জেলায় জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব

দেশের বিভিন্ন জেলায় দ্রুত বাড়ছে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। এরই মধ্যে ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে বেশ কয়েকজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা এ জন্য ক্ষমতাচ্যুত হাসিনা সরকারকে দায়ী করছেন। তারা জানিয়েছেন, বিগত কয়েক বছর ধরে শিশুদের সময়মতো হামের টিকা দেয়া হয়নি।

নয়া দিগন্ত ডেস্ক
Printed Edition

দেশের বিভিন্ন জেলায় দ্রুত বাড়ছে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। এরই মধ্যে ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে বেশ কয়েকজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা এ জন্য ক্ষমতাচ্যুত হাসিনা সরকারকে দায়ী করছেন। তারা জানিয়েছেন, বিগত কয়েক বছর ধরে শিশুদের সময়মতো হামের টিকা দেয়া হয়নি।

যশোরে আক্রান্ত ২ শতাধিক

যশোর অফিস জানায়, যশোরে হাম নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। গত দুই মাসে দু’টি হাসপাতালে হামের লক্ষণ নিয়ে দুই শতাধিক শিশু চিকিৎসা নেয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। চলতি মার্চ মাসেই আক্রান্ত হয়েছে দশ শিশু। যদিও আক্রান্ত শিশুদের কারো কারো হামের টিকা দেয়া হয়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো যশোরে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত দুই মাসে যশোর জেনারেল হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালে দুই শতাধিক শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। শিশু হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে উল্লেখযোগ্যহারে।

ষষ্ঠীতলা এলাকার বাসিন্দা জুলিয়া খাতুন তার ১৫ মাসের মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। তিনি জানান, জ্বর ও শরীরে লাল র‌্যাশ নিয়ে তাকে ভর্তি করিয়েছেন। পরে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন শিশুটি হামে আক্রান্ত। টিকার কার্ড হারিয়ে যাওয়ায় হামের টিকা দেয়া হয়নি বলে জানান জুলিয়া।

শিশু হাসপাতালের ওয়ার্ড ইনচার্জ সাঈদা সুলতানা জানান, ফেব্রুয়ারি মাস থেকে হামের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। হামের লক্ষণ নিয়ে প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগী আসছে। দুই মাসে অন্তত ৯০ শিশুকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে অনেক শিশুর হাম রুবেলা টিকা গ্রহণের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা: সৈয়দ নূর-ই হামিম বলেন, হাসপাতালে টিকার কোনো সঙ্কট নেই। অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণেই শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বাড়ছে। সচেতনতা বাড়ানো গেলে এ হার কমানো সম্ভব।

সিভিল সার্জন মাসুদ রানা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। চলতি মাসে যশোরে ল্যাব পরীক্ষায় দশ শিশুর হামে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। জেলায় হামের টিকার কোনো ঘাটতি নেই।

মমেকে চাপ বাড়ছেই

ময়মনসিংহ অফিস জানায়, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হামের প্রকোপ এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালজুড়ে চাপ বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৬ শিশু ভর্তি হওয়ায় বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৮ জনে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, শিশু ওয়ার্ডে স্বাভাবিক পরিস্থিতি এখনো ফেরেনি। বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে প্রায় ৫৪০ শিশু ভর্তি থাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় চাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। চিকিৎসক ও নার্সদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

চলতি মাসের ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ১০৮ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের অধিকাংশই জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। এতে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ-আতঙ্ক বাড়ছে।

হাসপাতালে ‘হাম কর্নার’ চালু থাকলেও শয্যা সঙ্কট প্রকট। ১০ শয্যার কক্ষগুলো দ্রুতই পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। ফলে অনেক রোগীকেই স্থান সঙ্কটে পড়তে হচ্ছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালের ৮ম তলায় পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালুর প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি চালু হলে আক্রান্তদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেয়া সহজ হবে এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে।

হাম চিকিৎসা টিমের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহযোগী অধ্যাপক ডা: গোলাম মাওলা বলেন, রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত আইসিইউ প্রয়োজন এমন রোগী পাওয়া যায়নি।

জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা: ফয়সল আহমেদ বলেন, উপজেলার কমিটিগুলোকে সক্রিয় করা হচ্ছে, যাতে প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা দেয়া যায়।

পাবনায় হঠাৎ বেড়েছে প্রাদুর্ভাব

পাবনা প্রতিনিধি জানায়, পাবনায় হঠাৎ করে বেড়েছে ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ হামের প্রাদুর্ভাব। এতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হাসপাতালে প্রতিদিনই বাড়ছে। গতকাল দুপুর পর্যন্ত ২৭ জন চিকিৎসাধীন ছিলেন পাবনা জেনারেল হাসপাতালে। এর মধ্যে বেশি সংখ্যা শিশু রোগী।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় সেখানে হামে আক্রান্ত হয়ে ১০ জন ভর্তি হয়েছে। গত এক সপ্তাহে জেলায় ২৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত ১১৮ জন হামে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে ।

বর্তমানে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন হামের রোগীদের মধ্যে ৩ মাস থেকে ১২ মাস বয়সী শিশু রয়েছে ২৫ জন। আর মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি দুইজনের মধ্যে একজনের বয়স ৩২ বছর অন্যজন ২২ বছরের।

সোমবার দুপুরে সরেজমিন পাবনা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শিশু ওয়ার্ডে রোগীতে ঠাসা। মেঝেতেও রোগী, হাঁটারও উপায় নেই। শিশু ওয়ার্ডে একেকটি শয্যায় দুইজন, তিনজন করে ভর্তি রয়েছেন। এই ওয়ার্ডের বারান্দায় একটি কাঁচঘেরা কক্ষে হাম রোগে আক্রান্ত শিশুরা চিকিৎসাধীন। সেখানেও একেকটি শয্যায় দুইজন করে রয়েছে। মেঝেতেও চারটি শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. তানভীর ইসলাম বলেন, হামের রোগী বাড়ার সাথে সাথে পৃথক স্থানে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আপাতত কোনো সমস্যা হচ্ছে না। বিষয়টি নজরদারিতে আছে।

লক্ষণ থাকা রোগী বাড়ছে চট্টগ্রামে

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রাম বিভাগে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে কক্সবাজার, চাঁদপুর ও কুমিল্লা জেলায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, চলতি বছরে এ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৫ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে কক্সবাজারে ২৮ জন, চাঁদপুরে ১২ জন, কুমিল্লায় ১৮ জন এবং চট্টগ্রামে দুজন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ছাড়া উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন আরো কয়েকজন।

এ দিকে বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুধুমাত্র গত ১০ দিনের ব্যবধানে নগরীতে হামের উপসর্গ নিয়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে অন্তত ২৫ শিশু ভর্তি এবং ছয়জন আইসিইউতে আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের জটিলতা নিয়ে শিশু ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে। সেখানে হাম ও হামজনিত নিউমোনিয়ার লক্ষণ নিয়ে বর্তমানে ১২ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর আগে ১৩ জন ভর্তি হলেও ১৫ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালটিতে ডেঙ্গুর জন্য নির্ধারিত পুরনো কর্নারটিকে এখন হাম কর্নার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ভর্তি হওয়া শিশুদের অধিকাংশই কক্সবাজার অঞ্চল থেকে এসেছে এবং প্রায় সবাই ১৫ মাসের নিচে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো দুই শিশুর বয়স ছয় মাসেরও কম, অর্থাৎ তারা এখনো টিকার আওতায় আসেনি।

চমেক হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা: মোহাম্মদ মুছা মিঞা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিকভাবে রোগী আসছে। এখন পর্যন্ত ১৩ জন ভর্তি হয়েছে, যার মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং বর্তমানে ১২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে।

চট্টগ্রামের বেসরকারি মা ও শিশু হাসপাতালে পরিস্থিতি আরো আশঙ্কাজনক। গত ১০ দিনে সেখানে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে আইসিইউতে ভর্তি ৬ শিশুর মধ্যে একজনের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন।

রমেক হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড

রংপুর ব্যুরো জানায়, রংপুর বিভাগে এখন পর্যন্ত মিজেলেস বা হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। মিজেলেস বা হাম সন্দেহে রংপুর বিভাগের ১১৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১০৫ জনের নেগেটিভ পেয়েছে সংস্থাটি। এ ছাড়া ছয়জনের মধ্যে হাম এবং চারজনের মধ্যে রোবেলা নিশ্চিত হওয়া গেছে। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে খোলা হয়েছে হাম কর্নার ও হাম আইসোলেশন বিভাগ। সেখানে ভর্তি আছে চারজন। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১০টি আইসিসিইউ বেড। এ ছাড়া প্রতিটি জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাম ওয়ার্ড কর্নার খোলার নির্দেশনা দিয়েছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য প্রশাসন।

রমেক হাসপাতালের ৯নং শিশু ওয়ার্ডের পাশে আলাদা করে স্থাপন করা হয়েছে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড। সেখানে ভর্তি আছেন চার শিশু। তাদের সবার বয়স ৯ বছরের নিচে।

রমেক কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মিজেলেস রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম সুষ্ঠু, সমন্বিত ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করার জন্য পাঁচ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। যার প্রধান ও ফোকাল পারসন করা হয়েছে শিশু ওয়ার্ডের সহকারী অধ্যাপক ডা: আনম তানভীর চৌধুরীকে। সদস্য করা হয়েছে একই বিভাগের চার সহকারী রেজিস্টারকে। তারা হলেন- ডা: উম্মে ওয়াহিদা সুলতানা, ড. তাহরিমা মোবাশ্বিরিন, ডা: তাহেরুল ইসলাম ও ডা: খালিদ বিন কাশেম।

কমিটির প্রধান ডা: আনম তানভীর চৌধুরী জানান, ‘ঢাকা বা রাজশাহীর মতো মিজেলস রোগীর সংখ্যা রংপুর বিভাগে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য না হলেও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এই মুহূর্তে আমাদের দুইজন হামের রোগী ভর্তি আছে। রংপুরেও প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। সে জন্য আমরা সার্বিক প্রস্তুতি রেখেছি। এরই মধ্যে হামের আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি করা হয়েছে। কমিটি সার্বক্ষণিক মনিটরিং ও সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করবে।’

রাজশাহীতে শয্যা সঙ্কটে চরম ভোগান্তি

রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহী বিভাগে হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৫০ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২৮০ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ২৮ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। এতে বিভাগের সবচেয়ে বড় সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে।

রামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা: শাহিদা ইয়াসমিন জানান, বর্তমানে হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২৮০ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ২৮ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের জন্য নির্ধারিত ‘হাম কর্নার’ এবং সাধারণ শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশেরই বয়স ৬ মাসের নিচে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাধারণত ৯ মাস বয়সে শিশুদের হামের টিকা দেয়া হয়; কিন্তু তার আগেই বিপুল সংখ্যক শিশু আক্রান্ত হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মাসুদ উল আলম জানান, বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রোগী আসার সংখ্যা বেড়েছে। সীমিত আইসিইউ সুবিধা ও জনবল নিয়ে এই পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এদিকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সোমবার দুপুরে রামেক হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা: রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এ সময় হাসপাতালের পরিচালক, শিশু বিভাগের প্রধানসহ অন্য চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দফতর সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর আট জেলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৫০০ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪২৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ১৩৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।