নিরসনে প্রস্তুতি দুই সিটির

আসন্ন বর্ষায় আবারো ডুবতে পারে ঢাকা

বিভিন্ন খাল দখল মুক্ত করতে উদ্যোগ

রাজধানীতে বর্ষা মৌসুম হলেই জলাবদ্ধতা নিত্যনৈমিত্যিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছরই নতুন নতুন প্রকল্প নেয়া হচ্ছে, ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে, বাড়ছে বাজেটের আকার কিন্তু জলাবদ্ধতা থাকছে আগের মতোই। প্রতি বছর দুই সিটি করপোরেশন থেকে জলাবদ্ধতা কমার আশ্বাস দিলেও মাঠ পর্যায়ে তার বাস্তবায়ন সামান্যই। কোনো কোনো সড়কে নতুন করে ড্রেনের প্রশস্ততা বাড়ালে ওই স্থানে সাময়িক জলাবদ্ধতা কমলেও নতুন করে আরেক স্থানে দেখা দিচ্ছে জলাবদ্ধতার সঙ্কট।

খালিদ সাইফুল্লাহ
Printed Edition

আসন্ন বর্ষা মৌসুমে আবারো ডুবতে পারে রাজধানী ঢাকা। চৈত্রের শেষ দিকে কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে দেখা গেছে। এখন বৈশাখ মাসের মাঝামাঝি সময় চলছে। আর মাত্র দেড় মাস পরই বর্ষাকাল শুরু হবে। ওই সময় ভারী বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত বুধবার এ নিয়ে সংসদে দাঁড়িয়ে সরকারকে আগেই ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা-১২ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন। এ দিকে বর্ষা মৌসুমের আগে রাজধানীতে চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। এতে ধুলা দূষণ ও যানজট বেড়েছে। বর্ষাকালের আগে খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ না হলে ভোগান্তি আরো বাড়বে। তবে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কাজ শুরু করেছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন।

রাজধানীতে বর্ষা মৌসুম হলেই জলাবদ্ধতা নিত্যনৈমিত্যিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছরই নতুন নতুন প্রকল্প নেয়া হচ্ছে, ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে, বাড়ছে বাজেটের আকার কিন্তু জলাবদ্ধতা থাকছে আগের মতোই। প্রতি বছর দুই সিটি করপোরেশন থেকে জলাবদ্ধতা কমার আশ^াস দিলেও মাঠ পর্যায়ে তার বাস্তবায়ন সামান্যই। কোনো কোনো সড়কে নতুন করে ড্রেনের প্রশস্ততা বাড়ালে ওই স্থানে সাময়িক জলাবদ্ধতা কমলেও নতুন করে আরেক স্থানে দেখা দিচ্ছে জলাবদ্ধতার সঙ্কট। গত বর্ষা এবং সাম্প্রতিককালের কয়েকটি বৃষ্টিপাতে নগরীর পল্টন, মতিঝিল থেকে কাওরানবাজারে বৃষ্টির পানি জমতে দেখা গেছে। এছাড়া পুরান ঢাকার বংশাল, সিদ্দিকবাজারসহ বিভিন্ন সড়ক, নিউমার্কেট, ধানমন্ডির ২৭ নম্বর সড়ক, মোহাম্মদপুরের বছিলা, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, যাত্রাবাড়ী, টিকাটুলির আরকে মিশন রোডসহ বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। শান্তিনগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে শতাধিক কোটি টাকা ব্যাংক হলেও এখনো বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়ে। ঢাকা ওয়াসা ও দুই সিটি করপোরেশন সূত্র বলছে, গত এক যুগে জলাবদ্ধতা নিরসনে সব মিলিয়ে কমপক্ষে তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু এরপরও নগরীর জলাবদ্ধতার সঙ্কট কাটেনি।

এ দিকে সমস্যাটি আমলে নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে দুই সিটি করপোরেশন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) জানিয়েছে, নগরীর সম্ভাব্য জলাবদ্ধতা মোকাবেলায় আগেভাগেই বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু করতে যাচ্ছে সংস্থাটি। সম্ভাব্য জলাবদ্ধতার স্থান চিহ্নিত করে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার গুলশান নগর ভবনে ডিএনসিসির বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। এ প্রসঙ্গে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ঢাকার এয়ারপোর্ট রোড, মিরপুরসহ যেসব স্থানে বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব অঞ্চলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন ও খালের পানিপ্রবাহ সচল রাখা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ও প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া বর্ষা মৌসুমে ঢাকা শহরে ব্যাপকহারে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগেও একইভাবে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসক মো: আবদুস সালামের বিশেষ উদ্যোগে ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘জিয়া সরণি খাল’ পুনরুদ্ধার ও পানিপ্রবাহ সচল করার কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য খালের ময়লা অপসারণের কাজ চলছে।

এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক মো: আবদুস সালাম বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং জনভোগান্তি দূর করতে আমরা এই খালটিকে চলাচলের উপযোগী ও পানিপ্রবাহ সচল করার কাজ শুরু করেছি। বর্তমানে পানিপ্রবাহের দিক পরিবর্তন করে বুড়িগঙ্গা নদীর সাথে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, যাতে দ্রুততম সময়ে পানি নিষ্কাশন সম্ভব হয়। এই প্রকৌশলগত পরিবর্তনের ফলে নিষ্কাশন পথ কমে আসবে এবং এলাকার জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে দূর হবে।

ডিএসসিসি সূত্রে জানা যায়, জলাবদ্ধতা নিরসনের অংশ হিসেবে সিএস পর্চা ও ম্যাপ অনুযায়ী খালের জায়গা দখলমুক্ত করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং বিদ্যমান আইনে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে কাজ করছে ডিএসসিসি। আগামী ৬ মাস থেকে দুই বছরের মধ্যে খাল সংশ্লিষ্ট এলাকার দৃশ্যমান উন্নয়ন লক্ষ করা যাবে বলে মনে করে সংস্থাটি।