চাকরির তদবিরে পিয়ন ইকবালের শত কোটি টাকার সাম্রাজ্য

Printed Edition

আলি জামশেদ বাজিতপুর (কিশোরগঞ্জ)

সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ভাতিজা ও ডিবির আলোচিত কর্মকর্তা হারুনের ছোট ভাই- এমন পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীর ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগে তিনি এখনো অফিসসহায়ক (পিয়ন) পদে কর্মরত। অথচ বাইরে নিজেকে উপসচিব পরিচয় দিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের সরকারি চাকরি পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে ইকবাল এই তদবির-বাণিজ্য চালিয়ে আসছেন। তাদের প্রশ্ন, একজন পিয়নের বিরুদ্ধে প্রায় ১৪ বছরের ব্যবধানে শত কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ উঠলে তার সাথে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আসবে না কেন?

ভুক্তভোগী ও বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইকবালের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাকরির তদবির, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের কেউ মাসের পর মাস, কেউ বছরের পর বছর টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য ঘুরছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নিকলীর জারইতলা ইউনিয়নের আঠারবাড়ীয়া গ্রামের ইকবাল ১৯৯৯ সালে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। ২০০১ সালে কারারক্ষী পদে চাকরিতে যোগ দেয়ার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আসামি পালানোর ঘটনায় তিনি সাময়িকভাবে বরখাস্ত ও পরে চাকরিচ্যুতি হন। পরে ২০১৩ সালের দিকে দলীয় প্রভাবে হাইকোর্টে অফিস সহায়ক পদে যোগ দেন বলে জানা যায়। এরপর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগে চাকরি পান তিনি।

ইকবালের বিরুদ্ধে নিজের পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে দ্বিতীয় স্ত্রী সনি, ছোট ভাই শামীম, বোন আকলিমা, ইসনাহারা ও তার স্বামী নজরুল ইসলাম, ভাগনে নাঈম, লিজা, তার স্বামী জুলহাস আহমেদ তাসপিন, ভাগনে রাকিব এবং চাচাতো বোনের ছেলে আতাউর রহমানের নাম রয়েছে।

সর্বশেষ জারইতলার আরজ আলীর মেয়ে প্রভাকে পোস্ট অফিসে চাকরি দেওয়ার কথা বলে অর্থ নেয়ার অভিযোগও উঠে ইকবালের বিরুদ্ধে।

চাকরি পাইয়ে দেয়ার জন্য টাকা দেওয়ার অভিযোগে নিকলীর আঠারবাড়ীয়ার মাহমুদুল হাসান লিটন ইকবালকে ১২ লাখ টাকা দেয়ার অভিযোগে এবং সেই টাকার দাবিতে আদালতের শরণাপন্ন হন তিনি। তার অভিযোগ, ইকবালের বোন আকলিমা ও তার স্বামী আল-আমিন চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এই টাকা নেন। নিকলীর রূপালী তার ছেলে আজিজুল হক বোরহানের চাকরির জন্য পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্বজনদের দাবি, দীর্ঘদিন টাকা ফেরত না পেয়ে ঋণের চাপে রূপালীর মৃত্যু হয়।

এ ছাড়া ইকবালের কাছে সাজনপুরের শফিকুল ইসলাম ১২ লাখ, শরিফ চার লাখ, সোহাগ চার লাখ, আজিজুল হাকিম ১২ লাখ ও কুদরত আলী চার লাখ টাকা পান বলে দাবি করছেন। এক ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রীর চাকরির আশ্বাসে ইকবালের বোন আকলিমার নিকলী শাখার একটি ব্যাংক হিসাবে ছয় লাখ টাকা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ইকবালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি দফতরে বদলি, পদায়ন ও নিয়োগের তদবির করে অর্থ নেয়ার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় সরকার, স্বরাষ্ট্র, স্বাস্থ্য, পানিসম্পদ, গণপূর্ত, সড়ক ও জনপথ, এলজিইডি ও নির্বাচন কমিশনে তদবিরের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।