মো: আবদুস সালিম
তোমরা ‘সাধারণ পেঁয়াজ’ চেন নিশ্চয়। ‘মুড়িকাটা পেঁয়াজ’ চেন কি? হয়তো চেন বা এর নাম শুনেছ।
‘মুড়িকাটা পেঁয়াজ’ হলো একটি বিশেষ পদ্ধতিতে চাষ করা বাংলাদেশের একটি আগাম জাতের পেঁয়াজ; এ পেঁয়াজ সরাসরি বীজ (seed) থেকে চারা করে ফলানো যায় না, সাধারণত আগের বছরের কন্দ বা ছোট আকৃতির পেঁয়াজ বা ‘গুটি’ (Onion sets) রোপণ করে ফলানো হয়। তার মানে, ‘সাধারণ পেঁয়াজ’ বীজের চারা থেকে চাষ করা হয়, মুড়িকাটা পেঁয়াজ গত বছরের ছোট দানাদার পেঁয়াজ বা ‘গুটি’ সরাসরি রোপণ করে চাষ করা হয়; সরাসরি পেঁয়াজ রোপণ করে ওই পেঁয়াজ থেকে বেশি পাওয়া পেঁয়াজই হলো মুড়িকাটা পেঁয়াজ। মূলত বীজ থেকে নয়, বরং ছোট পেঁয়াজের ‘মুড়ি’ বা কন্দ সরাসরি মাটিতে রোপণের মাধ্যমে চাষ করে পাওয়া যায় ‘মুড়িকাটা পেঁয়াজ’। কলম করে বা চারা রোপণের মাধ্যমেও এটি চাষ করা যায়।
মুড়িকাটা পেঁয়াজকে অনেকে মাথাকাটা, পেঁয়াজ কলি, সবুজ পেঁয়াজ ইত্যাদি নামে চিনেন। কারণ, এ পেঁয়াজ সংগ্রহের সময় এর গাছের উপরের মাথা ও শেকড়ের অংশ কেটে দেয়া হয়। এটি মূলত একটি নির্দিষ্ট জাতের পেঁয়াজ, যা সাধারণ পেঁয়াজের বেশ আগে চাষ করতে হয়। তাই এ পেঁয়াজ ক্ষেত থেকে তোলা যায় সাধারণ পেঁয়াজ তোলার বেশ আগে। এ কারণে এ পেঁয়াজকে ‘আগাম পেঁয়াজ’ বলা হয়। দ্রুত বড় হয় বলে দামও ভালো পাওয়া যায়।
মুড়িকাটা পেঁয়াজ শীতকালীন ফসল; বাজারে নতুন উঠা পেঁয়াজের একটি অংশও এ পেঁয়াজ।
এটি সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে চাষ করা ভালো। রবি মৌসুমের এ ফসল সংগ্রহ করা হয় ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে। এ পেঁয়াজ চাষের জন্য নরম, উর্বর, পলি-দো-আঁশ বা বেলে দো-আঁশ মাটি সবচেয়ে উপযোগী। প্রয়োজনে সেচ দিতে হবে ও পানি নিষ্কাশনের ভালো ব্যবস্থা থাকতে হবে।
এ পেঁয়াজের স্বাদ কিছুটা ঝাঁঝালো, মিষ্টি ও সুগন্ধিযুক্ত; সাধারণ পেঁয়াজের তুলনায় বেশি নরম। খোসা বেশি পাতলা ও নরম।
মুড়িকাটা পেঁয়াজ বেশি চাষ হয় ফরিদপুর, রাজবাড়ী, পাবনা, দিনাজপুর, বগুড়া, রাজশাহীসহ দেশের অনেক জায়গায়।
এ পেঁয়াজ শুধু মজাদার নয়, পুষ্টিকরও; খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। এতে প্রচুর পরিমাণে আছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, সালফার, ফ্ল্যাভোনয়েড, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ‘সি’ ইত্যাদি।
মুড়িকাটা পেঁয়াজ দ্রুত পরিপক্ব হয় বলে পচন প্রবণতা একটু বেশি। এটি ভালোভাবে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা ভালো। ফ্রিজজাত করলে দ্রুত গুণাগুণ নষ্ট হতে পারে।



