ইফা কর্মকর্তাকে বদলি

‘হারাম খেয়ে’ হালাল সনদ দেয়ার অভিযোগ

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

হালাল সনদ প্রদান প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও ঘুষ নেয়ার অভিযোগ ওঠার পর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) হালাল সনদ শাখার কর্মকর্তা ড. মাওলানা মো: আবু ছালেহ পাটোয়ারীকে নরসিংদী জেলা কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। গতকাল ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব শেখ মুর্শিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ বদলির নির্দেশ দেয়া হয়। আদেশে আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে আবু ছালেহ পাটোয়ারীকে নরসিংদী জেলা কার্যালয়ে যোগ দিতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই এ প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) আয়োজিত ‘রফতানি বৈচিত্র্যকরণের জন্য হালাল’ শীর্ষক কর্মশালায় দেশের শীর্ষস্থানীয় রফতানিকারক ও খাদ্যপ্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা হালাল সনদ গ্রহণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ঘুষ, হয়রানি ও অপ্রয়োজনীয় শর্ত আরোপের অভিযোগ তোলেন। কর্মশালায় প্রাণ, আকিজ, বম্বে সুইটস, বেঙ্গল মিট ও ইজি প্রসেস ফুডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অভিযোগের পর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সাবেক সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মহিবুল্লাহ হিল বাকি বিষয়টি প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনা করেন। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। ইফার একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কর্মশালায় বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক খুরশিদ আহমেদ ফরহাদ অভিযোগ করেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বিএসটিআই থেকে হালাল সনদ নিতে গিয়ে সরকারি ফির বাইরে বিভিন্ন ধরনের অনানুষ্ঠানিক ব্যয় করতে হয়। তার ভাষায়, ‘হালাল সার্টিফিকেট নিতে গেলে নন-হালাল কার্যক্রমও (ঘুষ) দিতে হয়।’

বিসিআইয়ের পরিচালক ও ইজি প্রসেস ফুডের চেয়ারম্যান জিয়া হায়দার মিঠু অভিযোগ করেন, পরিদর্শনের নামে গাড়ির ব্যবস্থা, আপ্যায়ন এবং অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়।

ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকারি বিধিমালায় পরিদর্শকদের সম্মানী ও টিএ/ডিএ নির্ধারিত থাকলেও বাস্তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ২০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ নেয়া হয়। এ ছাড়া অনলাইন পরিদর্শন সম্পন্ন হওয়ার পরও ভিজিট ফি আদায় এবং সনদ ইস্যুর আগেই অতিরিক্ত অর্থ দাবি করার অভিযোগও তারা উত্থাপন করেন।

কর্মশালায় রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতির বাজার বর্তমানে ৫ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও সমন্বিত সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে বাংলাদেশ এ খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারবে।

বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের হালাল পণ্য রফতানির পরিমাণ প্রায় ৮৫ কোটি ডলার। স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একক হালাল সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে এ খাতে রফতানি ও বৈদেশিক মুদ্রা আয় আরো বাড়বে।

এদিকে অভিযোগ প্রসঙ্গে ইফার হালাল সনদ বিভাগের কর্মকর্তা ড. মাওলানা মো: আবু ছালেহ পাটোয়ারী নয়া দিগন্তকে বলেন, পরিদর্শনের জন্য যে সম্মানী নেয়া হয়, তা বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষেই নেয়া হয়। তার দাবি, ‘গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে এ ব্যবস্থা চালু আছে। এটি আমি একা নিই না, কমিটির সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয়।’