- উচ্চ মাধ্যমিক পাসের পর সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি
- যুক্ত হচ্ছে আনন্দময় শিক্ষাসহ ৪ নতুন বিষয়
শিক্ষার্থীদের মুখস্থ বিদ্যা ও কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্বনির্ভর ও সৃজনশীল হিসেবে গড়ে তুলতে ২০২৮ সাল থেকে দেশে সম্পূর্ণ নতুন শিক্ষাক্রম ও সিলেবাস চালু করতে যাচ্ছে সরকার। নতুন এই কারিকুলামে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার মধ্যে এমন একটি নিখুঁত সমন্বয় (সিনক্রোনাইজেশন) করা হচ্ছে, যার ফলে এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষার পর শিক্ষার্থীদের অযথা দুই-তিন মাস বসে থাকতে হবে না। উচ্চমাধ্যমিক পাসের পরপরই তারা সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ইতোমধ্যে কারিকুলাম পরিমার্জনের কাজ শুরু করেছে। শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে দু’টি কর্মশালা শেষে গত রোববার থেকে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত বগুড়ায় তিন দিনব্যাপী একটি রিভিউ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শিগগিরই ঢাকার বাইরে আরো বৃহৎ পরিসরে একাধিক কর্মশালার আয়োজন করা হবে বলে এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে।
প্রস্তাবিত নতুন শিক্ষাক্রমে খেলাধুলা (ঝঢ়ড়ৎঃং ঊফঁপধঃরড়হ), সংস্কৃতি (ঈঁষঃঁৎধষ ঊফঁপধঃরড়হ), কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (ঞবপযহরপধষ ধহফ ঠড়পধঃরড়হধষ ঊফঁপধঃরড়হ) এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিক্ষা- এই চারটি নতুন বিষয় যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আমরা চাই না আগামী দিনের ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীরা শুধু জিপিএ ৫ নামক সোনার হরিণের পেছনে ছুটে বেড়াক। আমরা চার দেয়ালের গণ্ডি থেকে বের করে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল করতে চাই। তারা খেলতে খেলতে শিখবে।’
গতকাল ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী জানান, আনন্দময় শিক্ষার জন্য ‘মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম’ এবং ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এই ট্যাবের মাধ্যমে একজন শিক্ষক ক্লাসের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শারীরিক-মানসিক অবস্থা ও পারিবারিক খোঁজখবর রাখার পাশাপাশি ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠদান করতে পারবেন। এ ছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ‘মিড ডে মিল’ (দুপুরের খাবার) চালু হয়েছে এবং আগামী বাজেটে এর জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দুই মাসের মধ্যে এবং আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি মাধ্যমিক স্তরের বইগুলো পরিমার্জন করে নতুন ৪টি বিষয় পরীক্ষামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ পরিমার্জিত নতুন বই আগামী ২৫ ডিসেম্বরের (বড়দিন) আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মুদ্রণ ও বিতরণকারী সংস্থাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করতে কারিকুলাম ও সিলেবাস নিয়ে নতুনভাবে কাজ শুরু করেছে। সরকার মনে করে, শিক্ষার্থীদের শুধু তাত্ত্বিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে সহশিক্ষা কার্যক্রমেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
শিক্ষা খাতের আধুনিকায়নে চলতি অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ছিল জিডিপির ১.৬৯ শতাংশ (প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা)। এবার তা বাড়িয়ে জিডিপির ২ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য সামগ্রিক বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা। এই বর্ধিত বাজেট দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর দক্ষতা ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।



