চার বছর ধরে হাওর ভাতা পাচ্ছেন না ৩৩৭ প্রাথমিক শিক্ষক

Printed Edition

আহসানুল হক জুয়েল নিকলী (কিশোরগঞ্জ) থেকে

কিশোরগঞ্জের হাওর বেষ্টিত নিকলী উপজেলার ৩৩৭ জন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক গত চার বছর ধরে সরকার ঘোষিত ‘হাওর ভাতা’ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। অথচ উপজেলার অন্য সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জেলার বাকি তিনটি হাওর উপজেলার শিক্ষকরা নিয়মিত এই ভাতা পাচ্ছেন।

জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের চারটি উপজেলাকে সরকার হাওর অঞ্চল ঘোষণা করে সেখানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য হাওর ভাতার প্রজ্ঞাপন জারি করে। নিকলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি খাইরুল আলম জানান, ২০২২ সালের ২৫ ডিসেম্বর সরকার এই প্রজ্ঞাপন জারি করার পর থেকে ইউএনও, এসিল্যান্ডসহ সব দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত ভাতা পাচ্ছেন। শুধু প্রাথমিক শিক্ষকরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

ভাতা পাওয়ার দাবিতে গতকাল শিক্ষকরা কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা শিক্ষা অফিসার গত ১০ জুন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবর পত্র প্রেরণ করেন। অনুলিপি দেয়া হয়েছে সহকারী পরিচালক এবং সহকারী পরিচালক (অর্থ ও রাজস্ব) অফিসেও। উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এর আগেও গত বছরের ৩০ জুলাই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে শিক্ষকদের হাওর ভাতার বাজেট বরাদ্দের জন্য অধিদফতরে চিঠি পাঠানো হয়েছিল।

নিকলী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো: আবু সিদ্দিক জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৯৪ লাখ ৬৪ হাজার ৪০০ টাকার চাহিদা পত্র জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু যথাযথ কর্তৃপক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না আসায় ৩৩৭ জন শিক্ষককে এই ভাতা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। বরাদ্দ আসামাত্রই শিক্ষকরা তাদের প্রাপ্য ভাতা পাবেন। তবে একই অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত ভাতা পাওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।