নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলার কোরবানির পশু বিক্রির হাটের টেন্ডার (দরপত্র) বিক্রি নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ফতুল্লা থানা যুবদলের সদস্য সচিব ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। গতকাল সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় প্রাঙ্গণে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ১২ জনকে আটক করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, গতকাল বুধবার সকাল ১০টা থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে ১৫টি পশু বিক্রির অস্থায়ী হাটের দরপত্র বিক্রি শুরু হয়। সকাল সাড়ে ১১টায় কয়লাঘাট পশুর হাটের দরপত্র কিনে বাইরে বের হওয়ার সাথে সাথে ফতুল্লা থানা বিএনপি নেতা লাভলুর ওপর হামলা করে গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার রুবেলের অনুসারীরা। পুলিশের সামনে তাকে মাটিতে ফেলে কিল ঘুষি মেরে দরপত্র ছিনিয়ে নেয় তারা। দুপুর ১২টায় একই হাটের দরপত্র কেনেন জাকির নামের আরেক ব্যবসায়ী। তিনিও দরপত্র নিয়ে বাইরে বের হওয়ার সাথে সাথেই তার ওপর হামলা করে রুবেল মেম্বারের অনুসারীরা। বিকেল ৪টায় বৃষ্টির মধ্যে একই হাটের দরপত্র কেনা নিয়ে পুনরায় রুবেল মেম্বারের অনুসারীরা ফতুল্লা থানা যুবদলের সদস্য সচিব সালাউদ্দিন ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আরিফ প্রধানের ওপর হামলা করে। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এদিকে গরুর হাটের টেন্ডার নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অবহেলা এবং অদূরদর্শীতাকে দুষছেন অনেকে। তাদের ভাষ্য, টেন্ডার প্রক্রিয়া অনলাইনে করা হলে হয়তো সংঘর্ষের ঘটনা এড়ানো যেত। এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরীর বক্তব্যের জন্য বুধবার সন্ধ্যায় তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে বেলা ১১টা ৩৫মিনিটে ডিসি মিডিয়ার হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা লিখেছেন, সদর উপজেলা পরিষদে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত আছে। এছাড়া ফতুল্লা থানার ওসির নেতৃত্বে পুলিশ ফোর্স উপস্থিত। কোন সমস্যা হলে তাদের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হলো। উপজেলা পরিষদ ক্যাম্পাসে নির্বিঘেœ শিডিউল বিক্রি হচ্ছে। ক্যাম্পাসের বাইরে রাস্তায় এ রকম কোনো ঘটনা ঘটলে তা নিয়োজিত ম্যাজিস্ট্রেট ও ওসি, ফতুল্লাকে জানানোর অনুরোধ করা হলো।
ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শরিফুল ইসলাম বলেন, কয়লাঘাট হাট নিয়ে একটি গ্রুপ প্রতিপক্ষের ওপর হামলা করেছিল। লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। এবং ঘটনাস্থল থেকে ১২ জনকে আটক করেছি।



