কাজাখস্তানে নতুন সংবিধানে প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন

Printed Edition
কাজাখস্তানের আলমাটির একটি কেন্দ্রে ভোট দিচ্ছেন এক নারী : ইন্টারনেট
কাজাখস্তানের আলমাটির একটি কেন্দ্রে ভোট দিচ্ছেন এক নারী : ইন্টারনেট

রয়টার্স

নতুন সংবিধানের অধীনে প্রথমবারের মতো একক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা ‘কুরুলতাই’-এর সদস্য নির্বাচনে ভোটগ্রহণ করেছে কাজাখস্তান। দেশজুড়ে ১০ হাজার ৪০০টিরও বেশি ভোটকেন্দ্রে রোববার সকাল থেকে এই ভোটগ্রহণ শুরু হয়। দেশটির নতুন সাংবিধানিক ব্যবস্থার অধীনে এটিই প্রথম জাতীয় নির্বাচন। স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় ভোটকেন্দ্রগুলো উন্মুক্ত করা হয় এবং তা রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা ছিল। সামরিক স্থাপনা, শিফটকর্মী এলাকা ও বিশেষায়িত কিছু কেন্দ্রে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা আগেই ভোটগ্রহণ শুরু হয়। দেশটির বাইরে ৬১টি দেশের কূটনৈতিক মিশনে স্থাপিত ৭৯টি কেন্দ্রে কাজাখ নাগরিকরা ভোট দেয়ার সুযোগ পান। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ইরান ও ইউক্রেনে ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া নিবন্ধিত ভোটার না থাকায় ইথিওপিয়ায় কোনো কেন্দ্র স্থাপন করা হয়নি।

চলতি বছর গৃহীত নতুন সংবিধানের আওতায় কাজাখস্তানের পূর্বের দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করে ১৪৫ আসনের একক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা গঠন করা হয়। এই নির্বাচনে সাতটি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। দলগুলো হলো- আদিলত, নেশনওয়াইড সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি, বায়তাক, পিপলস পার্টি অব কাজাখস্তান, আউইল, আক ঝোল ও রেসপাবলিকা। ভোটারদের জন্য কোনো দলকেই পছন্দ না করার বিকল্পও রাখা হয়েছে। নতুন পদ্ধতিতে শুধু দলীয় তালিকার ভিত্তিতে সদস্যরা নির্বাচিত হবেন এবং পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব পেতে দলগুলোকে অন্তত ০৫ শতাংশ ভোট পেতে হবে।

প্রেসিডেন্ট প্রশাসনের প্রথম উপপ্রধান এরলান কারিন রাজধানী আস্তানায় ভোট দেয়ার পর সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই নির্বাচন সাধারণ কোনো নির্বাচন নয়। নতুন সংবিধান গ্রহণের পর দেশ পুনর্গঠনের পরবর্তী ধাপ শুরু হওয়ায় এটি সত্যিই ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে।’ নির্বাচন উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শিংগিস আলেকেশেভ জানান, সব ভোটকেন্দ্রে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা পাহারা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, কাজাখস্তানে মোট ভোটার প্রায় এক কোটি ২৬ লাখ। ভোটগ্রহণ শুরুর প্রথম তিন ঘণ্টায় ১৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ ভোট সংগৃহীত হয়েছে।