ক্রীড়া প্রতিবেদক
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-২০ সিরিজকে সামনে রেখে গতকাল চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলনে আসেন বাংলাদেশ দলের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ। দল নিয়ে বিভিন্ন পর্যালোচনা-পরিকল্পনায় জানালেন সঠিক পথেই আছে বাংলাদেশের ক্রিকেট।
‘সাদা বলের ক্রিকেটকে শক্তিশালী করতে হবে। এটি তরুণদের বিশ্বাস তৈরি করে। সাকলাইন, রিপনের মতো অনেকে আছে নতুন। বেঞ্চ শক্তিশালী করতে হবে আবার ম্যাচও জিততে হবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট আল্লাহর রহমতে ঠিক পথে এগোচ্ছে। টি-২০ বিশ্বকাপ দূরে আছে। এই সময়ে ৫০ ওভারের জন্যও খেলোয়াড় তৈরি করা যাচ্ছে। এখানে ভালো করলে ওয়ানডেও ভালো করবে।’
টি-২০ দলে নতুন মুখ নিয়ে মুশতাকের পর্যালোচনা, ‘আমরা মাত্র সিরিজ জিতেছি, তাই ড্রেসিংরুম খুশি। কোচরা সবসময় চাই, ম্যাচ জেতার সাথে যেন এক শতাংশ হলেও উন্নতি হয়। টি-২০ দলে নতুন কয়েকজন এসেছে। নিজেদের মেলে ধরার জন্য এটা তাদের জন্য দারুণ প্লাটফর্ম। আমরা চাই বেঞ্চ শক্তিশালী হোক। গত ম্যাচে তানভীর খেলেছে, রিশাদ খেলেনি। বিশ্বকাপের আগে আমাদের বেঞ্চ শক্তিশালী হতে হবে। দেশের হয়ে একটি ম্যাচ খেলাও অনেক আত্মবিশ্বাস দেয়।’
উইকেট এবং নাসুম-মেহেদী-রিশাদের ফর্ম নিয়ে বেজায় খুশি স্পিন কোচ, ‘নাসুম ও মেহেদী ব্রিলিয়ান্ট, খুব ভালো করছে। ওয়ানডে সিরিজে মিরাজও ভালো করেছে। স্পিনাররা ভালোই বল করছে। এমনকি পেসাররাও উইকেট এনে দিচ্ছে। চট্টগ্রামের এই পিচে কিছুটা স্পিন ধরতে পারে। এখানে বল ঘোরাতে হবে। রিশাদ শেষ ওয়ানডের একাদশে ছিলেন না, এটা ওর প্রগ্রেসের অংশ। মাঝে মধ্যে বাইরে থেকে মাইন্ড স্ট্রং করতে হবে।’
তিনি যোগ করেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হলো মাইন্ড গেম, গ্রেট টেম্পারমেন্ট থাকতে হবে। স্কিল আপনাকে এতদূর নিয়ে আসবে। তবে টিকে থাকতে হবে স্ট্রং মাইন্ডসেট দিয়ে। ওকে মূলত ড্রপ দেয়া হয়নি। কেউ একাদশে না থাকলেও যেন মানসিকভাবে ইতিবাচক থাকে সে চেষ্টাই হচ্ছে। লেগ স্পিনাররা প্রায়ই খরুচে হতে পারে। আমরা ওর অ্যাকশন নিয়ে কাজ করছি। এতে সে আরো পারফেক্ট হয়ে উঠবে।’
ব্যাটিংয়ের মতো বোলিং পার্টনারশিপও দলের প্রয়োজন উল্লেখ করেন মুশতাক। ‘ব্যাটিং পার্টনারশিপ নিয়ে বলি না আমরা, যেমন শান্ত-লিটনের গত ম্যাচের পার্টনারশিপ। বোলিংয়েও তাই। যেমন মোস্তাফিজ ও রানার পার্টনারশিপ। একইভাবে মিরাজ ও রিশাদ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সেভাবে পার্টনারশিপ করেছে। মিডল ওভারে স্পিনারদের কাজ বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তারা ভালো করলে ম্যাচ জেতার সুযোগ বেড়ে যায়। তারা রানও আটকায়, উইকেটও বের করে। নাসুম মেহেদিরাও ভালো করছে। যে-ই সুযোগ পাবে ভালোভাবে তা কাজে লাগাবে।’
মিরাজের ক্যাপ্টেন্সিতে খুশি পাকিস্তানি এই কোচ, ‘সে মিডল ওভারে উইকেটে এনে দিচ্ছে। গত ম্যাচে ল্যাথামের উইকেট পেয়েছে। মিরাজের কাজ শুধু রান আটকানো না। সে ম্যাজিক বল করবে না, মিস্ট্রি স্পিনার নয় সে। তবে সে উন্নতি করছে। ভেরিয়েশন, পেস থাকতে হবে। এ কারণেই সে উইকেট পাচ্ছে। ক্রিকেট এঙ্গেলের খেলা। তা বুঝতে পারলে আপনি ভালো করবেন।’



