কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: কামরুল হুদার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন ও কোটি কোটি টাকার সরকারি গ্যাস চুরি এবং একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও মনোনয়ন হলফনামায় এসব তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে প্রায় ১১ কোটি ৮৩ লাখ পাঁচ হাজার ১০ টাকা সরকারি বকেয়া রয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) কুমিল্লা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় চৌদ্দগ্রামের কনকাপৈত ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ মনির হোসেন এই অভিযোগ দাখিল করেন। তিনি বলেন, কামরুল হুদা তার যৌথ মালিকানাধীন মেসার্স মিয়া বাজার সিএনজি ফিলিং স্টেশন লিমিটেডের গ্যাস মিটারে একাধিকবার অবৈধ হস্তক্ষেপ (মিটার টেম্পারিং) করেছেন, যার ফলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিডিসিএল) কোটি কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।
অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, প্রার্থী হলফনামায় ফৌজদারি মামলার তথ্যও গোপন করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো :
চৌদ্দগ্রাম থানার মামলা নং-০৯ (তারিখ ০৭/০২/২০১৮), জিআর নং-৪৩/১৮
স্পেশাল ট্রাইবুনাল মামলা নং-৫০/২০২০
মামলাগুলোতে কামরুল হুদা ২০ নম্বর আসামি ছিলেন, কিন্তু মনোনয়নপত্রে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। অভিযোগকারীর দাবি, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত পরিপত্র অনুযায়ী সরকারি বকেয়া ও চলমান মামলার তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক, কিন্তু প্রার্থী তা ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করেছেন।
বিজিডিসিএল সূত্রে জানা যায়, চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজারে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটিতে চার দফায় মিটার টেম্পারিংয়ের ঘটনা প্রমাণিত হয়েছে। সংযোগ পাওয়ার পর থেকে মিটার টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের বকেয়া সৃষ্টির ধারা ধরা পড়েছে। মূল তথ্যগুলো সংক্ষেপে:
ধাপ তারিখ বকেয়া (টাকা) অবস্থা
১ম ১৫ জুন ২০০৯ ৯৫,১২,৭৪৬ প্রমাণিত
২য় ২৭ অক্টোবর ২০১০ ৭৬,৭১,৭২৩ পরিশোধিত
৩য় ২৮ আগস্ট ২০১৬ ৫,৪০,৪২,২১৯ বকেয়া
৪র্থ ২৯ অক্টোবর ২০১৬ ৫,৪৭,৪৯,০৪৫ বকেয়া ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন
মোট বর্তমান বকেয়া দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৮৩ লাখ টাকার বেশি।
বকেয়া পরিশোধ না করার কারণে প্রতিষ্ঠানটি একাধিক আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) মিটার টেম্পারিং প্রমাণিত উল্লেখ করে আবেদন খারিজ করলেও বিষয়টি বর্তমানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন।
স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন, ‘যিনি রাষ্ট্রীয় গ্যাসের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আদালতের আশ্রয় নিয়ে বকেয়া ঝুলিয়ে রাখেন, তিনি কিভাবে জনগণের প্রতিনিধি হওয়ার নৈতিক অধিকার রাখেন?’
মো: কামরুল হুদা এ বিষয়ে বলেন, ‘বিষয়টি বিচারাধীন। আমার কাছে সরকার কোনো টাকা পাবে না।’ তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি হিসাব অনুযায়ী উক্ত অর্থ এখনো রাষ্ট্রের পাওনা হিসেবে বহাল রয়েছে।
তবে শুধু মিয়া বাজার সিএনজি নয়- তার যৌথ মালিকানাধীন বাংলা গ্যাস, স্বজন সিএনজি, সাবুরিয়া সিএনজির বিরুদ্ধেও রাষ্ট্রীয় গ্যাস আত্মসাতের অভিযোগে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।



