ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর চার মাস পার করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আব্দুস সালাম। এই স্বল্প সময়ে নগরের স্থবিরতা কাটানো, জনসেবা নিশ্চিত করা এবং বর্ষার জলাবদ্ধতা নিরসনে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি ডিএসসিসি নগর ভবনের নিজ কার্যালয়ে দৈনিক নয়া দিগন্তকে দেয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি মুখোমুখি হন নাগরিক জীবনের নানা জ্বলন্ত প্রশ্নের। কথা বলেন চ্যালেঞ্জ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং নগরবাসীর দায়িত্ব নিয়ে। সাক্ষাৎকারটির বিস্তারিত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো।
স্থবিরতা ভেঙে সচল করার চ্যালেঞ্জ
নয়া দিগন্ত : আপনার দায়িত্ব গ্রহণের চার মাস পেরিয়ে গেছে। এই সময়ে এসে আপনার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কোনটি মনে হয়েছে?
আব্দুস সালাম : আমি দায়িত্ব নেয়ার আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন প্রায় একটি অচল ও স্থবির প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল। নাগরিক সুযোগ-সুবিধার প্রতিদিনের যে বিষয়গুলো থাকে, সেগুলো যেভাবে সক্রিয় থাকা দরকার ছিল, তা একেবারেই ছিল না। তাই আমার জন্য প্রথম ও প্রধান চ্যালেঞ্জই ছিল এই অচল প্রতিষ্ঠানটিকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং একটি কর্মক্ষম ও সচল সংস্থায় রূপান্তর করা। গত চার মাসে আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি এটিকে একটি গতিশীল কাঠামোতে ফিরিয়ে আনতে। তবে শুধু প্রতিষ্ঠানের সচলতাই যথেষ্ট নয়; এখানে জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। জনগণ যদি সচেতন না হয়, তবে প্রতিষ্ঠানের শত চেষ্টা সত্ত্বেও কোনো স্থায়ী সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। অতীতে এক দিকে যেমন জনগণের অসচেতনতা ছিল, অন্য দিকে প্রতিষ্ঠানও তার দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করেনি। ফলে পুঞ্জীভূত হয়েছে বহু জটিলতা। বর্তমানে আমরা এই জটিলতাগুলো একে একে চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করছি এবং পাশাপাশি নগরবাসীকে সচেতন করার প্রক্রিয়াও চালিয়ে যাচ্ছি।
জলাবদ্ধতা ও নোংরা পানি সমস্যা
নয়া দিগন্ত : সম্প্রতি রাজধানী যে ভারী বৃষ্টির সম্মুখীন হলো, তাতে ঢাকার একটা বড় অংশ ডুবে গিয়েছিল। যদিও পরে তুলনামূলক দ্রুত সময়ে পানি নিষ্কাশন হয়েছে; কিন্তু অনেক এলাকায় ম্যানহোল দিয়ে নোংরা পানি উপচে পড়তে দেখা গেছে। এই সঙ্কটে আপনাদের পদক্ষেপ কী?
আব্দুস সালাম : দেখুন, যখন অতিরিক্ত মাত্রায় বা রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়, তখন কিছুটা পানি জমা স্বাভাবিক। আমাদের প্রধান সমস্যা হলো, ঢাকায় পানি প্রাকৃতিকভাবে নিষ্কাশনের জন্য এখন আর পর্যাপ্ত খাল অবশিষ্ট নেই। ফলে পুরো বিষয়টি কৃত্রিম ড্রেনেজ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে; কিন্তু বিদ্যমান ড্রেনগুলো এত বিপুল পরিমাণ বৃষ্টির পানি একসাথে সরানোর অনুপোযুক্ত। আগে ভারী বৃষ্টি হলে যেখানে দিনের পর দিন পানি জমে থাকত, এখন আমি দায়িত্ব নেয়ার পর বিশেষ তৎপরতার মাধ্যমে সেই সময়টা কয়েক ঘণ্টায় নামিয়ে এনেছি। আমরা ভারী পাম্প ব্যবহার করে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করছি। তবে পাম্প দিয়ে পানি সরানো কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। স্থায়ী সমাধানের জন্য এই বৃষ্টির পানিকে বুড়িগঙ্গা কিংবা শীতলক্ষ্যা নদীতে নিয়ে যেতে হবে। দুর্ভাগ্যবশত, নদী পর্যন্ত পানি পৌঁছানোর যে সুনির্দিষ্ট পথ বা চ্যানেলগুলো থাকা দরকার, তা বেদখল বা নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা এখন সেই অবরুদ্ধ পথগুলো উদ্ধার ও নতুন ড্রেনেজ রুট তৈরি করার জন্য কাজ করছি। আর ম্যানহোল দিয়ে পানি উপচে পড়ার কারণ হলো জমে থাকা পানির সাথে নাগরিক বর্জ্য বা ময়লা যখন ড্রেনে গিয়ে আটকে যায়, তখন পানির চাপে সেই নোংরা ময়লা-আবর্জনা উপরে চলে আসে। ফলে রাস্তার পানিও দূষিত দেখায়। আমরা ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কারের ব্যবস্থা করছি, যাতে এই সমস্যা দ্রুত কমে আসে।
রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির ভোগান্তি ও সমন্বয়হীনতা
নয়া দিগন্ত : ঢাকার অন্যতম বড় ভোগান্তি হলো বিভিন্ন সেবাদানকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব। দেখা যায় একটি রাস্তা ঢাকা ওয়াসা কাটছে, তো কিছুদিন পর বিদ্যুৎ বিভাগ বা তিতাস গ্যাস আবার খুঁড়ছে। এই সমন্বয়হীনতা এবং দীর্ঘসূত্রিতার কারণে জনগণের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। এ বিষয়ে আপনারা কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন?
আব্দুস সালাম : আপনার এই অভিযোগটি শতভাগ সত্য। অতীতে সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে চরম সমন্বয়হীনতা ছিল এবং আমি বলব না যে তা এখনই সম্পূর্ণ দূর হয়ে গেছে। তবে পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে। বর্তমানে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এই নাগরিক ভোগান্তি লাঘবে অত্যন্ত সচেষ্ট। তিনি প্রতি ১৫ দিন পর পর আমাদের অর্থাৎ ঢাকার সিটি করপোরেশন এবং নাগরিক সেবার সাথে জড়িত সব সংস্থাকে (ওয়াসা, ডিপিডিসি, তিতাস ইত্যাদি) নিয়ে একসাথে বসেন। আমরা বিভিন্ন সংস্থাকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছি যে, সমন্বয়হীনতার কারণে দুই-তিন মাসের কাজ যেন এক-দুই বছর ধরে ঝুলে না থাকে। আমরা এখন একটি নিয়মের মধ্যে আসছি যে কোনো সংস্থা রাস্তার একটি নির্দিষ্ট অংশ কাটবে, সেখানে তাদের কাজ শেষ হলে রাস্তাটি দ্রুত মেরামত বা সংস্কার করে দেবে। এরপর তারা পরবর্তী অংশে হাত দেবে। পুরো রাস্তা একসাথে বন্ধ করে বা দীর্ঘদিন ফেলে রেখে জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করা আর বরদাশত করা হবে না।
যানজট, হকার উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন নীতিমালা
নয়া দিগন্ত : ঢাকার প্রধান সমস্যাগুলোর একটি হলো তীব্র যানজট। অনেকসময় দেখা যায় চার লেনের একটি সড়কের তিন লেনই হকারদের দখলে, অবৈধ পার্কিং বা রিকশার দখলে থাকে, ফলে মাত্র এক লেনে গাড়ি চলে। এই যানজট নিরসনে আপনাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা কী?
আব্দুস সালাম : দায়িত্ব নেয়ার পরপরই আমরা রাস্তা এবং ফুটপাথ হকারমুক্ত করার জন্য বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছিলাম এবং সফলও হয়েছিলাম। তবে আমাদের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত মানবিক। তিনি মনে করেন, এই হকারদের উচ্ছেদ করার পাশাপাশি তাদের জীবিকার জন্য একটি বিকল্প ব্যবস্থাও করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যে আমরা কিছু সুনির্দিষ্ট জায়গা নির্বাচন করেছি। পুলিশ বর্তমানে প্রকৃত হকারদের একটি তালিকা তৈরি করছে। তালিকা সম্পন্ন হলে আমরা তাদের জন্য নির্ধারিত স্থান বরাদ্দ দেবো। তবে এটি করার জন্য আমাদের মন্ত্রণালয়ের একটি চূড়ান্ত রেজুলেশন বা নীতিমালার প্রয়োজন। হকাররা ঠিক কোথায় বসবে, তাদের দৈনিক বা মাসিক ফি কত হবে, বসার সময়সূচি কী হবে এই সবকিছুর একটি সমন্বিত নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। এই নীতিমালা চূড়ান্ত হলেই আমরা হকার ও পার্কিং ব্যবস্থাপনাকে একটি সুশৃঙ্খল সিস্টেমের মধ্যে নিয়ে আসতে পারব। এ ছাড়া পরিবহন মালিকদেরও আমরা একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলাম, আশা করছি খুব দ্রুতই এই বিশৃঙ্খলা কমে আসবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রস্তুতি
নয়া দিগন্ত : জুলাই এবং আগস্ট এই দুই মাস জুড়েই ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ রূপ নেয়। বিগত বছরগুলোর তিক্ত অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এ বছর আপনাদের প্রস্তুতি কেমন?
আব্দুস সালাম : এ বছর ডেঙ্গুর মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই আমরা পুরো ঢাকা শহরে একটি বৈজ্ঞানিক জরিপ চালিয়েছিলাম, যার ফলাফল গণমাধ্যমেও প্রকাশ করা হয়েছে। অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, জরিপে দেখা গেছে ঢাকার প্রায় ৬০ শতাংশ বাসাবাড়িতে বা তার আশপাশে পানি জমে থাকে এবং সেখানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। আমরা মশক নিধন কর্মী ও ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম জোরদার করেছি ঠিকই, তবে ডেঙ্গু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা তখনই সম্ভব হবে যখন জনগণ সচেতন হবেন। প্রতিটি পরিবারকে নিশ্চিত করতে হবে যেন তাদের ঘরে, ছাদে, ফ্রিজের ট্রে-তে, কিংবা ফুলের টবে তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে। কারণ নাগরিকদের ঘরের ভেতরে বা ব্যক্তিগত সীমানায় আমাদের পরিচ্ছন্নতা কর্মী বা মশক নিধন কর্মীরা গিয়ে পরিষ্কার করতে পারেন না। তাই ঘরের ভেতরের অংশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব নাগরিকদেরই নিতে হবে। আর জনসচেতনতা বাড়াতে আমরা ব্যাপক ক্যাম্পেইন শুরু করেছি। স্কাউট-সহ বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হয়েছে। এমনকি ঢাকা শহরের বিভিন্ন মসজিদের ইমাম সাহেবদের অনুরোধ করেছি, যেন তারা প্রতি জুমার নামাজের খুতবায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সচেতনতামূলক বক্তব্য রাখেন।
কেমিক্যাল কারখানা স্থানান্তর ও পরিবেশ রক্ষা
নয়া দিগন্ত : পুরান ঢাকার আরমানিটোলাসহ বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বহু প্রাণহানি ঘটেছে, যার পেছনে অবৈধ কেমিক্যাল কারখানা ও গুদামগুলোকে দায়ী করা হয়। এগুলো আবাসিক এলাকা থেকে সরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের ভূমিকা কী?
আব্দুস সালাম : আবাসিক এলাকা থেকে কেমিক্যাল কারখানা ও বিপজ্জনক গুদামগুলো সরিয়ে নেয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে কঠোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের জন্য ঢাকার বাইরে বিকল্প সুনির্দিষ্ট জায়গার (বিসিক কেমিক্যাল শিল্পনগরী) ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এখন ব্যবসায়ীদেরও নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা আবাসিক এলাকার কোনো কেমিক্যাল কারখানাকে নতুন করে ট্রেড লাইসেন্স দিচ্ছি না এবং পুরনো লাইসেন্সও নবায়ন করা হচ্ছে না। আবাসিক এলাকায় মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে কোনো ব্যবসা চলতে দেয়া যাবে না। এর পাশাপাশি মনে রাখতে হবে, পুরান ঢাকা একটি ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী কাঠামোর ওপর গড়ে উঠেছে। আমরা চাইলেই সেখানকার প্রাচীন বাড়িঘরের স্ট্রাকচার ভেঙে ফেলতে পারি না বা সরু রাস্তাগুলোকে রাতারাতি মহাসড়ক বানাতে পারি না। তাই যতটুকু সুযোগ আছে, তার মধ্যেই আমরা এলাকাটিকে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক নাগরিক সুবিধাযুক্ত করার চেষ্টা করছি। স্ট্রিট লাইট নিশ্চিত করা, বর্জ্য অপসারণ এবং এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখতে আমরা সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। আমরা ঐতিহ্যবাহী আদি ঢাকার সেই সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর।
সেবার জবাবদিহিতা ও ওয়ান-স্টপ সার্ভিস
নয়া দিগন্ত : সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং ট্যাক্স বা জন্মনিবন্ধনের মতো জরুরি সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ প্রায়ই হয়রানি বা ভোগান্তির অভিযোগ করেন। প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আপনি কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?
আব্দুস সালাম : আমি দায়িত্ব নেয়ার পরই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছি- ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন এবং নাগরিকত্ব সার্টিফিকেটের মতো মৌলিক সেবাগুলোর আবেদন ‘দিনেরটা দিনেই’ নিষ্পত্তি করতে হবে। নাগরিক সেবায় কোনো ধরনের অবহেলা বা ঢিলেমি বরদাশত করা হবে না। কোথাও যদি কোনো নাগরিক হয়রানি বা ঘুষের শিকার হন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলেই আমরা কঠোর তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেব। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো সিটি করপোরেশনের সেবাগুলোকে একটি সম্পূর্ণ ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ বা একক সেবা কেন্দ্রের আওতায় নিয়ে আসা, যাতে জনগণকে টেবিলে টেবিলে ঘুরে ভোগান্তি পোহাতে না হয়।
খাল উদ্ধার, গ্রিন ঢাকা ও বুড়িগঙ্গার দূষণমুক্তি
নয়া দিগন্ত : ঢাকা দক্ষিণের খাল, জলাশয় রক্ষা এবং শহরকে সবুজ ও বাসযোগ্য করার বিষয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
আব্দুস সালাম : খালগুলোর বর্তমান জরাজীর্ণ অবস্থা আমি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। বর্তমানে আমরা বর্ষার মধ্যেও খালগুলো সচল রাখতে উপরিস্থিত ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করছি। তবে শুধু উপরের ময়লা পরিষ্কার করলে হবে না, খালের নাব্যতা ফেরাতে গভীর খনন (ড্রেজিং) প্রয়োজন। যেহেতু এখন বর্ষাকাল চলছে, তাই এই মুহূর্তে ড্রেজিং করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্ষা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই আমরা খালগুলো খননের বড় প্রকল্প হাতে নেব।
এ ছাড়া একটি পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও ‘গ্রিন ঢাকা’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা এই মৌসুমে ঢাকা দক্ষিণে প্রায় পঁচ থেকে সাত লাখ গাছ লাগানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। তবে শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলো যেন বেঁচে থাকে তার জন্য পরিচর্যা ও সুরক্ষার ব্যবস্থা প্রয়োজন। এর পাশাপাশি আমরা বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ গৃহস্থদের উদ্বুদ্ধ করছি যেন তারা তাদের নিজস্ব আঙিনায় এবং বাড়ির ছাদে বাগান বা বৃক্ষ রোপণ করেন।
আর বুড়িগঙ্গার দূষণ প্রসঙ্গে বলব, ঢাকার গৃহস্থালি ও শিল্পবর্জ্যরে কারণেই বুড়িগঙ্গা আজ মৃতপ্রায়। দূষণ রোধে সরকারের সিদ্ধান্তে ইতোমধ্যে হাজারীবাগের চামড়াশিল্পকে সাভারে স্থানান্তর করা হয়েছে, যার ফলে নদীর পানির গুণগত মানে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তবে বুড়িগঙ্গার আশপাশে এখনো যে ছোট-বড় মিল-কারখানা ও ডাইং ফ্যাক্টরি রয়েছে, সেগুলোর রাসায়নিক ও বিষাক্ত বর্জ্য যাতে কোনোভাবেই নদীতে না পড়তে পারে, সে জন্য আমরা পরিবেশ অধিদফতরকে সাথে নিয়ে কঠোর আইনি ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।
নগরবাসীর প্রতি প্রশাসকের মূল বার্তা
নয়া দিগন্ত : প্রশাসক হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নাগরিকদের উদ্দেশে আপনার বিশেষ কোনো বার্তা বা আহ্বান আছে কি?
আব্দুস সালাম : ঢাকার সর্বস্তরের জনগণের উদ্দেশে আমার বার্তা অত্যন্ত পরিষ্কার এবং সহজ- এই শহরটি আপনার, এই শহরটি আমার, এই শহরটি আমাদের সবার। একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে হলে সবার আগে আমাদের নিজেদের মানসিকতা বদলাতে হবে। যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধ করা, আইন মেনে চলা এবং নাগরিক দায়িত্ব পালন করা আমাদের প্রত্যেকের কর্তব্য। ‘আমি নিজে বদলালেই, আমার ঢাকা শহর বদলে যাবে’ এই প্রতিজ্ঞা যদি আমরা প্রত্যেকে হৃদয়ে ধারণ করতে পারি, তবেই ঢাকাকে একটি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
নয়া দিগন্ত : আপনার মূল্যবান সময় দেয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
আব্দুস সালাম : দৈনিক নয়া দিগন্ত এবং এর পাঠকদেরও আন্তরিক ধন্যবাদ।



