মোমেন কমিশনের আকস্মিক পদত্যাগে অভিভাবকশূন্য দুদক

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এখন অভিভাবকশূন্য। বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার দুই সপ্তাহের মাথায় পদত্যাগ করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেনসহ দুই কমিশনার। এর পর থেকেই নেতৃত্বশূন্য এই সংস্থা। এতে থমকে গেছে ভিভিআইপি-ভিআইপিদের দুর্নীতির অনুসন্ধান-তদন্তসহ কয়েক হাজার মামলার কার্যক্রম।

জিলানী মিলটন
Printed Edition

  • নতুন কমিশন গঠনে হয়নি সার্চ কমিটি
  • থমকে গেছে ভিআইপিদের দুর্নীতির কয়েক হাজার মামলার কার্যক্রম
  • সংসদের প্রথম অধিবেশনে নতুন অধ্যাদেশ বহাল এবং সার্চ কমিটি গঠন

দুর্নীতিবিরোধী একমাত্র রাষ্ট্রীয় সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এখন অভিভাবকশূন্য। বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার দুই সপ্তাহের মাথায় পদত্যাগ করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেনসহ দুই কমিশনার। এর পর থেকেই নেতৃত্বশূন্য এই সংস্থা। এতে থমকে গেছে ভিভিআইপি-ভিআইপিদের দুর্নীতির অনুসন্ধান-তদন্তসহ কয়েক হাজার মামলার কার্যক্রম।

একমাত্র রুটিন কাজ ছাড়া অনেকটা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন দুদকের কর্মকর্তারা। এ অবস্থায় কবে- কিভাবে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে দুদকের নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার, সেই অপেক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা।

দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন ও দুই কমিশনার সম্প্রতি পদত্যাগ করায় এ সংস্থার নেতৃত্বে কারা আসবেন, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে। চলছে নানা আলোচনা। এই প্রেক্ষাপটে দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের আইনি প্রক্রিয়া এবং সাম্প্রতিক আইন সংশোধনে কী পরিবর্তন এসেছে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর প্রশাসনে রদবদলের মধ্যে ৩ মার্চ পদত্যাগপত্র জমা দেন দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং কমিশনার মিয়া মোহাম্মদ আলী আকবর আজিজি ও অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাফিজ আহসান ফরিদ।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালে অধ্যাদেশের মাধ্যমে দুদক আইন সংশোধনের ফলে কমিশন গঠনের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। নতুন বিধানে কমিশনের সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ, নারী ও তথ্যপ্রযুক্তি দক্ষ কমিশনার রাখার বাধ্যবাধকতা এবং বাছাই কমিটির কাঠামো পুনর্গঠন করা হয়েছে।

সবশেষ ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর জারি হওয়া ‘দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুযায়ী, এখন অন্যূন একজন নারী এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ একজন কমিশনারসহ অনধিক পাঁচজন কমিশনারকে নিয়ে কমিশন গঠন করা যাবে। তাদের মধ্যে থেকে রাষ্ট্রপতি একজনকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেবেন। এই প্রেক্ষাপটে দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের আইনি প্রক্রিয়া এবং সাম্প্রতিক আইন সংশোধনে কী পরিবর্তন এসেছে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এ দিকে কে হচ্ছেন দুদকের নতুন চেয়ারম্যান, এ নিয়েও চলছে আলোচনা। চেয়ারম্যান হিসেবে সাবেক বিচারক মোতাহের হোসেন, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমানের নাম নিয়ে কানাঘুষা আছে।

বিএনপির পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকা সাবেক বিচারক মোতাহার হোসেনের নাম ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে। সদ্য পদত্যাগ করা আবদুল মোমেন দুদকের চেয়ারম্যান থাকার সময়ই বিএনপির পক্ষ থেকে মোতাহার হোসেনকে কমিশনের প্রধান করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। তবে তখন অন্তর্বর্তী সরকারের একজন প্রভাবশালী উপদেষ্টার আপত্তিতে সেটি সম্ভব হয়নি। তবে সংসদের প্রথম অধিবেশনে দুদকের নতুন অধ্যাদেশ বহাল এবং সার্চ কমিটি গঠনের পর এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

তবে দুদকের নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার যে-ই হোক, এ ক্ষেত্রে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও পেশাগতভাবে সৎদের বিবেচনার ওপর জোর দিয়েছেন দুদক সংস্কার কমিশনের প্রধান ও টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেছেন, যাদেরকে নিয়োগ দেয়া হবে তারা যেন সংশ্লিষ্ট খাতে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও পারদর্শী ব্যক্তি হন এবং অতীতে তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে তার প্রতিফলন ঘটেছে, প্রমাণ রাখতে পেরেছেন। দ্বিতীয়ত, সরকারের বিবেচনায় নিয়োজিত হচ্ছেন তা ঠিক আছে, কিন্তু সরকারের পা চাটা গোলাম হবেন না। সরকার দলের কথায় উঠবেন-বসবেন, সেটা হবে না। এ রকম মানসিকতা আছে, সৎ সাহস আছে এ রকম ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে হবে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলছেন, ক্ষমতাসীন সরকার ও রাজনৈতিক দলের চাপ থাকে দুদকের ওপর। এ ক্ষেত্রে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে নতুন কমিশনকে। তবে দায়িত্ব নেয়ার পর সরকার প্রধানের নানামুখী উদ্যোগ ও পদক্ষেপ, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ দুদক গঠনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা বলে মনে করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, তিনি (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান) অত্যন্ত ইতিবাচক বিশেষ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি একা তো রাষ্ট্র-সরকার পরিচালনা করবেন না। যাদেরকে দিয়ে করবেন, তাদের মোটিভেট করতে হবে।

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি : সাবেক ‘দুর্নীতি দমন ব্যুরো’ বিলুপ্ত করে ২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে জন্ম নিয়েছিল ‘দুর্নীতি দমন কমিশন’ (দুদক)। সেই থেকে এ পর্যন্ত মোট সাতটি কমিশন এই সংস্থার হাল ধরেছে। তবে দুই দশকের এই পথচলায় ‘স্বাধীন’ তকমা থাকলেও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় দেখা গেছে চরম অস্থিরতা।

দুদকের আইনে প্রথমে কমিশনের মেয়াদ চার বছর এবং পরবর্তীতে তা বাড়িয়ে পাঁচ বছর করা হয়। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, সাতটি কমিশনের মধ্যে মাত্র তিনটি কমিশন তাদের নির্ধারিত মেয়াদ পূর্ণ করতে পেরেছে। বাকি চারটি কমিশনই মেয়াদ শেষ হওয়ার অনেক আগে হয় পদত্যাগ করেছে, না হয় নাটকীয়ভাবে বিদায় নিয়েছে। সংস্থার পেশাদারিত্ব ও ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সফলভাবে মেয়াদ শেষ করতে পেরেছিলেন গোলাম রহমান, মো: বদিউজ্জামান ও ইকবাল মাহমুদের নেতৃত্বাধীন কমিশন।

অন্য দিকে বিচারপতি সুলতান হোসেন খান, সাবেক সেনাপ্রধান হাসান মশহুদ চৌধুরী, মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ ও ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বাধীন কমিশন মেয়াদ পূরণ করার অনেক আগেই আকস্মিকভাবে বিদায় নিতে হয়েছে কিংবা পদত্যাগ করেছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুর্নীতি দমন কমিশন তার হারানো ইমেজ পুনরুদ্ধারের একটি মরিয়া চেষ্টা চালায়। মাত্র তিন মাসের মধ্যে প্রায় দেড় শতাধিক মন্ত্রী, এমপি ও আমলার বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি করে অনুসন্ধান শুরু করা হয়। তবে এই ‘ভোল পাল্টানো’ পদক্ষেপে জনমনে আস্থা ফেরানো সম্ভব হয়নি।

২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর এক বিশেষ প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাল ধরেন সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি যখন দুদকে আসেন, তখন তার সামনে ছিল বিশাল চ্যালেঞ্জ।

মোমেন কমিশনের ১৫ মাসের মেয়াদকাল ছিল মূলত বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের রাঘববোয়ালদের জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্ক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে কমিশনটি অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করেছে।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এই স্বল্প সময়ে দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১৫ হাজারেরও বেশি অভিযোগ জমা পড়েছিল। দুদকের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এত ব্যাপক পরিসরে অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। কমিশনের শক্ত পদক্ষেপে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ভিআইপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান আইনি জালে আটকা পড়েছে। এই তালিকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে বিগত সরকারের প্রায় সব প্রভাবশালী মন্ত্রী, সাবেক ক্ষমতাধর আমলা এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতিরা রয়েছেন।

মোমেন কমিশনের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার কার্যক্রম। দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত অর্থপাচারকারী, ঋণখেলাপি এবং সরকারি অর্থ আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে এই কমিশন। তথ্য অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে ৩০০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ জনস্বার্থে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করা ছিল কমিশনের অন্যতম বড় অর্জন।

মোমেন কমিশনের এই আকস্মিক বিদায়কে কেবল সাধারণ পদত্যাগ হিসেবে দেখছেন না দুদকের খোদ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাই। তাদের মতে, মোমেন কমিশনের এই প্রস্থান কেবল নিছক পদত্যাগ নয়, বরং এটি দুদকের ইতিহাসে একই ঘটনার বারবার ফিরে আসার একটি নেতিবাচক নজির। এমন অস্থিতিশীলতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। কারণ যখনই নেতৃত্বের পরিবর্তন ঘটে, তখনই চলমান বড় বড় অনুসন্ধান ও তদন্ত কাজের স্বাভাবিক গতি বা ছন্দপতন হয়।

তাদের মতে আইন অনুযায়ী দুদক একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন বারবার এই প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ভেঙে যায়? বারবার নেতৃত্বের এই পালাবদল দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তিকেই দুর্বল করে দেয়। এখন দেখার বিষয়, নতুন যে কমিশন দায়িত্ব নেবে, তারা কতটুকু প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে পারে এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে সক্ষম হয়।

এ দিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালে অধ্যাদেশের মাধ্যমে দুদক আইন সংশোধনের ফলে কমিশন গঠনের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। নতুন বিধানে কমিশনের সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ, নারী ও তথ্যপ্রযুক্তি দক্ষ কমিশনার রাখার বাধ্যবাধকতা এবং বাছাই কমিটির কাঠামো পুনর্গঠন করা হয়েছে।

সবশেষ ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর জারি হওয়া ‘দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুযায়ী, এখন অন্যূন একজন নারী এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ একজন কমিশনারসহ অনধিক পাঁচজন কমিশনারকে নিয়ে কমিশন গঠন করা যাবে। তাদের মধ্যে থেকে রাষ্ট্রপতি একজনকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেবেন।

সংশোধিত আইনে কমিশনার নিয়োগের জন্য সাত সদস্যের একটি বাছাই বা সার্চ কমিটি করার কথা বলা হয়েছে। এর সভাপতি হবেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ বিচারক। এ ছাড়া কমিটিতে থাকবেন প্রধান বিচারপতির মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান, জাতীয় সংসদের স্পিকারের মনোনীত সরকার ও বিরোধী দলের একজন করে দু’জন সংসদ সদস্য এবং সুশাসন, দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম বা দুর্নীতিসংক্রান্ত বিচার পরিচালনায় অন্তত ১৫ বছরের অভিজ্ঞ একজন নাগরিক, যাকে কমিটির সভাপতি মনোনীত করবেন।

আইন অনুযায়ী বাছাই কমিটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দরখাস্ত ও মনোনয়ন আহ্বান করবে। আবেদনকারীদের জীবনবৃত্তান্ত ও সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দিতে হবে। কমিটি নিজ উদ্যোগেও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্যপ্রার্থীদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করা হবে। এরপর তাদের সাক্ষাৎকার নেয়া হবে।

সবশেষে কমিশনারের প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে দু’জন করে প্রার্থীর নাম রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ আকারে পাঠাবে বাছাই কমিটি।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বাছাই কমিটি সাধারণত সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে। তা সম্ভব না হলে উপস্থিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতামতই কমিটির সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য হবে। ভোট সমান হলে কমিটির সভাপতি বা সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তি নির্ণায়ক ভোট দিতে পারবেন।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, বাছাই কমিটি প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে দু’জনের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবে। রাষ্ট্রপতি সেখান থেকে চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ দেবেন। তবে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত কার্যত প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ সাপেক্ষ হয়ে থাকে।

আগে যা ছিল আইনে : ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী, আগে কমিশনে চেয়ারম্যানসহ তিন সদস্যের থাকতেন। রাষ্ট্রপতি একজন চেয়ারম্যান এবং দুইজন কমিশনার নিয়োগ দিতেন।

কমিশনার নিয়োগের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি বাছাই বা সার্চ কমিটির বিধান ছিল। সেই কমিটিতে ছিলেন আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি, হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান।

বাছাই কমিটি যোগ্যপ্রার্থীদের তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করত এবং সেখান থেকে কমিশনার নিয়োগ দেয়া হতো।