ব্যবসায়ীদের চাঁদাবাজির শিকার হতে দেবেন না এনায়েতউল্লাহ

খালিদ সাইফুল্লাহ
Printed Edition
ব্যবসায়ীদের চাঁদাবাজির শিকার হতে দেবেন না এনায়েতউল্লাহ
ব্যবসায়ীদের চাঁদাবাজির শিকার হতে দেবেন না এনায়েতউল্লাহ

আমি নির্বাচিত হলে এলাকার ব্যবসায়ীসহ কাউকে চাঁদাবাজির শিকার হতে দেবো না। তাদেরকে আমরা কঠোর হস্তে দমন করব। সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা এখানে শান্তিতে বসবাস ও ব্যবসা করতে পারবেন। নয়া দিগন্তের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে ঢাকা-৭ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী জামায়াত নেতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী এনায়েত উল্লাহ এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আমার এলাকা হলো বাণিজ্যিক এলাকা। এখানে প্রতিটি মার্কেট থেকে একটি গোষ্ঠী প্রতিনিয়ত চাঁদা আদায় করে। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণীর মানুষ চাঁদাবাজদের হাত থেকে মুক্তি চায়। এজন্য তাদের নির্মূলে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নেবো। সাক্ষাৎকারটি নিচে তুলে ধরা হলো :

নয়া দিগন্ত : চাঁদাবাজি নির্মূলে কী ধরনের পদক্ষেপ নেবেন?

হাজী এনায়েত উল্লাহ : জামায়াত ক্ষমতায় এলে অপরাধীরা ভয় পাবে। তখন অনেক অপরাধ এমনিই কমে আসবে। অনিয়ম-সিন্ডিকেট বন্ধ হয়ে যাবে। চাঁদাবাজিও কমে যাবে। এ ছাড়া ওয়ার্ডভিত্তিক গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সামাজিক উন্নয়নমূলক কমিটি গঠন করা হবে। তাদের সাথে নিয়ে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

নয়া দিগন্ত : আপনার এলাকায় আর কী কী সমস্যা রয়েছে?

হাজী এনায়েত উল্লাহ : এলাকায় যানজট একটি অন্যতম সমস্যা। এটি একটি বাণিজ্যিক এলাকা। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই এলাকা দিয়ে চলাচল করে ও ক্রয়-বিক্রয় করতে আসে। কিন্তু এখানে কোনো ট্রাফিক পুলিশ দেয়া হয় না। এটা এক ধরনের বৈষম্য। সরকারের এ বিষয়ে দৃষ্টি দেয়া উচিত। এ ছাড়া মাদকের বিস্তার, সরকারি হাসপাতাল না থাকা, যুবকদের খেলার পরিবেশ না থাকা, গ্যাসের সঙ্কটসহ নানাবিধ সমস্যা রয়েছে এখানে। গ্যাসলাইন বন্ধ রেখে সিলিন্ডারের রমরমা ব্যবসা চলছে। সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা খেয়ে এটা করা হচ্ছে। পাইপলাইনে কোনো সমস্যা থাকলে সেটা ঠিক করা উচিত, পাইপের আকার বাড়ানো উচিত। জয়ী হতে পারলে যানজট ও গ্যাসের সঙ্কট নিরসনে আমি অগ্রাধিকার দিয়ে ব্যবস্থা নেবো। মাদকের বিস্তার রোধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

নয়া দিগন্ত : এলাকার পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য আপনার পরিকল্পনা কী?

হাজী এনায়েত উল্লাহ : আমরা দীর্ঘদিন থেকেই ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের মাধ্যমে জনগণের সেবা দিয়ে আসছি। এখানে কোনো সরকারি হাসপাতাল নেই। একটি সরকারি হাসপাতাল করার উদ্যোগ নেবো। এছাড়া একটি কল্যাণ ফান্ড গঠন করা হবে। এ ফান্ড থেকে অসহায়, গরিব বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি, বিধবা, কন্যা দায়গ্রস্ত পরিবার ও গরিব মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের সহযোগিতা করা হবে।

নয়া দিগন্ত : সম্প্রতি আপনার সমাবেশ এলাকা থেকে অস্ত্রসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছিল। এখন পরিস্থিতি কেমন? নিরাপদে প্রচারের কাজ করতে পারছেন কি না?

হাজী এনায়েত উল্লাহ : সরকার গানম্যান দিয়েছে। এ ছাড়া নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। তবে আমরা সন্ত্রাসীদের কাছে মাথা নত করতে পারি না। জামায়াত একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন করতে চায়। জনগণের বন্ধু হতে চায়। আমাদের প্রচেষ্টা আমরা চালিয়ে যাবো। প্রতিদিনই নির্বাচনী গণসংযোগে যাচ্ছি। মানুষেরও ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ আমাদেরকে এর উত্তম প্রতিদান দেবেন।

নয়া দিগন্ত : আপনার বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু?

হাজী এনায়েত উল্লাহ : এই এলাকায় আমার জন্ম ও পড়াশোনা। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছি। এ এলাকার মানুষের সাথে আমার দীর্ঘদিনের গভীর সম্পর্ক। যেখানেই যাচ্ছি সেখানেই ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। আশা করি আমরা বিজয়ী হবো ইনশাআল্লাহ। এ ছাড়া গত দেড় বছরে বিএনপি যেভাবে চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেছে তাতে দেশের মানুষ তাদের প্রতি অতিষ্ঠ। এ জন্য দেশজুড়েই জামায়াত বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করার প্রত্যাশা করছে।

নয়া দিগন্ত : নির্বাচনে প্রশাসনের ভূমিকা কী ধরনের প্রত্যাশা করেন?

হাজী এনায়েত উল্লাহ : প্রশাসনে কিছু পরিবর্তন হলেও আগের অনেকে রয়ে গেছেন। তারা কী করবেন এখনো জানি না। তবে এবার আগের মতো রাতের ভোট করতে কেউ সাহস করবে বলে মনে হয় না। আর করলেও এবার তারা পার পাবে না। কারণ জনগণ এখন অনেক সচেতন। প্রশাসনের প্রতিও আহবান থাকবে তাদের ওপর যে কলঙ্ক লেগে গেছে তারা যেন এবার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে সেটি মুছে ফেলার চেষ্টা করে।

সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত : হাফেজ হাজী মো: এনায়েত উল্লাহ ১৯৫৬ সালে নবারপুরের পৈতৃক বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। পারজোয়ার কালিন্দি উচ্চবিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে তিনি কেরানীগঞ্জের একটি মাদরাসায় হাফেজি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি কওমি মাদরাসায় উচ্চশিক্ষা অর্জন করেন। তিনি প্রায় ৫০ বছর ধরে রাজধানীর মৌলভীবাজার মসলা ও ড্রাই ফ্রুটসের আমদানি ও পাইকারি বাণিজ্য করে আসছেন। বর্তমানে তার একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিনি মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির চারবার নির্বাচিত সভাপতি এবং পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। বর্তমানেও তিনি এই সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তিনি আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের একজন উদ্যোক্তা পরিচালক। ২০২৩-২৫ সালে তিনি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর পরিচালক পদে নির্বাচন করে সর্বোচ্চ ভোট পান। ধর্মীয় ও সামাজিক বিভিন্ন সংগঠনের সাথেও তিনি যুক্ত রয়েছেন।