রেলওয়ের জমি দখলে বাধা, সোনাতলা স্টেশনে হামলা-ভাঙচুর

Printed Edition

বগুড়া অফিস

বগুড়ার সোনাতলা রেলওয়ে স্টেশনের কাছে রেলওয়ের জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণে বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে স্টেশন মাস্টারসহ রেলকর্মীদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার কারণে গত বুধবার সাময়িকভাবে স্টেশনটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল হাসান বাবু লিখিতভাবে ক্ষমা চাওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকালে কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, স্টেশন-সংলগ্ন হরিজনপাড়া এলাকায় রেলওয়ের ফাঁকা জায়গায় সরকারি অনুমোদন বা রেলওয়ের ছাড়পত্র ছাড়াই পাবলিক টয়লেটসহ স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগ স্টেশন মাস্টার রবিউল ইসলামকে খোঁজ নিতে বলে। তিনি ঘটনাস্থলে নির্মাণকাজের সত্যতা পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, জিআরপি ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে (আরএনবি) জানান।

পরে বগুড়া থেকে জিআরপি ও আরএনবির একটি দল গিয়ে নির্মাণাধীন স্থাপনার তিনটি খুঁটি ও পাইলিং ভেঙে দেয়। তারা চলে যাওয়ার পর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্টেশন মাস্টার রবিউল ইসলাম বলেন, অভিযান শেষে তিনি কক্ষে ফেরার সময় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ‘কৌটো বাবু’ ও তার ২০-৩০ জন সহযোগী স্টেশনে ঢুকে তাকে ও সহকর্মীদের মারধর করে। পরে তার কক্ষের দরজা বন্ধ করে কম্পিউটার, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়।

হামলায় দুই স্টেশন মাস্টার, দুই পয়েন্টসম্যান, বুকিং সহকারী ও এক পোর্টার আহত হন বলে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ঘটনার পর রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় সদর দফতরের নির্দেশে স্টেশনটি ‘ক্লোজড ডাউন’ ঘোষণা করা হয়। এতে টিকিট বিক্রি, ট্রেনের ক্রসিংসহ দাফতরিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকে।