নবীন চৌধুরী ধামরাই (ঢাকা)
ঢাকার ধামরাই উপজেলার গাংগুটিয়া ইউনিয়নের কাওয়ালীপাড়া এলাকার বৃদ্ধা আলো রানী সাহা জীবনের শেষ বয়সে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আট সন্তানের জননী হলেও বর্তমানে তার দেখভাল করার মতো কেউ নেই। জীর্ণ-শীর্ণ একটি ভাঙাচোরা ঘরে বসবাস করছেন তিনি। বৃষ্টি হলেই ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ে, ফলে কখনো কাগজ ও পলিথিন দিয়ে পানি ঠেকানোর চেষ্টা করেন, আবার কখনো বাধ্য হয়ে প্রতিবেশীদের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে আলো রানী সাহা বলেন, বহু বছর আগে তার স্বামী মারা যান। এরপর সীমাহীন কষ্ট করে আট সন্তানকে মানুষ করলেও এখন তারা নিজ নিজ সংসার নিয়ে ব্যস্ত। কেউ তার খোঁজখবর নেন না। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টি হলে ঘরে থাকা যায় না। কোনো রকমে রাত কাটাই। একটি থাকার মতো ঘর পেলে জীবনের বাকি সময়টা শান্তিতে কাটাতে পারতাম।’
স্থানীয় বাসিন্দা লাবু জানান, আলো রানী সাহা দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত কষ্টে বসবাস করছেন। নিরাপদ আবাসনের অভাবে সামান্য বৃষ্টিতেই তাকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তিনি বলেন, সরকার বা কোনো বিত্তবান ব্যক্তি সহযোগিতার হাত বাড়ালে বৃদ্ধার শেষ জীবন কিছুটা স্বস্তিতে কাটতে পারে।
এলাকাবাসীর দাবি, অসহায় এই বৃদ্ধার জন্য দ্রুত একটি নিরাপদ ঘরের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করা হোক। তাদের মতে, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প বা সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা পেলে আলো রানী সাহার মাথা গোঁজার একটি স্থায়ী ঠাঁই হতে পারে।



