জয়ের পরও মন খারাপ কানাডার

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক নিউ ইয়র্ক থেকে

এমনই হয় একটি দলের উন্নতি। ১৯৮৬ সালে প্রথম বিশ্বকাপে খেলে কোনো গোলের দেখা পায়নি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে এসে গোলের দেখা, তবে পয়েন্টের সাক্ষাৎ পায়নি। এবার তিন আয়োজন দেশের একটি কানাডা। তাই নিজ মাঠে খেলার সুযোগ। এই হোম সুবিধাই পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছে কানাডা। আগের ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সাথে গোল করা। এরপর সেই গোলের ওপর ভর করেই প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্টের সাক্ষাৎ। আর এবার ভ্যাঙ্কুভারের মাঠে বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের দেখা। আর সেই জয়ও বিশাল ব্যবধানে। ৬-০ তে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারের বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক জয়। তবে ইতিহাস গড়তে গেলে কিছু চরম মূল্যও দিতে হয়। কানাডাকে দিলে হলো সেই চরম খেসারত। পা ভেঙে বিশ্বকাপই শেষ হয়ে গেল ইসমাইল কোনের। তার এই মারাত্মক চোট মেনে নিতে পারছিলেন না কানাডার কোচ-খেলোয়াড়রা। স্ট্রেচারে করে যখন মাঠ ছাড়ছিলেন ইসমাইল কোনে, তখন এই দৃশ্য দেখে কেঁদেই ফেলেন কোচ জোসে মার্চ। আর নাথান সাবিলা ৬৪ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে গোল করেই তুলে ধরেন ইসমাইল কোনের জার্সি। ম্যাচের আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো জোনাথন ডেভিডের হ্যাটিট্রক। এতেই জয়টা আরো সহজ হয়েছে তাদের। অবশ্য দুই লাল কার্ডের পর কাতার ৯ জনে পরিণত হলে আরো ব্যাকফুটে চলে যায় তারা।

এ দিকে টানা দুই ম্যাচে অপরাজিত কানাডা আরেক ইতিহাস গড়ার পথে। প্রথম জয়ের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নক আউটে যাবে তারা। বলতে গেলে সেরা ৩২-এ জায়গা নিশ্চিতই করে ফেলেছে কানাডিয়ানরা। যাদের ফিফা র‌্যাংকিং ২৮। তবে এই ইতিহাস গড়া জয়ে একটি খুত থেকেই গেল। প্রতিপক্ষ যে ১০ জনে পরিনত হয়েছিল। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ৫৮তে থাকা দলটি ১০ জনে পরিণত হওয়ার আগেই ২-০ তে লিড নিয়ে নেয় স্বাগতিকরা। ১৬ মিনিটে কাইল লারিন এবং ২৯ মিনিটে জোনাথন ডেভিড গোল করে উল্লাসে মাতায় স্বাগতিকদের। এরপর ৩৩ মিনিটে কাতারের হোমান আহমেদ লাল কার্ড পেলে অরো কোণঠাসা হয়ে যায় মধ্য প্রাচের দেশটি।

এরপর ৪৩ মিনিটে তৃতীয় গেল আদায় কানডার। এবারো গোলদাতা জোনাথন ডেভিড। পরে ৫৩ মিনিটে বড় সর্বনাশ। বলের দখল নিতে গিয়ে ইসমাইল কোনেকে মারাত্মক ফাউল করেন আসিম মাদিবো। এই ফাউলের পর রেফারি প্রথমে হলুদ কার্ড দেখান মাদিবোকে। পরে ভিএরআর দেখে পকেট থেকে বের করে লাল কার্ড। সাধারণত এক খেলোয়াড় লাল কার্ড পেলেও আর লড়াই করার মতো পরিস্থিতি থাকে না। সেখানে দুই ফুটবলারের গ্যাপ পূরণ করা আরো কঠিন হয়ে যায়। কাতারি ফুটবল দলের পক্ষেও এই গ্যাপ পূর করা সম্ভব হয়নি। ফলে আরো তিন গোল হজম।

মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো এ অবস্থায় আত্মঘাতী গোল করে বসেন মোহাম্মদ মানাই। অবশ্য এর আগেই ফ্রি-কিক থেকে গোল করে ইসমাইল কোনের জার্সি তুলে ধরেন নাথান সাবিলা। এরপর ৯২ মিনিটে কাতারের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক আদায় জোনাথন ডেভিডের।

এই গোল দিয়ে দীর্ঘ একটি প্রতীক্ষারও অবসান ঘটিয়েছেন জোনাথন ডেভিড। দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে স্বাগতিক দলের খেলোয়াড় হিসেবে হ্যাটট্রিক করা তার। এর আগে ১৯৬৬ সালে ইংলান্ডের জিওফ হাস্ট হ্যাটট্রিক করেছিলেন। প্রথম এই জয়ে কানাডা বিশ্বকাপ ইতিহাসে বড় জয়ের রেকর্ডেও ভাগ বসাল। স্বাগতিক হিসেবে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ে অন্যদের সঙ্গী হলো কানাডা। এর আগে ১৯৩৪ বিশ্বকাপে স্বাগতিক ইতালি ৭-১ গোলে যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়েছিল।

বিশ্বকাপে এই প্রথম জয়ে কানাডা স্বাগতিক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ডে ভাগ বসাল তারা। এর আগের তিনটি নজির, ১৯৩৪ বিশ্বকাপে ইতালি ৭-১ গোলে যুক্তরাষ্ট্রকে, ১৯৫০ বিশ্বকাপে ব্রাজিল ৭-১ এ সুইডেন ও ১৯৭৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ৬-০ পেরুকে হারায়। ১৯৩৪ বিশ্বকাপে ইতালি ও ১৯৫৪ বিশ্বকাপে তুরস্কের পর বিশ্বকাপে ন্যূনতম ছয় গোলের ব্যবধানে প্রথম জয় পেল কানাডা।