নয়া দিগন্ত ডেস্ক
প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ফরাসি সরকারের সম্মানসূচক পদক পেয়েছেন সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম। জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পদক দেয়া হয় মোহাম্মদ আজহারুলকে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শারলে তার বাসভবনে মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে ফরাসি সরকারের পক্ষে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আজহারুল ইসলামকে সম্মানসূচক ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স মেডেল ‘গোল্ড লেভেল’ প্রদান করেন।
গতকাল আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
আইএসপিআর আরো জানায়, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজহার ২০২২-২০২৩ সময়কালে কর্নেল পদে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশনের (গওঘটঝগঅ) ফোর্স হেডকোয়ার্টারে ডেপুটি চিফ অব স্টাফ (সাপোর্ট) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন দেশের ১৩ হাজারেরও বেশি শান্তিরক্ষীর লজিস্টিকস ও সাপোর্ট কার্যক্রম দক্ষতার সাথে সমন্বয় করেন।
২০২২ সালে ফরাসি বাহিনীর ‘বারখান’ অভিযান মালি থেকে পার্শ্ববর্তী নাইজার ও চাদে পুনর্বিন্যাসের ফলে মালির উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি ক্যাম্পের দায়িত্ব জাতিসঙ্ঘ মিশনের ওপর ন্যস্ত হয়। এ জটিল এবং সংবেদনশীল পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়ায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজহারের নেতৃত্বাধীন লজিস্টিকস টিম নিরলসভাবে কাজ করে ফরাসি কন্টিনজেন্টের নিরাপদ প্রস্থান এবং জাতিসঙ্ঘ সদস্যদের সুবিন্যস্ত মোতায়েন নিশ্চিত করেন।
এরপর ২০২৩ সালে মালি থেকে জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশন সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হলে মাত্র ছয় মাসের মধ্যে তার নেতৃত্বাধীন লজিস্টিকস টিমের পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা, দলগত সমন্বয় এবং সূক্ষ্ম পরিকল্পনার ফলে সব জাতিসঙ্ঘ সদস্য ও তাদের ব্যবহৃত অস্ত্র-সরঞ্জামাদি নিরাপদে প্রত্যাহার করা সম্ভব হয়।
আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা অপারেশনে এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ ফরাসি সরকার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আজহারুল ইসলামকে এ সম্মাননা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজহার একজন অভিজ্ঞ শান্তিরক্ষী হিসেবে সুদান, আইভরি কোস্ট, সোমালিয়া এবং সর্বশেষ মালিসহ বিভিন্ন দেশে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।



