পশ্চিম তীরে মসজিদে আগুন ৮০ ফিলিস্তিনি গ্রেফতার

Printed Edition
তেলআবিবে বিক্ষোভে অংশ নেয়া এক বিক্ষোভকারীকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি পুলিশ  : ইন্টারনেট
তেলআবিবে বিক্ষোভে অংশ নেয়া এক বিক্ষোভকারীকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি পুলিশ : ইন্টারনেট

আলজাজিরা

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের নাবলুসের দক্ষিণে কুসরা শহরের আল-রাহমা মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মসজিদে আগুন দিয়েছে ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীরা। ওই হামলায় মসজিদটির ক্ষতি হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, মসজিদে আগুন জ্বলছে। কুসরার মেয়র আবদেল আজিম ওয়াদি বলেন, হামলাকারীরা মসজিদের প্রধান প্রবেশপথে আগুন দেয়। এতে প্রবেশদ্বার সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং মসজিদের পাথরের দেয়ালেরও তি হয়। এদিকে তুলকারেমের কাছে কৌর গ্রামেও আরেকটি মসজিদে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে পশ্চিম তীরজুড়ে অভিযান চালিয়ে অন্তত ৮০ ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার করেছে ইসরাইলি বাহিনী। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানায়, নাবলুস, রামাল্লাহ, জেনিন, হেবরন, বেথলেহেম ও তুলকারেমসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া জেনিন শহর ও আশপাশের একাধিক গ্রামে বড় পরিসরের সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইসরাইলি বাহিনী।

ইসরাইলি সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, পশ্চিম তীরের প্রধান সড়ক ও বিভিন্ন গ্রামের প্রবেশপথে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসিয়ে কঠোর চলাচল নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরাইলি সেনা নিহত হওয়ার পর পশ্চিম তীরে নিরাপত্তা অভিযান আরো জোরদার করেছে ইসরাইল। ধরপাকড় ও হয়রানির মাত্রাও বেড়েছে।

বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার প্রতিবাদে ইসরাইলে বিক্ষোভ

এদিকে আলজাজিরা জানায়, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার প্রতিবাদে তেলআবিবে বিক্ষোভ করেছেন শত শত মানুষ। বিক্ষোভ থেকে ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে ইসরাইলি পুলিশ। শনিবার কাপলান স্ট্রিটে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বামপন্থি হাদাশ পার্টি ও তাদের মিত্র সংগঠনগুলো এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

বিক্ষোভকারীরা পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার প্রতিবাদ জানান। ‘মাদারস অ্যাগেইনস্ট ভায়োলেন্স’ নামের সংগঠন জানায়, বিক্ষোভে ২০০ জনের বেশি মানুষ অংশ নেন এবং পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর বলপ্রয়োগ করেছে।

ইসরাইলি পুলিশ অবশ্য দাবি করেছে, বিক্ষোভের অনুমতি ছিল না এবং অংশগ্রহণকারীরা জনশৃঙ্খলা বিঘিœত করে সড়ক অবরোধ করায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এর আগের দিন নাবলুসের কাছে তাল শহরে বসতি স্থাপনকারীদের অনুপ্রবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরাইলি নিহত হন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বসতি স্থাপনকারীরা ওই এলাকায় প্রবেশ করে ফিলিস্তিনিদের বাড়িতে হামলার চেষ্টা চালালে বাসিন্দাদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়।

ঘটনার পর ইসরাইলি সরকার পশ্চিম তীরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেয়। ইসরাইলি বাহিনী তাল শহরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫০ জন ফিলিস্তিনিকে আটক করে এবং বহু বাড়িতে তল্লাশি চালায়। ফিলিস্তিনি বন্দী সংগঠন এ ঘটনাকে ‘সমষ্টিগত শাস্তি’ বলে আখ্যা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ওরি গোল্ডবার্গ বলেন, তাল শহরের ঘটনার ভিডিও প্রকাশের ফলে ইসরাইলি সমাজে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তার মতে, এ ঘটনা ইসরাইলের উদারপন্থী মহলের মধ্যে প্রতিবাদের মনোভাব জাগিয়ে তুলতে পারে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি অভিযানে একহাজার ১৮২ জন ফিলিস্তিনি নিহত, ১৩ হাজারের বেশি আহত ও প্রায় ২৪ হাজার মানুষ গ্রেফতার হয়েছেন।

ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা বেড়েছে ৬৩ শতাংশ

আল জাজিরা জানায়, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। নিরাপত্তা তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে ইসরাইলি আর্মি রেডিও জানিয়েছে, ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে হামলার সংখ্যা ব্যাপকভঅবে বেড়েছে।

এতে বলা হয়, চলতি বছরের প্রথমার্ধে ৬৬০টি হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪০৫। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ২৫০ শিশুসহ কমপক্ষে এক হাজার ১৮৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। চলতি বছর এই অঞ্চলে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৮৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে ২১ নিহত হয়েছেন জন বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ।