কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লার আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিতের পর নির্ধারিত সময়ে আত্মসমর্পণ না করায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে আবার গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শনিবার ঢাকার কেরানীগঞ্জে নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম জানান, হাফিজুর রহমান যাতে পালিয়ে যেতে না পারেন এবং আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা যায়, সে জন্য তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারের পর শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে হাফিজুর রহমানকে কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। পরে কুমিল্লার ৫ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক তৈয়ব উদ্দিন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। গত ২ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর ৪ আগস্ট কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান হাফিজুর রহমান। পরে তার জামিনাদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল করে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ আগস্ট আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো: রেজাউল হকের আদালত হাইকোর্টের দেয়া জামিন ৯ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত করেন। একই সাথে হাফিজুর রহমানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে আত্মসমর্পণ না করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন আদালত।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউজের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার লাশ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। শুরুতে থানা-পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি। সর্বশেষ পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দফতরে হস্তান্তর করে সিআইডি। গত প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দফতরের পুলিশ পরিদর্শক মো: মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পরিদর্শক মো: তরিকুল ইসলাম।



