অগোছালো প্রাঙ্গণে এখনো চলছে নির্মাণকাজ

আবুল কালাম
Printed Edition
বইমেলায় শিশু অঙ্গনে পাপেট শো : নয়া দিগন্ত
বইমেলায় শিশু অঙ্গনে পাপেট শো : নয়া দিগন্ত

বইমেলার তৃতীয় দিনে অগোছালো মেলা প্রাঙ্গণে এখনো চলছে স্টলের নির্মাণকাজ। গোটা মাঠজুড়ে এখানে ওখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নির্মাণসামগ্রী। একাধিক স্টলে হাতুড়ি পেরেকের ঠকঠক শব্দে অসমাপ্ত কাজের সমাপ্তির ব্যস্ততার সাথে চলছে রঙ ব্রাশের মাখামাখি আর সাজগোজ। কিছু স্টল তৈরির শেষভাগের কাজে ব্যস্ত নির্মাণকর্মীরা। তবে বেশির ভাগ স্টলের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ায় সেগুলোতে বই বিক্রি শুরু হয়েছে। খাবারের দোকানগুলোর অবস্থাও প্রায় একই। অন্যান্য প্রান্তের খাবারের স্টলের কাজ শেষ হলেও ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের পাশের খাবারের দোকানগুলো এখনো চালু হয়নি।

প্রকাশকরা বলছেন, সব মিলিয়ে পুরো বইমেলার নির্মাণকাজ শেষ করতে আরো কিছু দিন সময় লাগবে। কারণ প্রকাশকদের একাংশের মেলা পেছানোর দাবির কারণে কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে; যার কারণে মেলা শুরু হলেও কাজ এখনো অসমাপ্ত। যা হয়তো পাঠকের জন্য বিরক্তির কারণ হতে পারে।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন মেলা শুরুর তিন দিনে এখনো তেমন পাঠক-দর্শনার্থী নেই। রমজান মাস হওয়ায় অনেকে দিনের বেলা আসতে চাচ্ছেন না। ফলে সব মিলিয়ে বইমেলায় আপাতত লোকসংখ্যা কম।

মেলা ঘুরে দেখা যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অলস সময় পার করছেন। অন্য দিকে প্রবেশপথগুলোতেও ব্যস্ততা নেই। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের পাশের গেটে তেমন কাউকে প্রবেশ করতে দেখা যায়নি। কিছু পুলিশ সদস্য সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে টিএসসির পাশের গেট দিয়ে কিছু দর্শনার্থী প্রবেশ করছেন।

বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্র ছিল একেবারে অগোছালো। এখানে দায়িত্বরত কারো দেখা মেলেনি। বেশির ভাগ স্টলই ছিল ক্রেতাশূন্য। তবে জনপ্রিয় কিছু স্টলের সামনে পাঠক-দর্শনার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চসংলগ্ন গাছতলায় লিটল ম্যাগাজিন চত্বর ও শিশুচত্বরেও তেমন উপস্থিতি দেখা যায়নি।

বিক্রেতারা জানান, মেলায় একাডেমি ও অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নির্ধারিত কমিশনে বই বিক্রি করছে। বাংলা একাডেমির বই ও পত্রপত্রিকা বিক্রির জন্য মেলার দুই অংশেই স্টল রয়েছে।

অন্য দিকে মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে তারাবিহ নামাজের ব্যবস্থাও রয়েছে। সেখানে নামাজের স্থান, ওয়াশরুমসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সেবা অব্যাহত আছে।

গতকাল সকালে শিশুপ্রহরে বইয়ের পাশাপাশি রঙিন বই, খেলনা আর নানা আয়োজনের ভিড়ে শিশুদের বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছিল পুরনো দিনের বিনোদন বায়োস্কোপ। মেলার শিশু কর্নারে কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার এর ছোট্ট একটি বায়োস্কোপ ঘিরে ভিড় করেছিল শিশুরা। এ ছাড়া কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের গল্প পাঠের আসর, ইন্টারেক্টিভ পাপেট শো, পুতুল নাটক-অপু ও দিপুর গল্প এবং বায়োস্কোপ প্রদর্শন শিশুদের জন্য ছিল বাড়তি আনন্দ।

গতকাল মেলা শুরু হয় বেলা ১১টায় এবং রাত ৯টায় শেষ হয়। বেলা ১টা পর্যন্ত ছিল শিশুপ্রহর। সকাল সাড়ে ১০টায় বইমেলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোর সঙ্গীত প্রতিযোগিতার প্রথমিক বাছাই পর্ব। বেলা ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ : আহমদ রফিক শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইসমাইল সাদী। আলোচনায় অংশ নেন মোস্তফা তারিকুল আহসান। এতে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক মনসুর মুসা। বিকেল ৪টায় ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

মেলায় প্রকাশনী ঐতিহ্য নিয়ে এসেছে স্মারকগ্রন্থ ‘আমাদের ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী’। সম্পাদনা জোবায়ের মিলন। এর মূল্য ৫৮০ টাকা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে বই ‘বসন্ত আসবে বলে’। সম্পাদনা আহমাদ সাব্বির। মূল্য : ২০০ টাকা। ‘বৌদ্ধ ভারত’। মূল : প্রফেসর বিমান বিহারী মজুমদার এম এ ভাগবতরতœ। সম্পাদনা, নবায়ন, ভূমিকা ও টীকা : খান মাহবুব। মূল্য : ২৩০ টাকা। ‘ছাড়পত্র’ সুকান্ত ভট্টাচার্য। মূল্য : ১৮০ টাকা।