শরিফুজ্জামান লোহাগড়া (নড়াইল)
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চাচই কেয়ায় ৯০ শতাংশ জমিতে গড়ে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন এক ড্রাগন ফলের বাগান। এক হাজার পিলারে সারি সারি প্রায় ১২ হাজার ড্রাগন গাছ শোভা পাচ্ছে। সবুজে ঘেরা এ বাগানটি গড়ে তুলেছেন মো: আনিসুর রহমান। ড্রাগন চাষ করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
সরেজমিন দেখা যায়, কালনা-লাহুড়িয়া মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে বিস্তৃর্ণ এলাকা নিয়ে গড়ে ওঠা বাগানে রেড ভেলভেট, আমেরিকান বিউটি, ভিয়েতনাম রেড, ভিয়েতনাম হোয়াইট ও পলোরা জাতের ড্রাগন গাছের ক্ষেত।
লোহাগড়া পৌসভার ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান জানান, ১০ বছরের জন্য প্রতি বছর এক হাজার টাকা হারে জমি লিজ নিয়ে ২০২৪ সালে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ শুরু করেন তিনি। শুরুতে ৪০০ পিলারে সাত হাজার চারা লাগানো হয়। বর্তমানে বাগানে প্রায় এক হাজার পিলারে ১২ হাজার গাছ রয়েছে। বাগানে পাঁচজন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন। তিনি বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় বাগানটি গড়ে তুলেছেন তিনি। প্রথম বছর এক থেকে দেড় লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় বছর প্রায় তিন লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি করেছেন। বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ কেজি ফল বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ৭৫ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়। লোহাগড়া, কালিয়া ও নড়াইল সদর ছাড়াও ভাটিয়াপাড়া, কাশিয়ানী, মাগুরা ও যশোরে এসব ফল সরবরাহ করা হয়।
আনিসুর রহমানের দাবি, বাগানে কোনো কীটনাশক বা ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার প্রয়োজন পড়ে না। বছরে এক থেকে তিনবার সার প্রয়োগ করতে হয়। মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ফল সংগ্রহ করা যায়। একবার রোপণ করা গাছ থেকে ২৫-৩০ বছর পর্যন্ত ফল পাওয়া সম্ভব বলে তিনি জানান।
জয়পুর ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল ও সুশান্ত জানান, চারা রোপণের এক বছরের মধ্যেই ফল আসতে শুরু করে। পুষ্টিগুণ ও বাজার চাহিদার কারণে ড্রাগন লাভজনক ফল। ক্যাকটাসজাতীয় গাছ হওয়ায় রোগবালাইও তুলনামূলক কম হয় ড্রাগন গাছে ও ফলে।
বাগানটি দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসছেন। লোহাগড়ার নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের শামুকখোলা গ্রামের ব্যবসায়ী মো: জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘বাগানটির কথা অনেক দিন ধরে শুনছি। এসে খুব ভালো লাগছে।’
লোহাগড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মুনমুন সাহা বলেন, পুষ্টিগুণ, আকার-আকৃতির কারণে ড্রাগন ফলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। উপজেলায় প্রায় দুই হেক্টর জমিতে ছোট-বড় চারটি ড্রাগন বাগান রয়েছে। কৃষি বিভাগ উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।



