আবুল কালাম
মেলা শেষ হতে আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি। এমন সময়ে মেলার চিত্র উল্টো। প্রতি বছর মধ্য সময় থেকে শেষদিন পর্যন্ত মেলায় পাঠক সমাগম ব্যাপক হলেও এবার সেই চিরচেনা ভিড় নেই। সাপ্তাহিক ছুটির দুই দিন শুক্রবার ও শনিবার কিছুটা লোক সমাগম হলেও কর্মদিবস শুরুর সাথে আবারো নিঃস্তব্দ হয় মেলা। প্রতিটি স্টলে অলস সময় পার করছেন বিক্রেতারা। এবার প্যাভিলিয়ন না থাকায় মেলার পরিবেশ আগের চেয়ে অনেকটা বেশি খোলামেলা হয়েছে। স্টলের সারির মধ্যে প্রশস্ত পথ। পাঠকের পে কোনো নির্দিষ্ট প্রকাশনার স্টল খুঁজে পাওয়া সহজ। আবার প্রকাশকদের জন্যও সব বই পাঠকের সামনে তুলে ধরা সহজ হয়েছে। তারপরও হাতেগোনা পাঠকে বিক্রিও একেবারে কম।
প্রকাশকরা বলছেন, রোজা থাকায় সারা দিন মানুষ তেমন আসছেন না। আবার ইফতারের পর ঈদ শপিংয়ে ব্যস্ত সবাই। ফলে পরিবেশ ঠিক থাকলেও বই কেনার প্রতি এ সময়ে সবার আগ্রহ কম। তাই মেলায় এমন পাঠক সঙ্কট। ফলে সাজানো-গোছানো স্টল, নতুন বইয়ের প্রচ্ছদ আর লেখক-পাঠকদের আগমন কিছুটা থাকলেও বিক্রির অঙ্ক মোটেও আশানুরূপ নয়।
একাধিক প্রকাশক জানান, গত বছরের তুলনায় বিক্রি ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বা তারও বেশি কমেছে। আবার কোনো কোনো প্রকাশনীর একেবারেই বিক্রি নেই। এতে করে স্টল ফ্রি হলেও প্রতিদিনের বিক্রি দিয়ে স্টল ভাড়া, কর্মচারী ব্যয় ও অন্যান্য খরচ মেটানোই কঠিন হয়ে পড়ছে। এ ছাড়া বই ছাপানো, বাঁধাই, পরিবহন ও প্রচারণা সবমিলিয়ে বড় ব্যয় রয়েছে, যা পুষিয়ে ওঠা কঠিন।
গতকাল তথ্যকেন্দ্রে মেলার নতুন বই জমা পড়েছে ১৬৩টি। বেলা ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় শহীদুল্লাহ কায়সার শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিবলী আজাদ। আলোচনায় অংশ নেন প্রশান্ত মৃধা। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।
শিবলী আজাদ বলেন, পূর্ববাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঔপন্যাসিক শহীদুল্লøাহ কায়সার। বামপন্থী রাজনীতি, সাংবাদিকতা ও লেখকবৃত্তি শহীদুল্লøাহ কায়সারের খ্যাতির মূল কারণ হলেও স্বাধীনতার প্রাক্কালে তার শাহাদতবরণ তাকে দিয়েছে অনন্য এক মর্যাদা। রোজনামচা, ভ্রমণকাহিনী ও উপন্যাস মিলিয়ে ৯টি পূর্ণাঙ্গ ও একটি অসমাপ্ত গ্রন্থের লেখক শহীদুল্লাহ কায়সার মূলত একজন প্রথিতযশা ঔপন্যাসিক হিসেবেই বেশি পরিচিত। সারেং বৌ (১৯৬২)-এর মাধ্যমে হাতেখড়ি হলেও উপন্যাসে তার দতার ছাপ প্রথম গ্রন্থেই প্রমাণিত। সংশপ্তক (১৯৬৫) উপন্যাসের প্রকাশ তার ঔপন্যাসিক সমতার ধারণা দৃঢ় করেছে, বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঔপন্যাসিকের অধিষ্ঠান দিয়েছে।
লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজের বই নিয়ে আলোচনা করেন অনুবাদক ফয়েজ আলম এবং জাভেদ হুসেন। বিকেল ৪টায় ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
আজ মেলা শুরু হবে বেলা ২টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বেলা ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘স্মরণ : সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন আহমাদ মোস্তফা কামাল। আলোচনায় অংশ নেবেন হরিশংকর জলদাস। সভাপতিত্ব করবেন খালিকুজ্জামান ইলিয়াস। বিকেল ৪টায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
ইউপিএল এনেছে আলী রীয়াজের প্রবন্ধ গ্রন্থ সঙ্কটময় যাত্রা। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশ এক নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা শুরু করে। জুলাইয়ে শুরু হওয়া এক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে একটি ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরাচারী শাসনের নাটকীয় পতনের পর এই পরিবর্তনের সূচনা হয়। এর আগে দেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত করার তিনটি প্রচেষ্টা কাক্সিক্ষত ল্েয পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছিল। বাংলাদেশ কি এবার সফল হবে? গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে বাধাগুলোই বা কী? এই প্রক্রিয়ার মূল কারিগর কারা? গত অর্ধশতাব্দীর ইতিহাসে যেসব দেশ এ ধরনের উত্তরণে সফল হয়েছে বা ব্যর্থতার মুখ দেখেছে, তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে রচিত এই অনুবাদ এ গ্রন্থটি।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, স্বৈরাচারী পতনের পর রাষ্ট্র সংস্কারের চ্যালেঞ্জ এবং নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ঝুঁকি ও সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করে লেখা একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বই, যা বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। স্বৈরাচারের পতনের পর বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে কী কী বাধা রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা। ড. আলী রীয়াজ তার অভিজ্ঞতার আলোকে এই বইটিতে বাংলাদেশের রাজনীতি, গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি অবশ্যপাঠ্য দলিল হিসেবে কাজ করেছেন। এটি ২০২৪-২৫ সালের বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি প্রামাণ্য দলিল হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
কুরআন শরিফ সরল বঙ্গানুবাদ। এর অনুবাদ ও তাফসির করেছেন বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান। প্রকাশ করেছে প্রথমা প্রকাশন। কুরাঅন শরিফ মানবজাতির এক অনন্য সম্পদ; পৃথিবীর সবচেয়ে পঠিত মহাগ্রন্থের একটি। ধার্মিক মুসলমানরা এর মধ্যে পান পরম সত্যের সন্ধান। পণ্ডিতরা খোঁজেন বিশ্বজুড়ে ছড়ানো বিরাট এক সম্প্রদায়ের মর্মবস্তু, ঐক্যের ভিত্তি, ইসলামের ধর্মভাবের মহিমা। বিশ্বের নানা ভাষায় এর একাধিক ভাষান্তর হয়েছে। বাংলা ভাষায়ও। কিন্তু পাঠকপ্রিয়তায় মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের এ অনুবাদ আগেরগুলোকো ছাড়িয়ে গেছে বহু গুণে। কারণ তার এ অনুবাদ শুধু নির্ভুল নয়, একই সাথে প্রাঞ্জল ও উপভোগ্য।
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন নিয়ে এসেছে বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ শায়খ আহমাদুল্লাহ-এর ঈমানের অপরিহার্য পাঠ। ‘ঈমানের অপরিহার্য পাঠ’ হলো জনপ্রিয় ইসলামী ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহ রচিত একটি নতুন ইসলামী বই। দীর্ঘ দেড় বছরের গবেষণা ও কঠোর পরিশ্রমের পর ২০২৬ সালের অমর একুশে বইমেলা উপলে বইটি প্রকাশিত হয়েছে। বইটিতে মূলত ঈমানের মৌলিক বিষয়াবলি এবং আধুনিক যুগে ঈমান-বিধ্বংসী বিভিন্ন ফিতনা ও সূক্ষ্ম বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, আধুনিকতার মোড়কে যে বিষয়গুলো একজন মুমিনের ঈমানকে তিগ্রস্ত করতে পারে, সেগুলো সঠিকভাবে জানতেই এই বইটি পাঠ করা অত্যন্ত জরুরি।
বাংলাদেশ-ভারত পানিযুদ্ধ। লেখক আলতাফ পারভেজ। প্রকাশ করেছে তরফদার প্রকাশনী। গবেষক ও সাংবাদিক আলতাফ পারভেজ-এর অন্যতম আলোচিত একটি বই হলো ‘বাংলাদেশ-ভারত পানিযুদ্ধ’। এই বইটিতে লেখক দুই দেশের মধ্যকার অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন সমস্যা এবং এর ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। বইটিতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বহমান নদীগুলোর পানিচুক্তি, গঙ্গার পানি বণ্টন বিরোধ এবং টিপাইমুখ বাঁধ বা ইন্টারলিঙ্কিং প্রজেক্টের মতো সমসাময়িক বিতর্কিত ইস্যুগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে। আলতাফ পারভেজ একজন বিশিষ্ট দণি এশীয় রাজনীতি ও ইতিহাস গবেষক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনশাস্ত্রে পড়াশোনা করেছেন এবং দীর্ঘ দিন ধরে সাংবাদিকতা ও গবেষণার সাথে যুক্ত। বইটি রকমারি, বাতিঘর বা প্রথমার মতো অনলাইন বুক শপগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে।



