নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের অন্যতম বৃহৎ ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম দারাজের বিরুদ্ধে মাদক কারবারের অভিযোগে মামলা করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (নারকোটিক্স)। গতকাল সোমবার রাজধানীর বাড্ডা থানায় এই মামলা করা হয়, যেখানে দারাজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) অজ্ঞাতনামা আরো বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে রোববার বিকেলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অভিযানে দারাজের পণ্য সরবরাহকারী আনিসুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মাদক কেনাবেচার বিষয়টি সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংশোধিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ (সংশোধিত ২০২০ ও ২৬) এর ৩৬ এর ‘ক’ ধারা অনুযায়ী, সাইবার স্পেস বা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে মাদক কেনাবেচা বা সরবরাহের অপরাধে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। এটিই এই সংশোধিত ধারায় দায়েরকৃত প্রথম মামলা।
সূত্র জানায়, দারাজের ওয়েবসাইটে ‘সিবিডি অয়েল’ নামক একটি পণ্য প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নারকোটিক্সের সদস্যরা গ্রাহক সেজে দারাজে পণ্যটি অর্ডার করেন। পরে ডেলিভারি কর্মীর সরবরাহ করা সেই তেলের নমুনা রাসায়নিক ল্যাবে পরীক্ষা করা হলে তাতে উচ্চমাত্রার গাঁজার তরল উপাদান বা টিএইচসি (ট্রেট্রা হাইড্রো কন্যাবিস) পাওয়া যায়।
এই তথ্যের ভিত্তিতে বাড্ডার সাঁতারকুল এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সিবিডি অয়েল ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হয় কারখানার মালিক ও দারাজের সরবরাহকারী আনিসুর রহমানকে।
গ্রেফতারকৃত আনিসুর রহমান সম্পর্কে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘ সময় জাপানে অবস্থানকালে গাঁজার নির্যাস দিয়ে তেল তৈরির কৌশল রপ্ত করেন। দেশে ফিরে তিনি সুগন্ধি সাবান তৈরির আড়ালে এই মাদক উৎপাদন ও ই-কমার্স সাইটের মাধ্যমে বাজারজাত করে আসছিলেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) হাসান মারুফ জানিয়েছেন, সরকার যেকোনো মূল্যে মাদকের বিস্তার রোধে বদ্ধপরিকর। দারাজ ছাড়াও আরো বেশ কিছু সন্দেহজনক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এখন গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।



