ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ের পর সরকার গঠন করে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসহযোগী সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর কাজ শুরু করেছে বিএনপি। এরই মধ্যে যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় এবং ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এবার শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন এনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি করতে চায় বিএনপির হাইকমান্ড। দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, নতুন কমিটি গঠনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহে অথবা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা হতে পারে।
জানা গেছে, স্বেচ্ছাসেবক দলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয় ২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর। সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটির মেয়াদ তিন বছর। গত বছরের সেপ্টেম্বরেই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী সংসদ সদস্য এবং সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান সংসদ সদস্য এবং প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। তারা ব্যস্ত থাকায় সাংগঠনিক কাজে কার্যত স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, নতুন কমিটি গঠনের প্রস্তুতি অনেক দূর এগিয়েছে। কমিটি গঠনের সাথে জড়িত একাধিক নেতা দৈনিক নয়া দিগন্তকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, কমিটি গঠনকার্যক্রম প্রায় চূড়ান্ত। চলতি সপ্তাহে বা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি ঘোষণা করা হবে।
তারা আরো জানান, সভাপতি হিসেবে বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসিন আলী অথবা সাংগঠনিক সম্পাদক মো: নাজমুল হাসান, এই দু’জনের যে কোনো একজন নিশ্চিত থাকবেন। এ ক্ষেত্রে সভাপতি হিসেবে নাজমুল হাসানকে এগিয়ে রাখছেন তারা। যদি ইয়াসিন আলীকে সভাপতি করা হয় তাহলে নাজমুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করা হতে পারে। অন্য দিকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলোচনায় রয়েছে স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক
ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণের নাম। এ ছাড়াও সম্ভাব্য নেতৃত্ব হিসেবে আলোচনায় রয়েছে বর্তমান কমিটির সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, ডা: জাহেদুল কবির জাহিদ, যুগ্ম সম্পাদক কাজী মোক্তার হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম নোমান, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সাদরাজ জামান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, নূরুল হুদা বাবু, আব্দুর রহিম হাওলাদার সেতু, দফতর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইয়াছিন আলী বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে নানাভাবে হামলা-মামলা ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। শেখ হাসিনার রোষানলে পড়ে তিনি ২১০ মামলায় সাড়ে তিন বছর কারাবন্দী ছিলেন। নাজমুল হাসান এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজিব হল শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দফতর ও সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বেশ কয়েকবার গ্রেফতার ও নির্যাতনের শিকার হয়ে মাসের পর মাস জেলও খেটেছেন। ফখরুল ইসলাম রবিন এর আগে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের ৮০টি মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে কয়েকবার গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছেন। তিনি ৯ দিন গুম ছিলেন। এর বাইরে জহির উদ্দিন তুহিন, নজরুল ইসলাম, কাজী মোখতার হোসাইন, নূরুল হুদা বাবু, আব্দুর রহিম হাওলাদার সেতু, আব্দুল্লাহ আল মামুন, রফিকুল ইসলাম রফিক, ফজলুর রহমান খোকন, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণসহ অনেকে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তাদের সবাই নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। অসংখ্য মামলার আসামি ছিলেন। মাসের পর মাস কারাভোগ করেছেন।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম নোমান বলেন, দুই-চার বছর রাজনীতি করে মাঝপথে সংগঠন ছেড়ে আবার ফিরে আসা ব্যক্তিদের নয়, বরং যারা দীর্ঘদিন সংগঠনের আদর্শ ও শৃঙ্খলা মেনে রাজপথে সক্রিয় থেকেছেন, জেল-জুলুম সহ্য করেছেন এবং দলের দুঃসময়ে পাশে থেকেছেন- তাদেরই নতুন কমিটিতে মূল্যায়ন করা উচিত।
স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: নাজমুল হাসান বলেন, দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে আছি। বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন নতুন কমিটিতে হবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী বলেন, নতুন কমিটি করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি সবাইকে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল। এখানে মূল দল ও এর অঙ্গদলের কমিটি গঠন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, আন্দোলন সংগ্রামে যারা রাজপথে ছিলেন, যারা ত্যাগী ও পরীক্ষিত, দলই তাদেরই মূল্যায়ন করবে।



