতা এবং ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব জ্যেষ্ঠ নাগরিক : ৪,৫০,০০০ টাকা (প্রস্তাবিত ছিল ৪,২৫,০০০ টাকা)।
তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা এবং প্রতিবন্ধী করদাতা : ৫,২৫,০০০ টাকা (প্রস্তাবিত ছিল ৫,০০,০০০ টাকা)।
গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং গেজেটভুক্ত ‘জুলাই যোদ্ধা’: ৫,৫০,০০০ টাকা (প্রস্তাবিত ছিল ৫,২৫,০০০ টাকা)।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতা-মাতা বা আইনানুগ অভিভাবক : তাদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সীমার বাইরে প্রত্যেক প্রতিবন্ধী সন্তান বা পোষ্যের জন্য অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত থাকবে।
৩. ন্যূনতম কর ও রিবেট বিধিমালা
ন্যূনতম কর : কোনো করদাতার আয় করমুক্ত সীমা অতিক্রম করলে করদাতার এলাকা নির্বিশেষে (সিটি করপোরেশন বা জেলাভিত্তিক বৈষম্য দূর করে) ফ্ল্যাট পাঁচ হাজার টাকা ন্যূনতম আয়কর দিতে হবে। তবে নতুন করদাতাদের জন্য প্রথমবার রিটার্ন জমার ক্ষেত্রে ন্যূনতম কর এক হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিনিয়োগ রেয়াত : সঞ্চয়পত্র, ডিপিএস বা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের বিপরীতে কর রেয়াতের হার ১০ শতাংশ করা হয়েছে।
আজ অর্থ বিল পাস হওয়ার পর এই নতুন কর কাঠামোটি চূড়ান্ত আইনি রূপ পেল, যা আগামীকাল (৩০ জুন) মূল বাজেট পাসের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে পুরোপুরি কার্যকর হবে।
ব্যাংক রেজুলিউশন আইনের বিতর্কিত ধারা প্রত্যাহার : একটি বিশ্লেষণ
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পর আর্থিক খাতের সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত বিষয় ছিল প্রস্তাবিত ‘রেজুলিউশন আইন, ২০২৬’। মূলত দুর্বল ও দেউলিয়া প্রায় ব্যাংকগুলোকে টেনে তুলতে এবং আমানতকারীদের সুরক্ষার নামে এই আইনটি আনা হলেও, এর কয়েকটি বিশেষ ধারা উল্টো আমানতকারী এবং সাধারণ মানুষের মনে চরম আতঙ্ক তৈরি করে।
তীব্র গণঅসন্তুষ্টি, আর্থিক বিশেষজ্ঞদের হুঁশিয়ারি এবং জাতীয় সংসদে স্বয়ং সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের আপত্তির মুখে সরকার আজ (২৯ জুন) অর্থ বিল পাসের সময় এই বিতর্কিত ধারাগুলো বাতিল ও সংশোধনের নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে।
যেসব ধারা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল
ক) ‘বেইলি-ইন’ বা আমানতকারীর টাকা দিয়ে ব্যাংক বাঁচানোর ধারা : প্রস্তাবিত আইনের সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ ছিল ‘বেইলি-ইন’ ব্যবস্থা। প্রচলিত নিয়মে কোনো ব্যাংক সঙ্কটে পড়লে সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাইরে থেকে টাকা দিয়ে তা সচল করে। কিন্তু প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছিল, ব্যাংক চরম সঙ্কটে পড়লে বা দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম হলে, আমানতকারীদের জমা রাখা টাকা বা বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বন্ডের অর্থ কেটে নিয়ে তা ব্যাংকের শেয়ারে রূপান্তর করা যাবে অথবা সেই টাকা দিয়ে ব্যাংকের দায় মেটানো হবে।
আশঙ্কা : সাধারণ মানুষ মনে করেছিলেন, কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ চুরি বা লুটপাট করে ব্যাংক দেউলিয়া করলে, তার মাশুল দিতে হবে সাধারণ আমানতকারীকে। এতে মানুষের কষ্টার্জিত টাকা হারানোর সরাসরি ঝুঁকি তৈরি হয়।
খ) আমানত ফেরত পাওয়ার সর্বোচ্চ সীমা ও সময়সীমা : আইনের আরেকটি ধারায় বলা হয়েছিল, কোনো ব্যাংক অবসায়ন বা বন্ধ হয়ে গেলে বীমা তহবিল থেকে আমানতকারীরা একটি নির্দিষ্ট সময় পর সর্বোচ্চ ২ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন- তাদের হিসাবে যত টাকাই জমা থাকুক না কেন। বাকি টাকা ফেরত পাওয়ার বিষয়টি ব্যাংকের সম্পদ বিক্রির ওপর নির্ভর করবে, যা দীর্ঘমেয়াদি ও চরম অনিশ্চিত।
গ) পরিচালনা পর্ষদ ও কর্মকর্তাদের দায়মুক্তি : প্রস্তাবিত আইনের একটি উপধারায় দুর্বল ব্যাংক একীভূতকরণ (গবৎমবৎ) বা রেজুলিউশনের প্রক্রিয়ায় জড়িত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ‘সরল বিশ্বাসে কৃতকর্মের’ জন্য আইনি দায়মুক্তি দেয়ার কথা বলা হয়েছিল। সমালোচকদের মতে, এর ফলে ব্যাংকিং খাতে জালিয়াতি ও অনিয়ম আরো বেশি প্রশ্রয় পেত।
সরকার কেন পিছু হটল বা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিলো?
অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংক মূলত আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (ওগঋ) শর্ত পূরণের অংশ হিসেবে এই আইনটি এনেছিল। তবে এটি প্রত্যাহারের মূল কারণগুলো হলো :
আস্থা সঙ্কটের ভয় ও ‘ব্যাংক রান’ এর ঝুঁকি : এই আইন পাসের গুঞ্জন ছড়ামাত্রই সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয় যে ব্যাংকে টাকা রাখা নিরাপদ নয়। এর ফলে মানুষ ব্যাংক থেকে একযোগে টাকা তুলে নেয়ার হিড়িক (ইধহশ জঁহ) তুলতে পারত, যা পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে ধসিয়ে দেয়ার আশঙ্কা তৈরি করে।
সংসদ সদস্যদের তীব্র বিরোধিতা : বাজেট আলোচনায় সরকারি ও বিরোধী- উভয়পক্ষের সংসদ সদস্যরা এই আইনের কঠোর সমালোচনা করেন। তারা বলেন, পরিচালকদের চুরির শাস্তি আমানতকারী পাবে- এটা কোনো গণতান্ত্রিক দেশে হতে পারে না।
ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের চাপ : দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো সরকারকে জানায়, এই আইন পাস হলে দেশের করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকে বড় অঙ্কের টাকা রাখতে ভয় পাবে, যা ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে স্থবিরতা এনে দেবে।
নৈতিক ও রাজনৈতিক ঝুঁকি : ২০২৬ সালের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পকেটের টাকা কেটে ব্যাংক বাঁচানোর মতো নীতি গ্রহণ করা সরকারের জন্য একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করত।
পরিণাম : সরকার বাস্তবতা অনুধাবন করে জানিয়েছে যে, ব্যাংক খাত সংস্কার অত্যন্ত জরুরি হলেও তা আমানতকারীদের স্বার্থ ক্ষুণœ করে করা হবে না। তাই ব্যাংক রেজুলিউশন আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো সংশোধন করে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য; কিন্তু আমানতবান্ধব একটি নতুন রূপরেখা তৈরি করা হবে।



