চরফ্যাসন (ভোলা) সংবাদদাতা
ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার হাজারো বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি গুলোরবিরুদ্ধে। এ ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল ঠিক করার জন্য প্রতিদিন হাজার গ্রাহক আসেন চরফ্যাসন উপজেলায় অবস্থিত পল্লী বিদ্যুৎ ও বিদ্যু কোম্পানির অফিস ওজোপাডিকো অফিসে ভিড় জমালেও তাদের বিদ্যুৎ বিল সংশোধন না করে ওই ভুতুড়ে বিলই পরিশোধ করার জন্য নির্দেশ দেন অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ।
তৈয়বুর রহমান নামের এক ভুক্তভোগীর বিলে দেখা যায় তিনি চলতি মাসে ২২০ ইউনিট বিদ্যুৎ বিল ব্যবহার করেছেন মর্মে তার বিল আসছে এক হাজার ৯৩১ টাকা। অথচ বাস্তবে তিনি ব্যবহার করেছেন মাত্র ৮৬ ইউনিট। সর্বোচ্চ ইউনিট খরচ ৮ টাকা ৫০ পয়সা হলে তার বিদ্যুৎ বিল আসার কথা ছিল এক হাজার ৬৩৯টাকা। এ ছাড়া ৮৬ ইউনিটের পরিবর্তে ২২০ ইউনিট কেন হলো, সেই জবাবও জানেন না বিদ্যুৎ বিভাগে কর্মরত বিলিং সহকারীরা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিল ও মিটারের রিডিং যাচাই করে দেখা যায় যে, পিডিবি কোম্পানির নির্দেশাবলিতে প্রতি ইউনিট ৭.২০ টাকা উল্লেখ থাকলেও অভিযোগকারীদের বিলে প্রতি ইউনিট ৮.৫০ টাকা হিসাব করা হয়েছে। এতে প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ৩০ পয়সা করে বেশি বিল করা হয়েছে। ‘সমন্বয়’ নামে অতিরিক্ত ১২২ টাকা, ডিমান্ড চার্জ নামে ৮৪ টাকা এবং ভ্যাট ৮৬ টাকা নেয়া হয়েছে। বিল তৈরির সময় মিটার রিডিং ও বিলিং পদ্ধতিতে কোনো অসঙ্গতি হয়েছে কি না, এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে কর্মরত বিলিং সহকারী কবির হোসেন জানান, মাঠ পর্যায় থেকে যে রিপোর্ট দেয়া হয় সে রিপোর্ট মোতাবেক বিল তৈরি করি।
চরফ্যাসন পৌর শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করেন ওজোপাডিকো। এ কার্যালয়ের আবাসিক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, বিভিন্ন জায়গা থেকে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ আসছে। আমি মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। তদন্তসাপেক্ষে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।



