চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি ও জীবননগর সংবাদদাতা
হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে সেনা হেফাজতে মারা যাওয়া জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুর (৫৩) জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় জীবননগর পৌর ঈদগাহ ময়দানে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ডাবলুর ছোট ভাই ও মা লন্ডন থেকে দেশে ফিরলে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।
জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এই দেশে আমরা এমন মৃত্যু প্রত্যাশা করি না। ডাবলুর মৃত্যুর সঠিক বিচার চাই। ভবিষ্যতে যেন আর কাউকে এভাবে প্রাণ দিতে না হয়।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো: মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত। পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচারে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।’
জানাজায় আরো উপস্থিত ছিলেন- চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি এম তারিক-উজ-জামান, সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) মো: আনোয়ারুল কবীর, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি ও বিজিএমইএর সভাপতি এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সিআইপি আলহাজ সাহিদুজ্জামান টরিক, চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মারুফ সারোয়ার বাবু, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার অহিদুল আলমসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় শুভানুধ্যায়ীরা।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি এম তারিক-উজ-জামান বলেন, ‘যে ঘটনা ঘটেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। যে হারায়, সে-ই একমাত্র বোঝে কী হারাল। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য যা যা প্রয়োজন, সব করা হবে। তদন্তে যারা জড়িত থাকবে, কেউই ছাড় পাবে না।’
পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হাফিজা ফার্মেসির সামনে থেকে ডাবলুকে আটক করে পার্শ্ববর্তী একটি কার্যালয়ের কক্ষে নেয়া হয়। পরে রাত ১২টার পর তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মকবুল হোসেন জানান, ১২ জানুয়ারি রাত ১২টা ১৬ মিনিটে শামসুজ্জামান ডাবলুকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামাল আল-নাসের গণমাধ্যমকে বলেন, ডাবলুকে তুলে নেয়ার সময় জেলা পুলিশের কোনো সদস্য সেখানে ছিলেন না। তবে তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর পুলিশ খবর পায় এবং সদস্যরা সেখানে যান।
ডাবলুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত থেকেই জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। খবর পেয়ে রাত ২টার দিকে জেলা বিএনপি সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরদিন বেলা ১১টার দিকে ফের ঘটনাস্থলে যান জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ। তাদের আহ্বানে নেতাকর্মীরা শান্ত হলে পরে সেখানে যান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম ও জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে বিচারের আশ্বাসে বেলা দেড়টার দিকে ডাবলুর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের উদ্দেশে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যায় লাশ বাড়িতে পৌঁছে।
ডাবলুর মৃত্যুর ঘটনায় তার ভাই শরিফুল ইসলাম কাজল জীবননগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে সেটি এখনো মামলা হিসেবে এজাহারভুক্ত হয়নি বলে জানা গেছে।
এদিকে, ডাবলুর মৃত্যুর ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা শোনা গেছে। এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি এম তারিক-উজ-জামানকে। তবে এবিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এরই মধ্যে এই মৃত্যুর ঘটনায় ক্যাম্প কমান্ডার ও অভিযানে অংশগ্রহণকারী সব সেনা সদস্যকে সেনানিবাসে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।



