নয়া দিগন্ত ডেস্ক
সড়ক দুর্ঘটনায় কক্সবাজারের রামুতে দুই বোনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আটজন নিহত হয়েছেন।
ঈদগাঁও (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, কক্সবাজারের রামু উপজেলায় ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে দুই বোনসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরো তিনজন।
সোমবার বেলা ২টার দিকে উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের স্কুলপাহাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুই বোন হলেন উখিয়া উপজেলার হরিণমারা এলাকার জাফর আলমের মেয়ে রুবিনা আক্তার ও শাহিনা আক্তার। নিহত অপর যাত্রীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক একটি মামলার কাজে সকালে দুই বোন কক্সবাজার আদালতে গিয়েছিলেন। আদালতের কার্যক্রম শেষে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। পথে খুনিয়াপালংয়ের স্কুলপাহাড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সাথে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার এক যাত্রী নিহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রুবিনা আক্তার ও শাহিনা আক্তারের মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় চালকসহ অটোরিকশাটিতে মোট ছয়জন আরোহী ছিলেন।
রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানান, রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর রেলগেটে তেলবাহী ট্রেনের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ওয়াগনের সাথে যাত্রীবাহী বাস, মাহেন্দ্র ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে দু’জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনটি যানবাহনের চালকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। রোববার রাত পৌনে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের শামুকখোলা গ্রামের মঈনুদ্দিন শেখের ছেলে মালেক শেখ (৪৫) এবং রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় ব্র্যাক পাড়া এলাকার মতি পাটোয়ারীর ছেলে মনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী (৫০)। তারা দু’জনই মাহিন্দ্রার যাত্রী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর পাওয়ার প্লান্টে তেল সরবরাহ শেষে ৩০টি ওয়াগন নিয়ে একটি তেলবাহী ট্রেন রাজবাড়ীর দিকে ফিরছিল। খানখানাপুর রেলগেট অতিক্রমের আগে ট্রেনটির পেছনের ছয়টি ওয়াগনের সংযোগকারী চেইন ছিঁড়ে মূল ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এ সময় ট্রেনটি সম্পূর্ণ চলে গেছে মনে করে গেটম্যান রেলগেট খুলে দেন। ঠিক তখনই গোয়ালন্দ মোড় থেকে দৌলতদিয়া ঘাটগামী আনন্দ ডিলাক্সের একটি যাত্রীবাহী বাস, গোয়ালন্দমুখী একটি মাহেন্দ্র এবং বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করে। এ দিকে পেছন থেকে গড়িয়ে আসা বিচ্ছিন্ন ওয়াগনের সাথে তিনটি যানবাহনের সংঘর্ষ হয়। বাস, মাহেন্দ্র ও অটোরিকশার অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে দু’জন ফরিদপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এ দিকে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে আমেনা বেগম (৭৫) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার নারায়ণপুর মুচিবাড়িসংলগ্ন রামদিয়া-বহরপুর পাকা সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আমেনা বেগম উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত আসমত শেখের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমেনা বেগম উপজেলার পদমদী গ্রামে বসবাসরত তার ছেলে আবদুল শেখের বাড়ি থেকে ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানে নিজ বাড়ি গোবিন্দপুরে ফিরছিলেন। পথে হঠাৎ তার পরনের ওড়না অটোভ্যানের চাকায় পেঁচিয়ে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা জানান, খুলনা-মোংলা মহাসড়কে বাসের চাপায় হাফেজ ইবারাত আলী (৫০) নামে এক মাদরাসাশিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি রামপাল উপজেলার ইসলামাবাদ এলাকার বাসিন্দা।
সোমবার সকালে রামপাল উপজেলার ভাগা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, একটি মোটরসাইকেল ওভারটেক করার খুলনাগামী একটি বাস পেছন থেকে মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে যান ইবারাত আলী। পরে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, লক্ষ্মীপুরে বেপরোয়া গতির ড্রামট্রাকের সাথে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে চৌধুরী রুবেল (৩০) নামে সাবেক এক ছাত্রদল নেতার মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার ভোরে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এর আগে রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের মজুচৌধুরীরহাট সড়কের যুব উন্নয়ন অধিদফতর এলাকায় দুর্ঘটনায় রুবেল, সিএনজিচালক বাহার উদ্দিন ও স্বপন হোসেন নামে তিনজন গুরুতর আহত হয়। নিহত রুবেল লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের জনকল্যাণ উচ্চবিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড বাঞ্চানগর এলাকার ফারুক হোসেন চৌধুরীর বড় ছেলে। তিনি লাল-সবুজ পরিবহন কাউন্টার ম্যানেজার ছিলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ১০টার দিকে লক্ষ্মীপুর থেকে যাত্রী নিয়ে মজুচৌধুরীরহাটের দিকে যাচ্ছিল সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশা। লক্ষ্মীপুর-মজুচৌধুরীহাট সড়কের যুব উন্নয়ন অধিদফতর এলাকায় পৌঁছালে পার্কিং করা একটি ড্রামট্রাক ওভারটেক করে যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে দ্রুত গতিতে ছেড়ে আসা আরেকটি ড্রামের ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে তিনজন গুরুতর আহত হয়। পরে তাদের তিনজনকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় রুবেলকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্য দু’জনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ দিকে একই সময় লক্ষ্মীপুর-রায়পুর সড়কের করইতলা এলাকায় দু’টি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে আরো চারজন আহত হয়।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় সাথে সাথে ঘটনাস্থল পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আহত রুবেল ভোররাতে পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ড্রামট্রাক পুলিশ হেফাজতে আছে।



