ভূমিকম্প ও বিদ্যুৎ সরবরাহে কার্যকর উদ্যোগের আহ্বান

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বাংলাদেশীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

Printed Edition
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বাংলাদেশীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বাংলাদেশীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইরানে মার্কিন ও ইসরাইলের যৌথ হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের ঘটনায় সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশীদের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সাথে বর্তমান পরিস্থিতিতে করণীয় নিয়ে কিছু দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন। এ ছাড়া ভূমিকম্প-পরবর্তী দুর্যোগ মোকাবেলা ও সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। গতকাল বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টদের সাথে বৈঠকের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমে এসব কথা জানান।

গতকাল সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির প্রধানমন্ত্রী ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ঘটনায় দেশগুলোতে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের খবরাখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

এ দিকে হজরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের দেখভাল কিভাবে করা হচ্ছে তাও প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন বলে জানান অতিরিক্ত প্রেস সচিব। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বিমানমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী কাজ করছেন। বিমান প্রতিমন্ত্রী সকাল থেকে বিমানবন্দরে অবস্থান নিয়ে সার্বিক করণীয় ঠিক করছেন। প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী এই কাজে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হঠাৎ করে শনিবার অনেকগুলো ফ্লাইট স্থগিত হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছিলেন শত শত যাত্রী। অনেকেই বাড়ি ফিরতে না পেরে শাহজালাল বিমানবন্দরে আটকা পড়েন।

গতকাল সকাল ৯টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে নিজে অফিসে আসেন। দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করেছেন। অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ভূমিকম্প-পরবর্তী দুর্যোগ মোকাবেলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কথা বলেছেন। ভূমিকম্প-পরবর্তী দুর্যোগ মোকাবেলায় একটি কর্ম পরিকল্পনা তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন।

বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে বেরিয়ে এসে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ভূমিকম্প-পরবর্তী দুর্যোগ মোকাবেলায় ঢাকায় এক লাখ স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। ত্রাণমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জায়গায়, ভূমিকম্প প্রবণতা বেড়ে গেছে। সেটি মোকাবেলার জন্য কোস্টাল এরিয়ার আদলে ঢাকাকেন্দ্রিক ভলানটিয়ার তৈরি করার জন্য আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ভূমিকম্পের পর প্রাথমিকভাবে আশ্রয়ের জন্য শহরের খেলার মাঠ এবং স্কুলগুলো চিহ্নিত করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ভূমিকম্পের সময় এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া, ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবেলায় কঠোরভাবে বিল্ডিং কোড মানতে প্রধানমন্ত্রীকে দ্রুত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিলের সভা ডাকার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

তিনি আরো জানান, ভূমিকম্প মোকাবেলায় একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই সামগ্রিক পরিকল্পনা নিয়ে আগামী ১১ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর সাথে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

এ ছাড়া পরবর্তীতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীও প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং দেশের বর্তমান জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা গ্রহণ করেন।