নয়া দিগন্ত ডেস্ক
চলতি বছর ইসরাইল ফিলিস্তিন, ইরান, লেবানন, কাতার, সিরিয়া এবং ইয়েমেনসহ কমপক্ষে ছয়টি দেশে হামলা করেছে। ইসরাইলি হামলা থেকে রেহাই পায়নি তিউনিসিয়া, মাল্টিজ এবং গ্রিক নৌসীমায় গাজা অভিমুখী ত্রাণবহরও। স্বাধীন সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা (অঈখঊউ) অনুসারে, এ বছরের শুরু থেকে গত ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ইসরাইল বিভিন্ন দেশে কমপক্ষে ১০,৬৩১টি আক্রমণ চালিয়েছে, যা এক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বিস্তৃত ভৌগোলিক সামরিক আক্রমণগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
ইসরাইলি আক্রমণের মানচিত্র তৈরিতে বিমান এবং ড্রোন হামলা, গোলাবর্ষণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, দূরবর্তী বিস্ফোরক এবং অন্যান্য সশস্ত্র আক্রমণসহ সহিংস ঘটনাগুলোর জন্য ফিল্টার করে দেখা যায় এই ঘটনাগুলোতে ইসরাইলি বাহিনীর সহিংস আক্রমণ জড়িত; তবে অধিকৃত পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের আক্রমণের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি বাদ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও বাড়িঘর ভাঙচুর বা রাতে ইসরাইলি অভিযান যা প্রতিদিন ঘটে তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
সবচেয়ে বেশি আক্রমণ
ইসরাইল গাজা এবং অধিকৃত পশ্চিমতীরে ৮,৩৩২, লেবাননে ১,৬৫৩, ইরানে ৩৭৯, সিরিয়ায় ২০৭, ইয়েমেন ৪৮, কাতারে একবার, তিউনিসিয়ার নৌসীমায় দুবার, মাল্টিজ এবং গ্রিক নৌসীমায় একবার করে হামলা চালিয়েছে। বছর ধরে, ইসরাইল ফিলিস্তিন জুড়ে কমপক্ষে গড়ে প্রতিদিন ২৫টি হামলা চালিয়েছে। গাজা জুড়ে কমপক্ষে ৭,০২৪টি এবং অধিকৃত পশ্চিমতীর জুড়ে ১,৩০৮টি আক্রমণের মধ্যে গত ১৯ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ১৮ মার্চ পর্যন্ত ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকে এবং খাদ্যসহায়তা চাওয়া ব্যক্তিরাও হামলা থেকে রেহাই পাননি।
ইসরাইল গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে এবং দুই মিলিয়ন মানুষকে বাস্তুচ্যুত করতে বাধ্য করেছে। পশ্চিমতীর জুড়ে দেশটি আক্রমণ তীব্র করেছে, জেনিন, তুলকারেম এবং নুর শামস শরণার্থী শিবিরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিরোধ দমন এবং নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার লক্ষ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক আক্রমণ শুরু করেছে। এ ছাড়াও এই গণনায় অন্তর্ভুক্ত নয়, বসতি স্থাপনকারী সহিংসতার ঘটনাও রয়েছে, যা এই বছর বেড়েছে। বিভিন্ন দেশে ইসরাইলি হামলায়, হাসপাতাল, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঘনবসতি এলাকা, বাড়িঘর আক্রান্ত হয়েছে। এসব হামলার ব্যাপারে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য হচ্ছে তারা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এসব হামলা চালিয়েছে। বরাবরের মতো ইসরাইলি হামলায় গোলাবারুদ, রসদ, অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ।



