বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা
রাজশাহীর বাগমারায় জ্বালানি তেল (ডিজেল) সঙ্কটের প্রভাব পড়েছে সেচ পাম্পগুলোতে। চাহিদার তুলনায় ডিজেল সরবরাহ কম থাকায় কৃষকরা জমিতে সেচ দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। বেশির ভাগ সময়ই বন্ধ থাকছে ডিজেল চালিত সেচ পাম্পগুলো। সময়মতো জমিতে পানি সরবরাহ করতে না পারায় বোরো ক্ষেতের জমি ফেঁটে যাচ্ছে। ফলে এই উপজেলায় এবার প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হুমকির মুখে পড়েছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের দেয়া তথ্যমতে, বাগমারার ১৬টি ইউনিয়ন ও দু’টি পৌর এলাকায় এবার মোট ১৮ হাজার ৯০ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ ভাগ জমিতে বিদ্যুৎ চালিত আর ৪০ ভাগ জমিতে ডিজেল চালিত সেচ পাম্প (গভীরনলকূপ ও শ্যালোমেশিন) দ্বারা সেচ দেয়া হয়। কিন্তু পেট্রল ও অকটেনের পাশাপাশি জ্বালানি তেল সঙ্কটও বিরাজ করছে সর্বত্র। এ কারণে ডিজেল চালিত গভীর নলকূপগুলো ডিজেলের অভাবে অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকছে। ফলে জমিতে সেচ দেয়া নিয়ে চরম বিপাকে পড়ছেন কৃষকরা।
সূত্র মতে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বোরো জমিতে সেচ দেয়ার জন্য মোট ২৪৮টি ডিজেল চালিত গভীর নলকূপ রয়েছে। এ ছাড়া উপজেলার দ্বীপপুর, ঝিকরা, বড়বিহানালী, গনিপুর ও শ্রীপুর ইউনিয়ন এবং তাহেরপুর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় আরো প্রায় ১৮০টিরও বেশি ডিজেল চালিত শ্যালোমেশিন রয়েছে। ওইসব শ্যালোমেশিনগুলো দ্বারা ভবানীগঞ্জ ও তাহেরপুর পৌরসভার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বারানই নদী থেকে এলাকার কৃষকরা জমিতে সেচ দিয়ে বোরোর আবাদসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষাবাদ করে থাকেন।
দ্বীপপুর ইউনিয়নের বিলসতি বিলের একটি গভীর নলকূপের মালিক ইসলাম সরদার বলেন, তার গভীর নলকূপের আওতায় ৩২০ বিঘা জমিতে এবার বোরো ধানের চাষ হয়েছে। কিন্তু প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তিনি ডিজেল সংগ্রহ করতে পারেননি। এ কারণে তার সেচ পাম্প বন্ধ রয়েছে। ফলে সেচের অভাবে তার স্কিমের আবাদ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ওই বিলের শ্যালো চালিত সেচের মালিক জাফর আলীও একই অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা কৃষ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবদুর রাজ্জাক বলেন, বিদ্যুৎ চালিত গভীর নলকূপগুলোতে সেচের কোনো সমস্যা না থাকলেও জ্বালানি তেল সঙ্কটের কারণে ডিজেল চালিত গভীরনলকূপ ও শ্যালোমেশিনগুলো চালানো যাচ্ছে না। সেই কারণে বোরো ক্ষেতে সেচে দিতে কৃষকদের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে খুব শিগগিরই এই সমস্যা কেটে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



