লালমনিরহাট ও নীলফামারী প্রতিনিধি
ভারতের উজানে টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ হঠাৎ বেড়ে লালমনিরহাট ও নীলফামারী অংশে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চর এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা আপাতত নেই। একই সময়ে ধরলা নদীতেও পানির উচ্চতা বাড়লেও তা এখনো বিপদসীমার নিচে রয়েছে।
বুধবার সকাল ৯টার পর্যবেক্ষণে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ২৮ মিটার, যা বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপরে। পরে বেলা ১১টায় পানি কিছুটা নেমে বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার এবং বিকেল ৩টায় ১ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হয়। শিমুলবাড়ী পয়েন্টে ধরলা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ২৯ দশমিক ৪৬ মিটার, যা বিপদসীমার ১ দশমিক ৪১ মিটার নিচে।
তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চরাঞ্চল এবং নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক বাড়িতে হাঁটুপানি উঠেছে এবং রোপা আমনসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
ডিমলা উপজেলার খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সকালে তিস্তার পানি দ্রুত বেড়ে নিম্নাঞ্চলে ঢুকে পড়ে। অনেক বাড়িতে হাঁটুপানি উঠেছে এবং ফসলের জমি তলিয়ে গেছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টা তিস্তার পানি বর্তমান অবস্থার কাছাকাছি থাকতে পারে। এরপর ভাটির দিকে প্রবাহ স্বাভাবিক হলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পানি কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। নীলফামারীর ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় ব্যারাজের সব জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। নদীতীরবর্তী মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।



