দেড় কোটি টাকা আত্মসাত উপজেলার অপারেটরের

Printed Edition

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের রাজনগর ও বড়লেখা উপজেলায় সরকারি তহবিল থেকে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে এক কোটি ৭২ লাখ ৫১ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা পরিষদের সাঁট-মুদ্রারিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর (সিএ) অনুপ চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন তহবিল থেকে কৌশলে সরকারি অর্থ তুলে ব্যক্তিগত সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে তিনি গা-ঢাকা দিয়েছেন।

জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার বিভাগের তদন্তে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে রাজনগর উপজেলায় হাটবাজার, রাজস্ব ও উন্নয়ন- এই তিন তহবিল থেকে মোট এক কোটি ৫০ লাখ ৫১ হাজার ৪৫৫ টাকা এবং বড়লেখায় মাত্র দুই মাসে ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন অনুপ দাস।

তদন্ত সূত্র জানায়, চেক প্রস্তুতের সময় টাকার অঙ্কের ঘর ইচ্ছাকৃতভাবে ফাঁকা রাখতেন অনুপ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) স্বাক্ষর নেয়ার পর তিনি সেই ফাঁকা স্থানে অতিরিক্ত অঙ্ক বসিয়ে চেকের পরিমাণ কয়েকগুণ বাড়িয়ে নিতেন। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হলেও বিষয়টি কারো নজরে আসেনি।

গত ২৮ অক্টোবর সাবেক জেলা প্রশাসক ইসরাইল হোসেন রাজনগরে পরিদর্শনকালে হিসাব-নিকাশে গুরুতর অসঙ্গতি দেখতে পান। ক্যাশবই ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট যাচাই করে জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়। পরে জেলা প্রশাসন ও দুদক যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। এ ঘটনায় বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব হোসেন জানান, অভিযোগ জানার পর অনুপকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আত্মসাৎ করা অর্থের অংশ হিসেবে অনুপের স্ত্রী ২২ লাখ টাকা ফেরত জমা দিয়েছেন বলেও তিনি নিশ্চিত করেন। তিনি আরো বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

রাজনগর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ-জোহুরা বলেন, অনুপ বর্তমানে বড়লেখায় কর্মরত থাকায় আইনি ব্যবস্থা নেয়া দায়িত্ব ওই উপজেলা প্রশাসনের।

জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল জানান, অনুপ দাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ইউএনওদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্তে আর কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।