মো: ফখরুল ইসলাম সাগর দেবিদ্বার (কুমিল্লা)
একসময় কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে পাটের আবাদ ছিল চোখে পড়ার মতো। দেশের প্রধান অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিত ‘সোনালি আঁশ’ এখন এ উপজেলায় ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। পাটের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং পাট পচানোর জন্য সময়মতো খাল-বিল ও ডোবায় পানি না থাকায় কৃষকরা এ ফসলের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। বর্তমানে উপজেলার কিছু এলাকায় তোষা পাট মূলত সবজি হিসেবেই বিক্রির উদ্দেশ্যে চাষ করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দেবিদ্বারে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০ হেক্টর। তবে দেশী ও তোষা জাতের পাট মিলিয়ে আবাদ হয়েছে ৩৫ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। তবে কোন ইউনিয়নে কত জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, সে বিষয়ে উপজেলা কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছেও নির্দিষ্ট তথ্য নেই।
উপজেলার ইউসুফপুর এলাকার কৃষক মো: বিল্লাল হোসেন বলেন, পাট চাষে শ্রম ও উৎপাদন ব্যয় দুটোই বেশি। এক বিঘা জমিতে বীজ বপন থেকে শুরু করে আঁশ ছাড়িয়ে শুকানো পর্যন্ত প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। সে হিসাবে প্রতি মণ পাটের দাম অন্তত তিন হাজার টাকা হওয়া উচিত। অথচ গত বছর তারা প্রতি মণ পাট বিক্রি করেছেন মাত্র দুই হাজার টাকা থেকে আড়াই হাজার টাকায়।
আরেক কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও সে অনুযায়ী দাম পাওয়া যায় না। আবার জমির আশপাশে ডোবা বা জলাশয় না থাকায় পাট পচাতেও ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাই অনেকেই পাট চাষ থেকে সরে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, এ বছর ২০ শতক জমিতে পাট করেছি। দাম ভালো পেলে আগামী বছর আবাদ বাড়াব, আর লোকসান হলে অন্য ফসলের কথা ভাবতে হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দেবিদ্বারে পাট উন্নয়ন অধিদফতরের একটি কার্যালয় থাকলেও সেটি অধিকাংশ সময়ই কার্যত বন্ধ থাকে। ফলে পাটচাষিরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সেবা থেকে বঞ্চিত হন।
দেবিদ্বার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বানিন রায় বলেন, পাটের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার কারণে কৃষকদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। এ ছাড়া উপজেলার অধিকাংশ কৃষিজমি উঁচু হওয়ায় পাট পচানোর জন্য প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যায় না। অন্য দিকে ধান চাষে তুলনামূলক বেশি লাভ হওয়ায় অনেক কৃষক পাটের পরিবর্তে ধান চাষের দিকে ঝুঁকছেন। তার ভাষ্য, বর্তমানে দেবিদ্বারে সীমিত পরিসরে তোষা পাট মূলত সবজি হিসেবে চাষ করা হচ্ছে। এসব কারণেই এ উপজেলায় পাট চাষ দিন দিন কমে যাচ্ছে।



