এএফপি
ইউরোপে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনা ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে মূল্যায়ন শুরু করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন কর্মকর্তারা সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন। গত মাসে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সাথে বৈঠকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছিলেন, ইউরোপে মোতায়েন থাকা মার্কিন সামরিক শক্তির বিষয়ে একটি মূল্যায়ন করা হবে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী এলব্রিজ কলবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘মন্ত্রী হেগসেথ আগেই জানিয়েছিলেন, এটি হবে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা। এর উদ্দেশ্য হলো নিশ্চিত করা যে, ন্যাটো দ্রুত এবং স্থায়ীভাবে এমন এক পথে এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে ইউরোপ তার নিজস্ব প্রতিরক্ষার প্রধান দায়িত্ব গ্রহণ করবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এই পর্যালোচনার ফলে ন্যাটো আরো শক্তিশালী, আরো সমান দায়িত্বশীল এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই একটি জোটে পরিণত হবে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ইউরোপীয় মিত্রদের সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের সময় তাদের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। ট্রাম্পের অভিযোগ, সঙ্ঘাতের শুরুতে ইউরোপীয় দেশগুলো মার্কিন বাহিনীকে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। এ দিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথও সতর্ক করে বলেছেন, ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো যদি নির্ধারিত প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্য পূরণ না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র জোটে নিজের অর্থায়ন কমিয়ে দিতে পারে। ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপকে জানিয়ে আসছে যে, ইউরোপীয় দেশগুলোকেই তাদের নিজস্ব প্রচলিত প্রতিরক্ষার মূল দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে চীনের দিকে কৌশলগত মনোযোগ বাড়াতে চায়। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পেন্টাগন ইতোমধ্যে ন্যাটো মিত্রদের জানিয়েছে যে, বিশ্বজুড়ে ন্যাটো অভিযানের জন্য যে পরিমাণ সামরিক সক্ষমতা বা সম্পদ যুক্তরাষ্ট্র সরবরাহ করে, তার পরিমাণ কমানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত মে মাসে জার্মানি থেকে পাঁচ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানায় পেন্টাগন। ফলে দেশটিতে আমেরিকান সেনার সংখ্যা ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর জানায়, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত জার্মানিতে ৩৬ হাজার ৪৩৬ জন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা নিয়োজিত ছিলেন, যা জাপানের পর বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে থাকা সর্বোচ্চ মার্কিন সেনা উপস্থিতি। তবে এ পাঁচ হাজার সেনা প্রত্যাহারের পর তাদের যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেয়া হবে নাকি অন্য কোথাও মোতায়েন করা হবে, সে বিষয়ে পেন্টাগন এখনো স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি।
জার্মানি ছাড়াও ইউরোপের অন্যান্য দেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। এর মধ্যে ইতালিতে রয়েছে ১২ হাজারেরও বেশি এবং যুক্তরাজ্যে রয়েছে ১০ হাজারেরও কিছু বেশি মার্কিন সেনা। এ ছাড়া স্পেনে প্রায় চার হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকলেও, বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদের প্রত্যাহার করে নেয়ার হুমকি দিয়েছেন। কারণ স্পেন সরকার ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধে তাদের দেশের মার্কিন ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করতে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
স্নায়ুযুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের পাশাপাশি ইউরোপে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সঙ্কট মোকাবেলাতেও সবসময় বড় ভূমিকা রেখে এসেছে। ইউরোপীয় দেশগুলো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিমান ও নৌ ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। এর মধ্যে জার্মানির রামস্টেইন বিমান ঘাঁটি, যুক্তরাজ্যের আরএএফ লাকেনহিথ ও আরএএফ মিল্ডেনহল, ইতালির এভিয়ানো এবং পর্তুগিজ আজোরেসের লাজেস ফিল্ড অন্যতম। এ ছাড়াও জার্মানির স্টুটগার্টে রয়েছে মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ড এবং আফ্রিকা কমান্ডের মূল সদর দফতর। একই সাথে ইতালির নেপলস এবং সিগোনেলায় মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি বড় ঘাঁটি রয়েছে, যা ইউরোপজুড়ে মার্কিন সামরিক আধিপত্য বজায় রাখতে প্রধান ভূমিকা পালন করে।



