রয়টার্স
চলমান উত্তেজনার মধ্যেই আলোচনার জন্য ইসরাইলের সাথে কূটনীতির দরজা খোলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি। তিনি দেশটিকে ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল রোববার রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
নিরাপত্তা চুক্তি বিষয়ক আলোচনার ফলে সিরিয়ার ভূখণ্ড থেকে ইসরাইল সরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন আল-শাইবানি। তিনি জানান, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্ঘাত শুরুর সময় নিরাপত্তা চুক্তিবিষয়ক আলোচনা স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। আলোচনা আবার শুরুর জন্য এখনো কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, দামেস্কের প্রধান অগ্রাধিকার হলো ইসরাইলি হামলা বন্ধ করা এবং এ লক্ষ্যে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন মিত্র সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সরকার এবং ইসরাইলের মধ্যে একটি নিরাপত্তা চুক্তি সম্পাদনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কোনো চুক্তি সম্ভব হয়নি, কারণ ইসরাইল নিজেদের নিরাপত্তার প্রতি হুমকির অজুহাতে সিরিয়ার ভূখণ্ডে সৈন্য পাঠিয়েছে এবং সরকারি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
আল-শাইবানি বলেন, আমরা মনে করি যোগাযোগ থাকা উচিত, বিশেষ করে এমন একটি পক্ষের সাথে যারা প্রতিনিয়ত সিরিয়ার নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু যদি এই যোগাযোগ কোনো ফল না বয়ে আনে, তবে আমাদের এর প্রয়োজন নেই। বর্তমানে আমরা ইসরাইলকে বিশ্বাস করি না। যদিও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে কোনো সাড়া দেয়নি। আল-শারা বলেছেন, সিরিয়া অন্য কোনো দেশের জন্য হুমকি নয়; বরং ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধের পর দেশ পুনর্গঠনের দিকেই তারা মনোযোগ দিচ্ছে। ইসরাইলি কর্মকর্তারা সিরিয়া থেকে সম্ভাব্য বিভিন্ন ঝুঁকির কথা বলেছেন এবং গত বছর কয়েকজন কর্মকর্তা নতুন সরকারের সমালোচনাও করেছিলেন। যদিও আল-শারা ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্ক জোরদার করার চেষ্টা করছিলেন। ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের ক্ষমতাচ্যুতির পর নাগরিকদের হামলার হাত থেকে রক্ষার অজুহাতে ইসরাইল দক্ষিণ-পশ্চিম সিরিয়ার কিছু ভূখণ্ড দখল করে নেয়। এমনকি সিরিয়ার বহু সামরিক ঘাঁটিতে বোমা হামলা চালায়।
আল-শাইবানি বলেন, ইসরাইল গায়ের জোরে নিজেদের নিরাপত্তা বজায় রাখার চেষ্টা করেছে, কিন্তু কোথাও তারা সফল হয়নি।



