দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
ইরানের সাথে সামরিক সঙ্ঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ কিছু গোলাবারুদের মজুদ কমে আসার আশঙ্কায় মার্কিন অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎপাদন প্রক্রিয়া দ্রুত জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা বিভাগ বা পেন্টাগন।
অস্ত্রের উৎপাদন বাড়াতে এবং দ্রুততম সময়ে সরবরাহ সুনিশ্চিত করতে সামরিক শিল্প খাতের নেতাদের নতুন কৌশলপত্র জমা দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এ প্রকাশিত একটি স্মারকলিপির বরাতে জানা যায়, মার্কিন উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী স্টিভ ফেইনবার্গ প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের পরিকল্পনা পেশ করতে সর্বোচ্চ ২১ দিন সময় দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, অস্ত্র তৈরিতে দীর্ঘ সময়ক্ষেপণের অতীত চর্চা এখন আর গ্রহণযোগ্য নয়; ফলে উৎপাদন ও সরবরাহ গতি ‘নাটকীয়ভাবে দ্রুত’ করতে হবে। তবে অস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগের খবরের মাঝেই পেন্টাগনের প্রতিরক্ষা উদ্ভাবন ইউনিটের প্রধান উপপরিচালক জ্যারেড কনলি জানান, বর্তমান সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুদ এখনো পর্যাপ্ত রয়েছে। আলজাজিরাকে দেয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, যুদ্ধ পরিচালনার জন্য যা প্রয়োজন, তা এখন মার্কিন বাহিনীর হাতে রয়েছে।
তা সত্ত্বেও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী গোলার মজুদ ফুরিয়ে আসার আশঙ্কার সংবাদটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের আলোচনার টেবিলে উঠে এসেছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষার গোলার স্বল্পতার বিষয়টি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক কৌশল নির্ধারণে প্রভাব ফেলেছিল। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অস্ত্রের পর্যাপ্ততা নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প এবং হেগসেথ এর দায় উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী স্টিভ ফেইনবার্গের ওপর চাপান। তবে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এই সংবাদকে সম্পূর্ণ ‘ভুয়া ও রাষ্ট্রদ্রোহী’ বলে উড়িয়ে দেন। তিনি হেগসেথের ওপর তার পূর্ণ আস্থার কথা জানিয়ে ভেনিজুয়েলা ও ইরানে গৃহীত সামরিক পদক্ষেপের সফলতার প্রশংসা করেন। হোয়াইট হাউজের প্রেসসচিব ক্যারোলিন লেভিট এবং পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেলও বৈঠকসংক্রান্ত এই বিরোধের দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। পেন্টাগন বর্তমানে ঠিক কী পরিমাণে গোলাবারুদ মজুদ আছে তা প্রকাশ না করলেও, ফেইনবার্গের দেয়া ২১ দিনের সময়সীমা থেকে স্পষ্ট যে ওয়াশিংটন ইরানের সাথে সঙ্ঘাতের পাশাপাশি ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পরিস্থিতি সামাল দিতে নিজেদের সমরাস্ত্রের ভিত আরো শক্তিশালী করতে চাইছে।



