এনইসি সভা শেষে পরিকল্পনা উপদেষ্টা

দায়িত্বজ্ঞানহীন নয়, আগামী বাজেট শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের

টাকা ছাপিয়ে বাজেট বাস্তবায়ন করব না

Printed Edition
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ সভায় সভাপতিত্ব করেন : পিআইডি
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ সভায় সভাপতিত্ব করেন : পিআইডি

বিশেষ সংবাদদাতা

আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য যে বাজেট আসছে, এটা শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের বাজেট। এবারের বাজেট দায়িত্বজ্ঞানহীন বাজেট নয়। বাজেট ছোট হলেও বাস্তবসম্মত ও বাস্তবায়নযোগ্য হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, টাকা ছাপিয়ে বাজেট বাস্তবায়ন করব না। এর প্রভাব সাথে সাথে না পড়লেও কিছুদিন পরে তা মূল্যস্ফীতির উপর পড়ে। বেতন বৃদ্ধি করলেও মূল্যস্ফীতির উপর প্রভাব পড়ে। এবার দায়িত্বজ্ঞানহীন বাজেট হচ্ছে না। তিনি বলেন, কিছু প্রকল্প আছে তা গিলতেও পারি না ফেলতেও পারি না। সুপরিকল্পিত প্রকল্প নয় এগুলো।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে গতকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভা শেষে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, বাজেট ব্যবস্থাপনা টেকসই করা হলো আমাদের মূল লক্ষ্য। এই বাজেটে আমাদের রাজস্ব বৃদ্ধির চেষ্টা থাকবে। একই সাথে জিডিপি ৪ শতাংশের নিচে রাখার চেষ্টাও আমরা করছি। তিনি বলেন, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে এমন প্রকল্প নেয়া হবে না। তবে দীর্ঘমেয়াদি ঋণে মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প হচ্ছে। এই প্রকল্পে জাপান স্বল্প সুদে ঋণ দিচ্ছে। তিনি বলেন, বাজেট ব্যবস্থাপনা টেকসই করা হবে। বাজেটের নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলা ফেরানো হবে।

ড. ওয়াহিদ উদ্দিন বলেন, গতবারের তুলনায় আগামী বাজেট ছোট হলেও কার্যকরী হবে। বাজেট বাস্তবসম্মত করছি, ছোট নয়। আমরা আশা করব সবকিছু দ্রুত বাস্তবায়ন করব। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়নি। তবে অবকাঠামো তৈরি হয়েছে। কিন্তু কোথাও ডাক্তার নেই। স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে পরিচালন ব্যয় মেটানো হবে। উন্নয়ন বাজেটে এই খাতে নজর দেয়া হবে। স্কুলের সমস্যা, বাচ্চাদের স্কুলে অনেক সমস্যা হচ্ছে।

চলমান কিছু প্রকল্পের সমালোচনা করে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, এডিপিতে যত প্রকল্প আছে সবই চলমান প্রকল্প। কিছু আছে যা ধুঁকে ধুঁকে খোঁড়াচ্ছে। অত্যাধিক প্রকল্পের বিড়ম্বনা দেখা দিচ্ছে। তিনি বলেন, কর্ণফুলী টানেল দিয়ে কোথায় যাবো জানি না। এটা কেন বানানো হলো? টানেল পার হয়েই ধু-ধু মরুভূমি। এটা প্রকল্প না, শুধু রিসোর্টে যাওয়ার জন্যই এই প্রকল্প।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি প্রকল্প ৩ হাজার কোটি টাকায় বাস্তবায়ন করা হলো। অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। প্রকল্পের কাজ ৫৮ শতাংশ শেষ। তবে বাকি কাজ বাস্তবায়ন করতে আরো ৩ হাজার কোটি টাকা লাগবে। তিনি বলেন, নিজের বাড়ির লিফট নষ্ট হয়, ঠিক করা হয় না। সুতরাং এই প্রকল্পের লিফট কিভাবে ঠিক হবে? বাসগুলো কেনা হয়নি। কোরিয়া থেকে আনা হবে। বাসগুলো স্পেশাল অর্ডার দিয়ে আনতে আরো ৩ হাজার কোটি টাকা লাগবে। সামনে ঈদ আছে, র‌্যাপিড বাস ট্রানজিট ভুলে যান। সবকিছু খুলে দেন যাতে এই রুটে ঈদে জটলা তৈরি না হয়।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি অবসর কল্যাণ ভাতা ৫ থেকে ৬ বছরের বকেয়া আছে, এগুলো মেটানো হবে। সেজন্য আসছে বাজেটে পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, আমি যতদিন শিক্ষা উপদেষ্টা ছিলাম, প্রতিদিন আন্দোলনকারী নেতাদের সাথে বৈঠক করেছি। কিছু দাবি-দাওয়ার কথা শুনেছি। সবাই বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। আশা করব সবকিছু দ্রুত বাস্তবায়ন করব।

উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিন বলেন, শিক্ষাখাতে উন্নয়ন বাজেটে নজর দেয়া হবে। স্কুলের সমস্যা আছে, বাচ্চাদের স্কুলে অনেক সমস্যা হচ্ছে। আমরা পরিচালন ব্যয় বাজেটে বেশি রাখবো, শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে। এবারের বাজেট জনগণের কল্যাণের বাজেট হবে।