বান্দরবানে হামে এক সপ্তাহে ৬ শিশুর মৃত্যু

Printed Edition

বান্দরবান প্রতিনিধি

বান্দরবানে বন্যার প্রভাব কাটতে না কাটতেই দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক সপ্তাহে হামে আক্রান্ত হয়ে একই পরিবারের দুই শিশুসহ ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলার বিভিন্ন পাড়ায় শতাধিক শিশু আক্রান্ত হয়েছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে। গত বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বান্দরবান সদর হাসপাতালের হামের ওয়ার্ডে ২০ জন রোগী ভর্তি ছিলেন।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় বুধবার সকালে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে জরুরি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আক্রান্ত এলাকায় মেডিক্যাল টিম গঠন, বিকল অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত মেরামত এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে টিকা নিয়ে বিদ্যমান কুসংস্কার দূর করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভায় সংরতি নারী আসনের সংসদ সদস্য মাধবী মারমা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই, জেলা প্রশাসক মো: সানিউল ফেরদৌস, সিভিল সার্জন ডা: শাহীন হোসেন চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে তারা সদর হাসপাতালের হামের ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন। পরে সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এবং সেনাবাহিনীর বান্দরবান সদর জোনের একটি দলও হাসপাতাল পরিদর্শন করে রোগীদের প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেয়। জেলা প্রশাসনের প থেকে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে একটি অ্যাম্বুলেন্স প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা বিএনপির নেত্রী উম্মে কুলসুমা লীনা, মারমা স্টুডেন্ট কাউন্সিলসহ বিভিন্ন সংগঠন রোগীদের সহায়তা প্রদান করেছে।

বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা: শাহীন হোসেন চৌধুরী বলেন, দুর্গম এলাকায় সচেতনতার অভাব, টিকা নিয়ে কুসংস্কার এবং যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। আক্রান্ত এলাকায় টিকাদানকার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং একাধিক মেডিক্যাল টিম পাঠিয়ে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।