ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শুরুতেই নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েছে ফ্রান্স। প্রথম ম্যাচে জয় তুলে নেয়ার পর এবার তাদের সামনে সুযোগ আরেকটি ম্যাচ জিতে এক ম্যাচ হাতে রেখেই শেষ বত্রিশে জায়গা প্রায় নিশ্চিত করা। আজ রাত ৩টায় ফিলাডেলফিয়ার মঞ্চে গ্রুপ ‘আই’য়ের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও ইরাক। দুই দলের লক্ষ্য এক হলেও বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এক দিকে আত্মবিশ্বাসী ও শিরোপাপ্রত্যাশী ফরাসিরা, অন্য দিকে টিকে থাকার শেষ আশায় মাঠে নামবে ইরাক।
আট বছর আগে বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের স্মৃতি এখনো ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসে উজ্জ্বল। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এবারো তারা অন্যতম বড় দাবিদার হিসেবে এসেছে বিশ্ব মঞ্চে। প্রথম ম্যাচে সেনেগালের বিপক্ষে স্কোরলাইন সহজ দেখালেও ম্যাচের শুরুটা মোটেও আরামদায়ক ছিল না। আফ্রিকান দলটি শুরুতে ফ্রান্সকে চাপে রেখেছিল এবং কয়েকবার রক্ষণভাগকে পরীক্ষায়ও ফেলেছিল। কিন্তু বড় দলের মতোই ধৈর্য ধরে নিজেদের খেলায় ফিরে আসে ফরাসিরা।
সেই ম্যাচে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল দলের অধিনায়কের নতুন ইতিহাস গড়া। দুই গোল করার মাধ্যমে তিনি দেশের পুরুষ ফুটবল ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে যান। পাশাপাশি বিশ্বকাপেও ফ্রান্সের হয়ে সর্বাধিক গোলের নতুন রেকর্ড গড়েন। ব্যক্তিগত অর্জনের বাইরে তার উপস্থিতি পুরো দলের আক্রমণকে আরো ভয়ঙ্কর করে তুলেছে।
তবে ফ্রান্সের জন্য কিছু সতর্কতার জায়গাও রয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ম্যাচে তারা রক্ষণে খুব বেশি স্থিরতা দেখাতে পারেনি। টানা কয়েক ম্যাচ ধরে প্রতিপক্ষের গোল ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে দলটি। যদিও এই দুর্বলতাকে আক্রমণভাগের ধার দিয়ে ঢেকে রেখেছে তারা। ধারাবাহিকভাবে গোল করে যাওয়ার ক্ষমতা তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।
ফরাসি শিবিরের বড় ভরসা হলো আক্রমণে বৈচিত্র্য। শুধু একজন তারকার ওপর নির্ভর না করে তারা দুই পাশ দিয়ে দ্রুত আক্রমণ গড়ে তোলে, মাঝমাঠ থেকে সুযোগ তৈরি করে এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ক্রমাগত চাপে রাখে। বিশেষ করে তরুণ খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস এবং গতির কারণে প্রতিপক্ষের জন্য পুরো ৯০ মিনিট মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
অন্য দিকে ইরাকের যাত্রা শুরু হয়েছে হতাশা দিয়ে। প্রথম ম্যাচে নরওয়ের কাছে ৪-১ ব্যবধানে হারের পর তারা এখন কঠিন সমীকরণের মুখে। তবে ফলাফল যতটা একপেশে ছিল, ম্যাচের বড় অংশে ততটা খারাপ খেলেনি ইরাক। দীর্ঘ সময় তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধরে রেখেছিল এবং এক পর্যায়ে ম্যাচে ফিরেও এসেছিল। কিন্তু শেষদিকে কয়েকটি ভুলে পুরো চিত্র বদলে দেয়।
ইরাকের কোচ ম্যাচ শেষে হতাশার বদলে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। তার মতে, বড় দলের বিপক্ষে দীর্ঘ সময় লড়াই করতে পারাটা ভবিষ্যতের জন্য ভালো ইঙ্গিত। তবে তিনি এটাও স্বীকার করেছেন বিশ্বকাপে ছোট ভুলও বড় শাস্তি ডেকে আনে।
এই ম্যাচে ইরাকের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে রক্ষণ সংগঠিত রাখা। কারণ ফ্রান্স আক্রমণে জায়গা পেলে সাধারণত তা কাজে লাগাতে ভুল করে না। সেই সাথে ইরাককে সুযোগ পেলেই দ্রুত পাল্টা আক্রমণে যেতে হবে। শুধু রক্ষণ সামলে পুরো ম্যাচ টিকে থাকা তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে যেতে পারে।
ইতিহাসও ইরাকের পক্ষে কথা বলছে না। বিশ্বকাপের মূল পর্বে তারা এখনো উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়নি। অতীতের অংশগ্রহণগুলোতেও তারা কাক্সিক্ষত ফল পায়নি। এবারো শুরুটা ভালো না হওয়ায় চাপ বেড়েছে। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে বহুবার অঘটনের সাক্ষী হয়েছে আর সেই আশাটাই ধরে রাখতে চাইবে ইরাক। এই ম্যাচে কিছু পরিবর্তনের কথা ভাবছে ইরাক। প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় গোলরক্ষক পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ম্যাচে আরো গতিশীলতা বাড়াতে পরিবর্তন হতে পারে আক্রমণ ভাগেও।



