নথি ছাড়াই ‘ডক্টর’ পদবি ব্যবহার ববি কর্মকর্তার

Printed Edition

ববি প্রতিনিধি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) আইন ও বিধিমালার তোয়াক্কা না করে নিজের নামের পাশে অনুমোদনহীন ‘পিএইচডি’ ডিগ্রি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত সুব্রত কুমার বাহাদুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দফতরের অতিরিক্ত পরিচালক। রেজিস্ট্রার দফতরে ডিগ্রির কোনো কাগজপত্র জমা না দিয়েই দফতরের অনারবোর্ড ও কক্ষের নামফলকে তিনি দেদার ‘ডক্টর’ পদবি ব্যবহার করছেন। এমনকি পিএইচডি সম্পন্নের বৈধ প্রমাণপত্র ছাড়াই তিনি ইতোমধ্যে ‘পোস্ট ডক্টরেট’ করার জন্য ছুটির আবেদন করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা উচ্চতর ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর যথাযথ কাগজপত্র জমা দিলে কর্তৃপক্ষ তা যাচাই-বাছাই করে নথিভুক্তির অনুমোদন দেয়। এরপরই কেবল সেই পদবি ব্যবহার করা যায়। তবে সুব্রত কুমার পিএইচডি ডিগ্রির কোনো তথ্য প্রশাসনকে জানাননি। যেখানে অনেক শিক্ষক পিএইচডি শেষ করে মূল নথি জমা দিয়েও চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় নামের আগে ‘ডক্টর’ লিখছেন না, সেখানে একজন কর্মকর্তার এমন কর্মকাণ্ডে খোদ প্রশাসনের ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৯ সালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ দফতরে যোগদানের পর ২০১১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস’ বিভাগে পিএইচডিতে ভর্তি হন সুব্রত। ২০১২ সালে তিনি ববিতে যোগ দেন এবং ২০১৩ সালে পিএইচডি চালুর অনুমতি নেন। তবে দীর্ঘ ১৬ বছরেও এই পিএইচডি আদৌ শেষ হয়েছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকরা তার দফতরে গেলে তিনি তড়িঘড়ি ভিসির কাছ থেকে ‘জরুরি ছুটি’ নিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। তবে সরেজমিন তার দফতরে অনুমোদনহীন পদবি ব্যবহারের সত্যতা পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো: হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘সুব্রত কুমার পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো সার্টিফিকেট বা কাগজপত্র প্রশাসনকে দেননি।’ অভিযুক্ত সুব্রত কুমার বাহাদুরের দাবি, তার ডিগ্রি সম্পন্ন হলেও কাগজপত্র হাতে না পাওয়ায় জমা দিতে পারেননি। তবে অনুমোদন ছাড়া নামফলকে পদবি ব্যবহার করা ঠিক কি না জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য না করে নামফলকটি সরিয়ে ফেলার কথা জানান।

ভিসি অধ্যাপক ড. মামুন অর রশিদ বলেন, ‘নথিভুক্ত না করে কেউ পিএইচডি ডিগ্রি ব্যবহার করতে পারেন না। তিনি কেন এমনটি করলেন, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখবো।’