ডিএসই ব্রোকারের ট্রেক লাইসেন্স বাতিল

সূচকের উন্নতি দিয়েই সপ্তাহ শেষ করল পুঁজিবাজার

Printed Edition

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

সূচকের উন্নতি দিয়েই দেশের পুঁজিবাজারগুলো সপ্তাহ শেষ করেছে। গতকাল দেশের দুই পুঁজিবাজারই সবগুলো সূচকের কমবেশি উন্নতি ধরে রাখে। লেনদেন শুরুর পর আধঘণ্টার মাথায় বিক্রয়চাপের মুখে পড়া বাজারগুলো পরবর্তীতে এ চাপ সামলে নেয়। ব্যাংক, বীমা ও মূলধন সমৃদ্ধ খাতগুলোর বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ায় দিনের বাকি সময় বাজারগুলো সূচকের উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। তবে সূচকের উন্নতি সত্ত্বেও গতকাল দুই পুঁজিবাজারেই লেনদেন কমেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ২২ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট কেড়েছে। ৪ হাজার ৮৬০ দশমিক ৬২ পয়েন্ট থেকে সকালে লেনদেন শুরু করা সূচকটি বুধবার দিনশেষে পৌঁছে যায় ৪ হাজার ৮৮৩ দশমিক ৫৬ পয়েন্টে। লেনদেন শুরুর ১৫ মিনিটের মাথায় সূচকটি যখন ৪ হাজার ৮৭৮ পয়েন্টে পৌঁছে তখনই বিক্রয়চাপের মুখে পড়ে বাজার। পরবর্তী ১৫ মিনিটে সূচকটি নেমে আসে দিনের সর্বনিম্ন ৪ হাজার ৮৬২ পয়েন্টে। তবে দ্রুতই এ চাপ সামলে নেয় বাজারটি। এ সময় ব্যাংক, বীমাসহ বেশ কয়েকটি মূলধন সমৃদ্ধ কোম্পানির মূল্য বাড়ায় ফের ঊর্ধ্বমুখী হয় ডিএসই সূচক। দুপুর সোয়া ১টার দিকে সূচকটি পৌঁছে যায় ৪ হাজার ৮৯৬ পয়েন্টে। এ পর্যায়ে সূচকের উন্নতি রেকর্ড করা হয় ৩৬ পয়েন্ট। এখান থেকে নতুন করে বিক্রয়চাপ সৃষ্টি হলে বৃদ্ধি পাওয়া সূচকের একটি অংশ হারায় বাজারটি। একই সময় বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ যথাক্রমে ৯ দশমিক ৩৭ ও ৬ দশমিক ০৮ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়।

একইভাবে দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই গতকাল ৪৩ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট বেড়েছে। বুধবার সকালে ১৩ হাজার ৬২১ দশমিক ৪২ পয়েন্ট থেকে যাত্রা করা সূচকটি দিনশেষে পৌঁছে যায় ১৩ দশমিক ৬৬৫ দশমিক ২৩ পয়েন্টে। এ সময় সিএসইর দুই বিশেষায়িত সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ৫৪ দশমিক ৯৮ ও ২২ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট।

সূচকের উন্নতি সত্ত্বেও গতকাল দুই পুঁজিবাজারেই লেনদেনের অবনতি ঘটে। ডিএসই এ দিন ৩৩৮ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে, যা আগের দিন অপেক্ষা ৬৯ কোটি টাকা কম। মঙ্গলবার সিএসইর লেনদেন ছিল ৪০৭ কোটি টাকা। অন্য দিকে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারের লেনদেন গতকাল নেমে আসে পাঁচ কোটি টাকায়। মঙ্গলবার এখানে ১৬ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি হয়েছিল।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা লেনদেনের কারণ হিসেবে সামনে টানা তিন দিন সরকারি ছুটিকেই দেখছেন। তাদের মতে, বাজারের সবচেয়ে বড় শক্তি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এসব বিষয় গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে। কারণ অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন হয় মূল প্রতিষ্ঠান থেকে। তারা একটি নির্দিষ্ট সুদে এই অর্থ মূল প্রতিষ্ঠান থেকে ধার নেয়। তাই টানা দিন দিন পুঁজি আটকে থাকলে বড় অঙ্কের সুদ গুনতে হয়, যা বিনিয়োগের জন্য নেতিবাচক মনে করেন তারা। এ কারণে বাধ্য না হলে বা বড় কোনো সুযোগ না দেখলে তারা এ ধরনের সরকারি ছুটির আগে বিনিয়োগে যেতে চায় না।

এ দিকে ডিএসইর সদস্য এসকিউ ব্রোকারেজ হাউজ লিমিটেডের ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট (ট্রেক) বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। প্রতিষ্ঠানটির ট্রেক নম্বর ৩০৮, যা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্ধারিত বিধিমালা লঙ্ঘনের কারণে বাতিল করা হয়েছে।

ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ডিএসই জানায়, বিএসইসি বিধিমালা, (ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট) ২০২০-এর বিধি ৭(৩) অনুযায়ী এসকিউ ব্রোকারেজ হাউজ লিমিটেডের নামে ইস্যুকৃত ট্রেক বাতিল করা হয়েছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে নেয়া এ সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বিধিমালার বিধি ৭(১) লঙ্ঘন।

ডিএসই সূত্রে জানা যায়, বিএসইসি থেকে স্টক ডিলার ও স্টক ব্রোকার হিসেবে নিবন্ধন সনদ পাওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করতে ব্যর্থ হয় এসকিউ ব্রোকারেজ হাউজ লিমিটেড। বিধিমালা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যক্রম শুরু না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ট্রেডিং রাইট বাতিল করার সুযোগ রয়েছে। সেই বিধানের আলোকে ডিএসই এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে।

ডিএসইতে গতকাল লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানি ছিল বিবিধ খাতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। ১৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ১৬ লাখ ৬৬ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় গতকাল ১৩ কোটি ১০ লাখ টাকায় ৫৪ লাখ তিন হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে সিটি ব্যাংক উঠে আসে দ্বিতীয় অবস্থানে। ডিএসইর লেনদেনে শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে রহিমা ফুড করপোরেশন, সায়হাম কটন মিলস, মালেক স্পিনিং, ওরিয়ন ইনফিউশন, লাভেলো আইসক্রিম, ফাইন ফুডস, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ ও উত্তরা ব্যাংক।

এ সময় ডিএসইতে মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে ব্যাংকিং খাতের কোম্পানি আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক। গতকাল ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে কোম্পানিটির। ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে এ তালিকায় দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল খাদ্য ও আনুসঙ্গিক খাতের রহিমা ফুড করপোরেশন। এ দিন ডিএসইর মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে মালেক স্পিনিং, এডিএন টেলিকম, জেমিনি সি ফুডস, ই- জেনারেশন, ইসলামিক ফিন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, রূপালী ব্যাংক ও বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস।

ডিএসইতে এ দিন দরপতনের শীর্ষে ছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান ফারইস্ট ফিন্যান্স। ৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ দর হারায় প্রতিষ্ঠানটি। ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ দর হারিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল এফএএস ফিন্যান্স। ডিএসইর দরপতনের শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স, রিলায়েন্স ওয়ান মিউচুয়াল ফান্ড, ফার্স্ট ফিন্যান্স, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, জিএসপি ফিন্যান্স, বিআইএফসি, রেনউইক যজ্ঞেশ^র ও অ্যাপোলো ইস্পাত।