আরিফুল ইসলাম জিমন ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর)
ঢাকা ও অন্যান্য অঞ্চলের সাথে হিলি স্থলবন্দরের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ‘হিলি-ডুগডুগি-ঘোড়াঘাট’ ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ জাতীয় মহাসড়ক (এন-৫২১) প্রশস্তকরণ ও মানোন্নয়ন প্রকল্পের ধীরগতি ও নিম্নমানের কাজে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ২০২১ সালে শুরু হওয়া তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় ইতোমধ্যে কয়েক দফায় মেয়াদের সাথে বাড়াতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের বাজেটও।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, প্রকল্পের মূল অনুমোদিত বাজেট ছিল ৪৬৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা। তবে কাজের ধীরগতি এবং কারিগরি নকশা পরিবর্তনের অজুহাতে প্রথম সংশোধিত প্রস্তাবনায় বাজেট বাড়িয়ে ৫৮৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা করার অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। ফলে এক লাফে প্রকল্প ব্যয় বাড়ছে প্রায় ১২৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা। ২০২৪ সালের নির্ধারিত মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ার পর এখন নতুন করে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে।
পুরো ২৬ কিলোমিটার সড়কটি তিনটি পৃথক প্যাকেজে বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘জামিল ইকবাল গ্রুপ’। তবে দীর্ঘ চার বছরে তারা কেবল ঘোড়াঘাটের ওসমানপুর থেকে ডুগডুগি পর্যন্ত মাত্র ৪০ শতাংশ কাজ শেষ করতে পেরেছে। বাকি ডুগডুগি থেকে হিলি অংশের মূল কাজ এখনো শুরুই হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা ও দ্রুত টেকসই সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিন দেখা যায়, খোঁড়াখুঁড়ির কারণে চার দিকে ধুলাবালি উড়ছে এবং সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা কাদা হয়ে যাতায়াতের অযোগ্য পড়ে। কাজের গুণগত মান নিয়েও বিস্তর অভিযোগ স্থানীয়দের। বলহার বাজারের ব্যবসায়ী সাহারুল ইসলাম ও সুরা মসজিদ এলাকার বাসিন্দা পারভেজ হাসান অভিযোগ করেন, কাজের কোনো সঠিক পদ্ধতি নেই। বিটুমিন ও কার্পেটিং অত্যন্ত নিম্নমানের; ভারী যানবাহন চললে তিন মাসও টিকবে না।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ম্যানেজার ইনাম বলেন, জনগণ খারাপ বললে কী হবে, সওজ কর্মকর্তারা তো খুশি আছেন। বিষয়টি নিয়ে দিনাজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম দায় এড়িয়ে ‘বিষয়টি দেখছি’ বলে ফোন কেটে দেন।



