- আমিরাতে বাংলাদেশী নিহত, কুয়েতে মার্কিন হেলিকপ্টার ধ্বংস
- হরমুজ প্রণালী না খুললে যুদ্ধবিরতি নয় বলে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
- ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি নয় : হেগসেথ
- ইরানের ৯২ হাজারেরও বেশি স্থাপনায় হামলা
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সঙ্ঘাত এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতি ও অর্থনীতিতে। গতকাল বুধবার কাতারের পানিসীমায় ‘কাতার এনার্জি’র লিজ নেয়া ‘অ্যাকুয়া ১’ নামক তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানি ক্রুজ মিসাইল হামলা এই উত্তেজনাকে নতুন উচ্চতায় ঠেলে দিয়েছে। রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাবের কাছে চালানো এই হামলায় কোনো প্রাণহানি না হলেও কাতারের এলএনজি রফতানি সক্ষমতা ১৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা এশিয়া ও ইউরোপে তীব্র জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সতর্ক করেছে যে, হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় চলতি এপ্রিলে তেলের সরবরাহ ঘাটতি গত মার্চের তুলনায় দ্বিগুণ হতে পারে।
এই চরম অস্থিরতার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের ‘নতুন সরকারের প্রেসিডেন্ট’ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছেন। ট্রাম্প এই কথিত নতুন নেতৃত্বকে পূর্বসূরিদের চেয়ে ‘বুদ্ধিমান’ আখ্যা দিলেও যুদ্ধবিরতির জন্য কঠোর শর্তজুড়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি উন্মুক্ত ও নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনা হবে না। অন্যথায় ইরানকে ‘পাথর যুগে’ ফিরিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি। তবে বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের এই দাবি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন, কারণ ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ এখনো দৃশ্যমান নয়।
অন্য দিকে যুদ্ধক্ষেত্রে সঙ্কাত আরো তীব্র হয়েছে। ইরান ও তার মিত্র ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’ ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় ইরানের বেসামরিক স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্পাত শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইয়েমেনের হাউছিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের হুমকি দেয়ায় বৈশ্বিক নৌবাণিজ্য এখন খাদের কিনারে।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্বীকার করেছেন যে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের জন্য সরাসরি হুমকি না হলেও মিত্রদের জন্য তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জাতিসঙ্ঘ (ইউএনডিপি) সতর্ক করেছে যে, এই এক মাসের যুদ্ধ আরব বিশ্বের জিডিপি ৬ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১৯৪ বিলিয়ন ডলার। এখন সবার নজর বুধবার রাতে ট্রাম্পের জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণের দিকে, যা এই সঙ্ঘাতের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে।
কাতারে তেলবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
বুধবার কাতারের পানিসীমায় একটি তেলবাহী জাহাজে ক্রুজ মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে দু’টি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দিয়ে ধ্বংস করা সম্ভব হলেও তৃতীয়টি ‘অ্যাকুয়া ১’ নামক একটি ফুয়েল অয়েল ট্যাংকারে আঘাত হানে।
সরকারি মালিকানাধীন ‘কাতার এনার্জি’র লিজ নেয়া এই জাহাজটি কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব থেকে ১৭ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ৩১ কিমি) উত্তরে অবস্থান করছিল। উল্লেখ্য, রাস লাফান বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাস প্ল্যান্টের কেন্দ্রবিন্দু। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জাহাজটির পানির ওপরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো নাবিক হতাহত হননি এবং কোনো পরিবেশগত বিপর্যয় বা তেল নিঃসরণের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্য মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)।
চলমান এই যুদ্ধের ফলে কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রফতানি সক্ষমতা এরইমধ্যে ১৭ শতাংশ কমে গেছে। এর ফলে ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোতে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘœ ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ট্রাম্পের ন্যাটো ছাড়ার হুমকি
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) যখন চলতি এপ্রিলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ঘাটতি গত মার্চের তুলনায় দ্বিগুণ হওয়ার পূর্বাভাস দিচ্ছে, ঠিক তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হতে পারে। তবে ইউরোপীয় দেশগুলো হরমুজ প্রণালী সচল করতে সহায়তা না করলে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ন্যাটো’ জোট থেকে সরিয়ে নেয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
বুধবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, আমরা শিগগিরই ইরান ত্যাগ করব। এটি আগামী দুই বা তিন সপ্তাহের মধ্যেই হতে পারে। এই যুদ্ধ শেষ করার জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক চুক্তি বা সফল কূটনীতি পূর্বশর্ত কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না, ইরানকে কোনো চুক্তি করতে হবে না।
ইরানের কথিত যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সাম্প্রতিক এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দাবি করেছেন, ইরানের ‘নতুন সরকারের প্রেসিডেন্ট’ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানিয়েছেন। ট্রাম্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করলেও তাকে পূর্বসূরিদের চেয়ে ‘কম কট্টরপন্থী ও বুদ্ধিমান’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি উন্মুক্ত ও নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত কোনো যুদ্ধবিরতি বিবেচনা করা হবে না। অন্যথায় ইরানকে ‘পাথর যুগে’ ফিরিয়ে দেয়ার হুমকি দেন তিনি।
এ দিকে বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের এই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বর্তমানে ইরানে মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বরত থাকলেও দেশটির শাসনব্যবস্থায় আমূল কোনো পরিবর্তনের প্রমাণ মেলেনি। সেখানে মোহাম্মদ বাকের গালিবফ বা আইআরজিসির প্রতিষ্ঠাতাদের মতো পুরনো নেতারাই ক্ষমতা কাঠামোয় সক্রিয়। এমতাবস্থায় ট্রাম্প আসলে কার সাথে যোগাযোগ করছেন বা পেজেশকিয়ানই সেই প্রস্তাব দিয়েছেন কি না- তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক জল্পনা ও সংশয় দেখা দিয়েছে।
ইসরাইল ও মার্কিন ঘাঁটিতে মিসাইল হামলা
ইরান ও তার মিত্র ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’ (রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট) ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে বিশাল এক হামলা চালিয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এই দফার অভিযানে তারা ১০০টিরও বেশি ভারী ক্ষেপণাস্ত্র ও অ্যাটাক ড্রোন এবং অন্তত ২০০টি রকেট ব্যবহার করেছে।
বুধবার কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বাহরাইনের একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইরানের এই হামলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে ড্রোন ভূপাতিত করার সময় গোলার আঘাতে এক বাংলাদেশী নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ দিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা তাদের আকাশসীমায় আসা বেশ কিছু ড্রোন সফলভাবে ইন্টারসেপ্ট ও ধ্বংস করেছে।
কুয়েত সিভিল এভিয়েশনের মুখপাত্র আবদুল্লাহ আল-রাজি জানিয়েছেন, ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় বিমানবন্দরের ফুয়েল বা জ্বালানি ট্যাংকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, তাদের হামলায় কুয়েতের আল-আদিরি ঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন হেলিকপ্টার ইউনিটের একটি হেলিকপ্টার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।
অন্য দিকে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানি আগ্রাসনের ফলে একটি কোম্পানির কারখানায় আগুন লেগেছে, যা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা। এ ছাড়া বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং পারস্য উপসাগরের বিভিন্ন মার্কিন পয়েন্টে এই বিধ্বংসী হামলা চালানো হয়। আইআরজিসি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরাইলের অভ্যন্তরে বিভিন্ন কৌশলগত অবস্থানেও এসব মিসাইল ও ড্রোন আঘাত হেনেছে।
ভয়াবহ জ্বালানি সঙ্কটের পূর্বাভাস
আইইএ’র প্রধান ফাতিহ বিরল এক পডকাস্টে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় এশিয়ায় এরইমধ্যে জেট ফুয়েল এবং ডিজেলের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এপ্রিল বা মে মাসের মধ্যে এই প্রভাব ইউরোপেও ছড়িয়ে পড়বে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এপ্রিলে তেলের বাজারে যে পরিমাণ সরবরাহ ঘাটতি হবে, তা মার্চের তুলনায় দ্বিগুণ। বিশ্বজুড়ে প্রসাধন সামগ্রী থেকে শুরু করে চা শিল্প- সব খাতেই এই যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
কূটনৈতিক অবস্থান ও শর্ত
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামনে ১৫ দফা যুদ্ধবিরতির একটি ফ্রেমওয়ার্ক দিয়েছিল, যার অন্যতম শর্ত ছিল ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ত্যাগ করবে এবং হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেবে। এ দিকে সিনেটর মার্কো রুবিও ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, সংঘাতের ‘শেষ সীমানা’ দেখা যাচ্ছে এবং যেকোনো সময় সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্য দিকে হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, বুধবার রাত ৯টায় (ইডিটি) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান পরিস্থিতি নিয়ে জাতির উদ্দেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ আপডেট দেবেন। এই ভাষণ থেকে যুদ্ধবিরতি বা পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উত্তর ইসরাইলে হিজবুল্লাহর রকেট হামলা
লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর শক্তিশালী রকেট হামলায় উত্তর ইসরাইলের কিরিয়াত শমোনা শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলায় শহরটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং অন্তত একজন আহত হয়েছেন।
লেবানন সীমান্তসংলগ্ন এলাকাগুলোতে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজার পরপরই হিজবুল্লাহ এই শেলিং ও রকেট হামলা চালায়। হামলার পর কিরিয়াত শমোনা শহরের বেশ কিছু স্থাপনা ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেছে।
বাব আল-মান্দেব বন্ধের হুমকি হাউছিদের
ইয়েমেনের সানা থেকে আলজাজিরার সংবাদদাতা ইউসেফ মাওরি জানিয়েছেন, হাউছিরা বর্তমানে দক্ষিণ ইসরাইলে তাদের হামলা জোরদার করছেন। তারা বুধবার সকালে দক্ষিণ ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দায় স্বীকার করেছেন। এক বিবৃতিতে হাউছিরা জানান, ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহর সাথে মিলে তারা চলতি যুদ্ধে তাদের তৃতীয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটি চালিয়েছে।
হাউছি কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাদের দাবি পূরণ হলেই শুধু এ হামলা বন্ধ করবেন তারা। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, ইসরাইলের গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলা ও ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ইসরাইলের অংশ না নেয়া। হাউছিদের প্রভাবশালী নেতা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি জানিয়েছেন, সামরিক সঙ্ঘাত আরো বাড়ানোর জন্য তাদের সামনে আরো অনেক বিকল্প ও ধাপ রয়েছে। তার মতে, এর মধ্যে অন্যতম একটি বিকল্প হতে পারে বাব আল-মান্দেব প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া।
ইরানে লক্ষাধিক বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত
ইরানে চলমান মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় দেশটির বেসামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেছে ইরান রেড ক্রিসেন্ট। সংস্থাটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক আক্রমণগুলোতে এক লাখ ১৫ হাজারেরও বেশি বেসামরিক ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।
রেড ক্রিসেন্ট তাদের টেলিগ্রাম বার্তায় জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে আবাসিক ভবন, হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ত্রাণসহায়তা কেন্দ্র রয়েছে। এসব ধ্বংসলীলার একটি ‘উল্লেখযোগ্য অংশ’ রাজধানী তেহরান প্রদেশে অবস্থিত।
উদ্ধার তৎপরতা সম্পর্কে সংস্থাটি আরো জানায়, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া অন্তত ১,৫২৬ জনকে এ পর্যন্ত জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে ইরানের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘মোবারকেহ স্টিল কোম্পানি’। গত কয়েক সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো এই কারখানায় হওয়া হামলায় উৎপাদন ইউনিটের ‘বিশাল ক্ষতি’ হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া তেহরানে একটি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানও আক্রান্ত হয়েছে।
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি নয়
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের এক মাস পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্বীকার করেছেন যে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের জন্য কোনো হুমকি নয়। গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পাল্লা যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত পৌঁছানোর মতো নয়, তবে এগুলো ওই অঞ্চলে মার্কিন মিত্র ও সম্পদগুলোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
হেগসেথ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মিত্রদের রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে ঝুঁকিতে ফেললেও ইউরোপীয় দেশগুলো থেকে আশানুরূপ সহায়তা মিলছে না। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাজ্যকে উদ্দেশ্য করে সাহসের সাথে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। হেগসেথের এই বক্তব্য হোয়াইট হাউজের পূর্ববর্তী ‘আসন্ন হুমকি’ তত্ত্বের সম্পূর্ণ বিপরীত।
অর্থনৈতিক বিপর্যয়
ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (ইউএনডিপি) এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এক মাসের এই যুদ্ধের প্রভাবে আরব বিশ্বের জিডিপি ৩.৭ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে, যার আর্থিক মূল্য ১২০ বিলিয়ন থেকে ১৯৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান।



