জিয়াউর রহমান : সঙ্কটের সময়ে রাষ্ট্র নির্মাণের রাজনীতি

সরদার ফরিদ আহমদ

Printed Edition
জিয়াউর রহমান : সঙ্কটের সময়ে রাষ্ট্র নির্মাণের রাজনীতি
জিয়াউর রহমান : সঙ্কটের সময়ে রাষ্ট্র নির্মাণের রাজনীতি

বাংলাদেশের রাজনীতিতে কিছু নাম আছে, যেগুলো শুধু ব্যক্তি নয়, একেকটি রাজনৈতিক বাঁকবদলের প্রতীক। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেই বিরল কয়েক জনের একজন। তাকে নিয়ে বিতর্ক আছে। মতভেদ আছে। রাজনৈতিক বিরোধও আছে; কিন্তু একটি সত্য অস্বীকার করা কঠিন- বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সঙ্কটময় মুহূর্তগুলোতে তিনি ছিলেন নির্ধারক এক চরিত্র। স্বাধীনতার ঘোষণা থেকে শুরু করে যুদ্ধ-পরবর্তী রাষ্ট্র পুনর্গঠন, বহুদলীয় রাজনীতির পুনঃপ্রতিষ্ঠা, নতুন অর্থনৈতিক দর্শন, এমনকি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি নির্মাণ- প্রতিটি ক্ষেত্রে তার ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে গভীর ছাপ রেখে গেছে।

৩০ মে তার শাহাদতবার্ষিকী। এই দিনে শুধু আবেগ নয়, প্রয়োজন রাজনৈতিক মূল্যায়নেরও। কারণ জিয়াউর রহমানকে বোঝা মানে বাংলাদেশের রাষ্ট্র গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে বোঝা।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাষ্ট্রটি দ্রুত স্থিতিশীল হতে পারেনি। যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি, প্রশাসনিক ভাঙন, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তা- সবমিলিয়ে দেশ তখন গভীর সঙ্কটে। সেই সময়ে রাজনীতিতে প্রধান সুর ছিল আবেগ, ব্যক্তিপূজা এবং মতাদর্শিক বিভাজন। এরপর এলো বাকশাল। একদলীয় শাসনব্যবস্থা স্বাধীনতার যে চেতনা সেটিকে ধ্বংস করে দেয়া হলো। কিন্তু জিয়াউর রহমান ভিন্ন ধরনের রাজনীতির ভাষা নিয়ে হাজির হন। তিনি নিজেকে কখনো মহাপুরুষ হিসেবে উপস্থাপন করেননি। তিনি ছিলেন কার্যকর রাষ্ট্র পরিচালনার পক্ষের মানুষ। তিনি ছিলেন ‘ম্যান অব অ্যাকশন’।

এ কারণেই অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক তাকে বাংলাদেশের প্রথম বাস্তববাদী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে দেখেন। বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান একাধিক লেখায় বলেছেন, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিকে মতাদর্শিক সঙ্ঘাত থেকে প্রশাসনিক বাস্তবতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করেছিলেন। তার রাজনীতি ছিল রাষ্ট্রকেন্দ্রিক। ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য শুধু স্লোগান নয়, তিনি দিয়েছিলেন কর্মসূচি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণার প্রশ্নে রাজনৈতিক বিতর্ক থাকলেও ইতিহাসের একটি অংশ স্পষ্ট। ১৯৭১ সালের সেই উত্তাল সময়ে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করে তিনি যুদ্ধরত জাতির মনোবল বাড়িয়েছিলেন। সেই ঘোষণার রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক গুরুত্ব ছিল বিরাট। কারণ যুদ্ধ তখন শুধু সামরিক ছিল না, ছিল রাষ্ট্রের বৈধতা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামও।

কিন্তু জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক গুরুত্ব শুধু মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণায় সীমাবদ্ধ নয়। তার বড় অবদান আসে ১৯৭৫-পরবর্তী সময়ে। একনায়ক শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশ কার্যত এক অনিশ্চয়তার ঘূর্ণিতে পড়ে। সেনাবাহিনীতে বিদ্রোহ, পাল্টা বিদ্রোহ। রাজনৈতিক অস্থিরতা। প্রশাসনিক অচলাবস্থা। সেই বিশৃঙ্খলার মধ্যে জিয়াউর রহমান ধীরে ধীরে রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসেন।

এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যখন ক্ষমতায় আসেন, তখন বাংলাদেশ কার্যত একদলীয় শাসনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। রাজনৈতিক দলগুলো দুর্বল। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত। বিরোধী রাজনীতি প্রায় অনুপস্থিত। সেই অবস্থায় জিয়াউর রহমান বহুদলীয় রাজনীতির পথ খুলে দেন। একজন সেনাশাসকের হাত ধরে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পেল। নিঃসন্দেহে এটি বিরল ঘটনা। তিনি বিএনপি গঠন করেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষকে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দেন।

এখানেই তার রাজনীতির সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য। তিনি সামরিক পটভূমি থেকে এসেছিলেন। কিন্তু তার হাত ধরেই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম ঘটে। বাংলাদেশের বর্তমান বহুদলীয় রাজনৈতিক কাঠামোর ভিত্তি নির্মাণে তার ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না।

জিয়াউর রহমানের আরেকটি বড় অবদান ছিল ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ ধারণা। এর রাজনৈতিক তাৎপর্য ছিল গভীর। তিনি জাতীয় পরিচয়কে শুধু ভাষাভিত্তিক সাংস্কৃতিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাননি। তিনি রাষ্ট্রকেন্দ্রিক নাগরিক পরিচয়কে সামনে আনেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘সিভিক ন্যাশনালিজম’।

তিনি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ধারণা সামনে আনেন একটি রাজনৈতিক বাস্তবতা থেকে। তিনি বুঝেছিলেন, শুধু ভাষাভিত্তিক পরিচয় দিয়ে রাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে ঐক্য ধরে রাখতে পারে না। তাই তিনি নাগরিকভিত্তিক জাতীয় পরিচয়ের কথা বলেন। তার কাছে বাংলাদেশ মানে ছিল স্বাধীন ভূখণ্ড, সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং জাতীয় স্বার্থের ঐক্য। ধর্ম, সংস্কৃতি, ভূগোল ও মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতাকে তিনি একসাথে মিলিয়ে নতুন রাজনৈতিক পরিচয় নির্মাণের চেষ্টা করেন। এই ধারণার মাধ্যমে তিনি বিভাজনের রাজনীতি থেকে রাষ্ট্রকেন্দ্রিক রাজনীতিতে যেতে চেয়েছিলেন। সমর্থকরা একে বাস্তববাদী রাষ্ট্রচিন্তা বলেন। সমালোচকরা বলেন, এটি ছিল পরিচয়ের নতুন রাজনৈতিক বিন্যাস। তবু বাংলাদেশের রাজনীতিতে এর প্রভাব এখন গভীরতর।

তার এই ধারণা রাজনৈতিকভাবে সফলও হয়েছিল। কারণ স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে পরিচয়ভিত্তিক বিভাজন প্রবল হয়ে উঠছিল। জিয়াউর রহমান সেই রাজনীতিকে সরিয়ে জাতীয় স্বার্থভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তা সামনে আনেন। তার কাছে রাষ্ট্র ছিল বাস্তবতা। আবেগ নয়।

অর্থনীতিতেও তিনি বড় পরিবর্তনের সূচনা করেন। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের অর্থনীতি ছিল অতিরিক্ত রাষ্ট্রনির্ভর। উৎপাদন কমছিল। বিনিয়োগ স্থবির ছিল। সেই সময়ে তিনি কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতকে গুরুত্ব দেন। খাল খনন কর্মসূচি, গ্রামভিত্তিক উন্নয়ন চিন্তা এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতি নিয়ে তার উদ্যোগ তখন নতুন ছিল। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শুধু তাত্ত্বিক ভাষণে আটকে রাখেননি। তিনি বাস্তবভিত্তিক অর্থনীতির পথ ধরেছিলেন। তার সময়ে নেয়া কয়েকটি সিদ্ধান্ত আজও দেশের অর্থনীতির ভিত ধরে রেখেছে।

প্রথমত, জনশক্তি রফতানি। মধ্যপ্রাচ্যের সাথে সম্পর্ক জোরদার করে তিনি বিদেশে শ্রমবাজার খুলে দেন। লাখো বাংলাদেশীর কর্মসংস্থানের পথ তৈরি হয়। আজ প্রায় দেড় কোটি বাংলাদেশী বিদেশে কাজ করে। রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান শক্তিগুলোর একটি। এর ভিত্তি তৈরি হয় তখনই।

দ্বিতীয়ত, তৈরী পোশাক শিল্প। বেসরকারি খাতকে উৎসাহ দেয়া, রফতানিমুখী শিল্পনীতি এবং উদ্যোক্তা তৈরির পরিবেশ- এসবের মাধ্যমে তিনি গার্মেন্ট শিল্পের ভিত্তি গড়ে দেন। পরে এই খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়।

তৃতীয়ত, কৃষি বিপ্লব। তিনি কৃষিকে শুধু খাদ্য উৎপাদনের বিষয় হিসেবে দেখেননি। দেখেছিলেন অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে। জিয়াউর রহমান গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি আনতে চেয়েছিলেন। বাস্তবে সেই গতি এসেছে। আজ বাংলাদেশের অর্থনীতির বড় সেক্টর কৃষি অর্থনীতি।

আজ বাংলাদেশের অর্থনীতি যত সঙ্কটই মোকাবেলা করুক, এই তিন খাত এখনো দেশকে টিকিয়ে রাখছে। এটিই জিয়াউর রহমানের অর্থনৈতিক বাস্তববাদের সবচেয়ে বড় প্রমাণ। একজন অর্থনীতিবিদ একবার মন্তব্য করেছিলেন, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের অর্থনীতিকে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে এনে বাস্তবমুখী করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি আসলে অর্থনীতির গতিপথ বদলে দিয়েছিলেন।

পররাষ্ট্রনীতিতেও তার বাস্তববাদ ছিল স্পষ্ট। বাংলাদেশ তখন আন্তর্জাতিকভাবে খুব শক্ত অবস্থানে ছিল না। এক দিকে ভারত-সোভিয়েত ঘনিষ্ঠতা। অন্য দিকে শীতল যুদ্ধের বৈশ্বিক মেরুকরণ। এ অবস্থায় তিনি বহুমাত্রিক কূটনীতি শুরু করেন। মধ্যপ্রাচ্যের সাথে সম্পর্ক জোরদার করেন। মুসলিম বিশ্বের সাথে বাংলাদেশের সংযোগ বাড়ান। একই সাথে যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং পশ্চিমা বিশ্বের সাথেও সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করেন। তার এই কূটনীতির অর্থনৈতিক ফলও আসে। মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমবাজার খুলে যায়। বৈদেশিক কর্মসংস্থান বাড়ে। রেমিট্যান্স অর্থনীতির ভিত্তি তৈরি হয়। আজ বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি যে প্রবাসী আয়, তার পেছনে জিয়াউর রহমানের সময়কার কূটনৈতিক উদ্যোগের বড় ভূমিকা ছিল। ইরান-ইরাক যুদ্ধ বন্ধে তার মধ্যস্থতার চেষ্টাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছিল। তিনি বুঝতেন, ছোট রাষ্ট্রের জন্য স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি শুধু কূটনৈতিক শৌখিনতা নয়; এটি অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রশ্ন।

ভারতের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তিনি একটি ভারসাম্যের নীতি অনুসরণ করেন। তিনি ভারতের প্রতি অন্ধ নির্ভরতাকেও সমর্থন করেননি। তিনি প্রতিবেশী সম্পর্ককে জাতীয় স্বার্থের আলোকে দেখতে চেয়েছিলেন। আজও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে বিতর্কের মধ্যে তার সেই ভারসাম্যপূর্ণ নীতির আলোচনা ফিরে আসে। সবাই একবাক্যে স্বীকার করেন, জিয়াউর রহমানের যে ভারতনীতি সেটিই ভারতের প্রতি আমাদের জাতীয় নীতি হওয়া উচিত। তিনি নতজানু পররাষ্ট্রনীতিতে বিশ্বাস করতেন না। তিনি অন্য দেশের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ন্যায্যতা এবং মর্যাদাকে সব সময় সামনে রাখতেন।

কিন্তু এখানেই একটি বড় প্রশ্ন সামনে আসে। আজকের বিএনপি কি সত্যিই জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ধারণ করছে? এই প্রশ্ন এখন শুধু বিরোধীদের নয়, বিএনপির ভেতর থেকেও উঠছে। কারণ জিয়াউর রহমানের রাজনীতি ছিল কর্মসূচিনির্ভর। রাষ্ট্রকেন্দ্রিক। বাস্তববাদী। তিনি রাজনৈতিক রোমান্টিসিজমে বিশ্বাস করতেন না। তিনি ছিলেন সংগঠক। প্রশাসক। কৌশলী রাষ্ট্রচিন্তক।

আজকের বিএনপির মধ্যে সেই রাজনৈতিক শৃঙ্খলা কতটা আছে? জাতীয় স্বার্থভিত্তিক সুস্পষ্ট নীতির উপস্থিতি কতটা দেখা যায়? নতুন প্রজন্মের সামনে তারা কী ধরনের রাষ্ট্রদর্শন হাজির করছে? এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনো মেলেনি।

বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখানেই। তারা যদি শুধু জিয়াউর রহমানের নাম ব্যবহার করে; কিন্তু তার রাজনৈতিক বাস্তববাদ ধারণ করতে না পারে, তাহলে দলটি ধীরে ধীরে শুধু স্মৃতিনির্ভর সংগঠনে পরিণত হবে। কারণ, ইতিহাসে কোনো রাজনৈতিক দল কেবল আবেগের ওপর দাঁড়িয়ে দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না।

জিয়াউর রহমানের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তার অভিযোজন ক্ষমতা। তিনি সময় বুঝতেন। সঙ্কট বুঝতেন। রাষ্ট্রের প্রয়োজন বুঝতেন। তিনি জানতেন, জনগণ শেষ পর্যন্ত ফল চায়। স্লোগান নয়। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতেও সেই বাস্তববাদী নেতৃত্বের সঙ্কট স্পষ্ট। রাজনীতি ক্রমেই বেশি আবেগনির্ভর হচ্ছে। বিভাজন বাড়ছে। রাষ্ট্রের চেয়ে দল বড় হয়ে ওঠছে। এই বাস্তবতায় জিয়াউর রহমানকে নতুন করে আলোচনায় আনার কারণ এখানেই। কারণ তিনি নিখুঁত ছিলেন বলে নয়; বরং তিনি রাষ্ট্রকে কার্যকর করার রাজনীতি করেছিলেন বলে।

আজ তার শাহাদতবার্ষিকীতে তাই সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো তাকে নিয়ে সৎ ইতিহাসচর্চা। অন্ধ ভক্তি নয়। অন্ধ বিদ্বেষও নয়। বাংলাদেশে এখনো জিয়াউর রহমানকে নিয়ে গভীর গবেষণা খুব কম। রাজনৈতিক প্রচার আছে। আবেগ আছে; কিন্তু নিরপেক্ষ ও পরিশ্রমী ইতিহাস লিখন এখনো সীমিত। এটি শুধু একটি রাজনৈতিক ঘাটতি নয়, এটি জাতীয় বৌদ্ধিক দুর্বলতাও।

একটি জাতি তার গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চরিত্রগুলোকে যত গভীরভাবে বুঝতে পারে, তার গণতন্ত্রও তত পরিণত হয়। জিয়াউর রহমান সেই ধরনেরই এক রাজনৈতিক চরিত্র, যাকে বুঝতে হলে শুধু দলীয় অবস্থান যথেষ্ট নয়। দরকার ইতিহাসবোধ। রাষ্ট্রবোধ এবং রাজনৈতিক সততা।হ

লেখক : সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন