আহসানুল হক জুয়েল নিকলী (কিশোরগঞ্জ)
কিশোরগঞ্জের নিকলীসহ হাওরাঞ্চলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নদীভাঙন তীব্র হচ্ছে, ভিটেমাটি হারাচ্ছে বহু পরিবার। নদীতে বিলীন হচ্ছে বাড়িঘর, আবাদি জমি ও বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি স্থাপনা। নদীভাঙনের কারণে হাওরাঞ্চলের ভৌগোলিক পরিবর্তনের পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে স্থানীয়রা জানান।
সিংপুর, গোরাদিঘা, ভাটিবড়াটিয়া ও ছাতিরচর ইউনিয়নে সরজমিনে দেখা যায়, নদীভাঙনের কারণে একদিকে নদীতে বাড়িঘর ও আবাদি জমি বিলীন হচ্ছে, অন্য দিকে ড্রেজার দিয়ে নদী ও কৃষিজমি থেকে বালু উত্তোলন করে ভরাট করা হচ্ছে বিভিন্ন নিচু স্থান। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন ও প্রভাবশালী একটি চক্রের যোগসাজশেই চলছে এ বালু উত্তোলনের কার্যক্রম।
দেখা গেছে, জারইতলা ইউনিয়নের বনমালীপুর ব্রিজের নিচ দিয়ে বাল্কহেডে বালু পরিবহন করে শাহপুর, বনমালীপুর ও জাল্লাবাদের বিভিন্ন এলাকায় ভরাটের কাজ চলছে। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর মাঝেমধ্যে প্রশাসন অভিযান চলালেও অভিযুক্তরা নামমাত্র জরিমানায় ছাড়া পাচ্ছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন। তারা বলেন, আগে রাতের আঁধারে বালু উত্তোলন হলেও এখন আর রাত দিন নেই, প্রকাশ্যেই চলছে বালু উত্তোলনের কর্মকাণ্ড।
জানা গেছে, স্থানীয়রা সম্মিলিতভাবে বাধা দিতে গেলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাদেরকে থামিয়ে দেয়া হয়। গত ১৮ জুলাই বালু উত্তোলনকারীদের সাথে বাকবিতণ্ডার জেরে ছাতিরচর ইউনিয়নের কাছুম আলী (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫ ধারায় চলতি বছরে একাধিক অভিযান চালানো হয়েছে। গত ৪ জুলাই একজনকে দুই লাখ, গত ৪ জুন অপর আরেকজনকে আরো দুই লাখ, ১৩ এপ্রিল একজনকে এক লাখ এবং ৬ ও ৭ এপ্রিল একেকজনকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, জরিমানা দিয়েও বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি। গত ৭ আগস্ট শিমপুর ইউনিয়নের আলিয়াপাড়া থেকে বালু ভরাটের অভিযোগে দুইজনকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।



