ক্রীড়া প্রতিবেদক
শুটিং নেই, আরচারিও নেই- তাই পদকের প্রত্যাশাও নেই। বাংলাদেশের অ্যাথলেটদের উদ্দেশ্যহীন এক যাত্রা স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে। ২৩ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে এই গেমস। ১০ ডিসিপ্লিন থাকলেও এর মধ্যে মাত্র চারটিতে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। যেখানে খরচ হচ্ছে প্রায় চার কোটি টাকা। এই অর্থ খরচে পদক আকাশ ছোঁয়া দূরত্ব হলেও ভাল ফল প্রত্যাশা করছে সংশ্লিস্টরা। গতকাল বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের ডাচ-বাংলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন কথাই বললেন মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা। তার কথা, ‘এবারের আসরে শুটিং নেই, আরচারিও নেই। তাই আমরা ভালো ফলের প্রত্যাশা নিয়েই যাচ্ছি গ্লাসগোতে।’
আসরে চার ডিসিপ্লিনে ১৫ জন ক্রীড়াবিদের সাথে সাতজন কোচ ও কর্মকর্তা যাচ্ছেন। আর ৩৫ জনের বহরের বরাবরের মতোই বাকি ১৩ জনই বিওএ এবং বিভিন্ন ফেডারেশনের কর্মকর্তা। যার মধ্যে অ্যাথলেটিকসে পাঁচ অ্যাথলেটের সাথে দু’জন, বক্সিংয়ে তিন বক্সারের সাথে দু’জন, জিমন্যাস্টিকসে তিন জিমন্যাস্টের সাথে একজন এবং সুইমিংয়ে চারজন সাঁতারুর সাথে দু’জন কর্মকর্তা যাচ্ছেন। খেলা নয়- এ যেন কমনওয়েলথের নাম ভ্রমণবিলাসে যাচ্ছেন কর্মকর্তারা।
এত খরচ করেও প্রত্যাশা শূন্য কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে বিওএর মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের মাত্র আড়াই মাসের অনুশীলন। তা ছাড়া ক্রীড়া স্থাপনার অভাবও রয়েছে। এমনও হয়েছে, এক ভেনুতে সম্বনয় করে চারটি ডিসিপ্লিনকে অনুশীলন করাতে হয়েছে। আড়াই মাসের অনুশীলন এবং ইউরোপে গেমস বলেই খরচা বেশি হচ্ছে।’
উদ্বোধনী দিনের মার্চপাস্টে লাল সবুজের পতাকা থাকবে সাঁতারু সামিউল ইসলাম রাফির হাতে। আর ব্যাটন রিলে থাকবে আরেক সাঁতারু সোনিয়া আক্তারের কাছে। এ বিষয়ে রানার কথা, ‘যেহেতু অ্যাথলেট দল উদ্বোধনের পর যাবে, তাই পতাকা ও ব্যাটন দুটোই সাঁতারুরা বহন করবে।’
বক্সিংয়ে জিনাত ফেরদৌসের সাথে দু’জন পুরুষ বক্সারও যাচ্ছেন গ্লাসগোতে। ৫৫ কেজিতে রাকিব হোসেন এবং ৬০ কেজি ওজন শ্রেণীতে লড়বেন রুহিন রেজা। অ্যাথলেটিকস ডিসিপ্লিনের পাঁচটি ইভেন্টে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে দেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর রহমান ও মানবী শিরিন আক্তার, ৪০০ মিটার স্প্রিন্টে লুশাদ ইসলাম, নাজিমুল ইসলাম এবং লংজাম্পে স্বপ্না খাতুন। সুইমিং পুলে নামবেন লাল সবুজের চার সাঁতারু সামিউল ইসলাম রাফি, কাজল মিয়া, সুকুমার রাজবংশী ও সোনিয়া আক্তার। জিমন্যাস্টিকসে ডিসিপ্লিনে যাচ্ছেন শিশির আহমেদ, রাজিব চাকমা ও আবু সাঈদ রাফি।



