জাতির উদ্দেশে ভাষণে তারেক রহমান

আগামীর সরকার হবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ

Printed Edition
আগামীর সরকার হবে  জনগণের কাছে দায়বদ্ধ
আগামীর সরকার হবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতির উদ্দেশে রেডিও-টিভিতে ভাষণ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এতে তিনি বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার রায় পেলে আগামী দিনের সরকার হবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। দেশে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে যতটা কঠোর হওয়া যায় বিএনপি সরকার ইনশা আল্লাহ ততটাই কঠোর হবে। দেশে পুনরায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশা আল্লাহ। দেশবাসীর কাছে এটি আমার অঙ্গীকার, বিএনপির অঙ্গীকার।

নির্বাচনকে বাংলাদেশের মালিকানা ফিরে পাওয়ার ‘মাহেন্দ্রক্ষণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি বলেছেন, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করতে বিএনপি বদ্ধপরিকর। নির্বাচিত হলে এক কোটি কর্মসংস্থান, বেকার ভাতা ও প্রতিটি পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তন করা হবে।

গত সন্ধ্যায় দেয়া এ ভাষণে তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গড়ার রূপরেখা তুলে ধরেন।

শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা : বক্তব্যের শুরুতে তারেক রহমান মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় এবং গত দেড় দশকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে শহীদদের মাগফেরাত কামনা করেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে ১৪ শতাধিক মানুষ শহীদ হয়েছেন। আমরা তাদের স্বপ্ন বৃথা যেতে দিতে পারি না। শহীদদের আকাক্সিক্ষত একটি ন্যায়ভিত্তিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য।

এক কোটি কর্মসংস্থান ও বেকার ভাতা : দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে আগামী পাঁচ বছরে দেশে ও বিদেশে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আইটি সেক্টর, ফ্রিল্যান্সিং ও কুটিরশিল্পের বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে। স্নাতক ডিগ্রিধারী শিক্ষিত বেকারদের জন্য চাকরি না হওয়া পর্যন্ত ছয় মাস থেকে এক বছর মেয়াদী ‘বিশেষ আর্থিক ভাতা’ দেয়া হবে।

নারীর ক্ষমতায়ন ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ : তারেক রহমান বলেন, দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারী। তাদের বাদ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমরা প্রতিটি পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ইস্যু করব। নিম্নœ আয়ের পরিবারগুলোকে এ কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা বা সমমূল্যের খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে। এ ছাড়া কর্মজীবী নারীদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার ও যাতায়াতের জন্য বিশেষায়িত ইলেকট্রিক বাস চালু করা হবে।

কৃষক ও শ্রমিকদের জন্য ‘ফার্মার্স কার্ড’ : কৃষকদের স্বার্থরক্ষায় বিএনপি ‘ফার্মার্স কার্ড’ প্রবর্তন করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাঁচলে কৃষক, বাঁচবে দেশ’ - এ নীতিতে আমরা কৃষকদের সরাসরি আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবো। শ্রমের ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর আস্থা’ পুনর্বহাল : ধর্মীয় মূল্যবোধের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবিধানে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ কথাটি অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, যা পরে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এটি পুনরায় সংবিধানে ফিরিয়ে আনা হবে। পাশাপাশি ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে আর্থিক সম্মানী নিশ্চিত করা হবে।

প্রশাসন ও প্রবাসীদের জন্য পরিকল্পনা : প্রশাসনকে দলীয়করণমুক্ত করে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যথাসময়ে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা হবে। এ ছাড়া প্রবাসীদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ প্রবর্তন করা হবে। যার মাধ্যমে বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ ও বিনিয়োগে বিশেষ সুবিধা পাওয়া যাবে।

অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা : বক্তব্যের এক পর্যায়ে তারেক রহমান বিএনপির বিগত দিনের অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটির জন্য দেশবাসীর কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই। দুর্নীতি দমনে বিএনপি সরকার সর্বোচ্চ কঠোর হবে।

ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহ্বান : দেশবাসীকে ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দেয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, তারুণ্যের প্রথম ভোট হোক ধানের শীষের জন্য। আপনারা ধানের শীষের প্রার্থীদের দায়িত্ব নিন, আর আপনাদের দায়িত্ব নেবে বিএনপি সরকার।

বক্তব্যের শেষে তিনি ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিয়ে দেশবাসীর দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন।