ক্রীড়া প্রতিবেদক
৬, ৬, ৫, ২, ৪, ০, ৬, ২, ০, ০; প্রথম দেখায় মনে হতে পারে এটি কোনো মোবাইল নম্বর। কিন্তু আসলে তা নয়, এটি বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের চিত্র। অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে টাইগারদের ১০ ব্যাটারের রান এগুলো। স্কোরবোর্ডে এমন ব্যাটিং প্রদর্শন যে কোনো দলের জন্যই হতাশার। আর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেটি যেন আরো একবার সামনে নিয়ে এলো ব্যাটিংয়ের নাজুক চিত্র। তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে মেহেদী হাসান মিরাজের সেঞ্চুরির সুবাদে ২৬৩ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে টেগ উইলির করা ১৩০ রানে ৩৫৫ রানে থামে অসি একাদশ। ৯২ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫৪ রানেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে গেল সফরকারীদের ইনিংস। ফলে ইনিংস ও ৩৮ রানের পরাজয়ে প্রস্তুতি সারল বাংলাদেশ। শান্তদের ইনিংসে ধস নামানোর বড় কারিগর একটিমাত্র প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা ২২ বছর বয়সী বোলার ক্যাম্পবেল থম্পসন। টাইগার ৮ ব্যাটারকে তিনি একাই সাজঘরের পথ দেখিয়েছেন।
দীর্ঘ ২৩ বছর অপেক্ষার পর দুই টেস্ট সিরিজ খেলতে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া অবস্থান করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ডারউইনে আগামী ১৩ আগস্ট শুরু হবে প্রথম টেস্ট। এর আগে প্রস্তুতি হিসেবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের সাথে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নেমেছিল টাইগাররা। যেখানে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশী ব্যাটারদের এই নাজুক অবস্থা।
ব্যাটারের কাছ থেকে বড় ইনিংসের প্রত্যাশা থাকলেও শুরু থেকেই একের পর এক উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। ব্যাটিং অর্ডারের ওপরের সারি থেকে শুরু করে নিচের দিক পর্যন্ত কেউই লম্বা সময় উইকেটে থাকতে পারেননি। কেউই ইনিংস বড় করার সুযোগও তৈরি করতে পারেননি। বাজে ও অহেতুক শট খেলে হারিয়েছেন উইকেট। একমাত্র দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। এই ব্যাটার করেছেন সর্বোচ্চ ২২ রান। সাদমান ইসলাম ৬ রানে আউটের পর মুমিনুল হকের ব্যাটেও একই স্কোর। এরপর সৌম্য সরকার ৫- এভাবে এক অঙ্কের রানেই সাজঘরে ফিরেছেন পরের সব ব্যাটাররা। মাঝের সারির ব্যাটারদের অবস্থাটাও ছিল করুণ। মুশফিকুর রহীম ২, অমিত হাসান ৪, প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাটে ৬ রান। এই ছোট ছোট ইনিংস দিয়ে দলকে বড় সংগ্রহের দিকে নেয়া সম্ভব হয়নি।
দলের বিপর্যয়ের মুহূর্তে দায়িত্ব নেয়ার বদলে আরো হতাশাজনক ছিল অধিনায়ক নাজমুহল হোসেন শান্তর শূন্য রানে আউট হওয়া। শেষের দিকে তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেনের ব্যাটেও কোনো রান আসেনি। আর ২ রান নিয়ে একমাত্র অপরাজিত ব্যাটার ছিলেন পেসার হাসান মাহমুদ।
ক্রিকেটে দলের শক্তির বড় জায়গা তার ব্যাটিং গভীরতা। কিন্তু এই ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে সেই গভীরতার কোনো ছাপ দেখা যায়নি। প্রতিপক্ষের বোলারদের সামনে টেকসই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারায় অল্প রানেই থেমে গেছে বাংলাদেশের ইনিংস।
ডারউইনে আগের দিন শেষ বিকেলে ২টি উইকেট নিয়েছিলেন থম্পসন। বাঁহাতি এই পেসারের শিকার শেষ পর্যন্ত ২৫ রানে ৮ উইকেট! অথচ ২২ বছর বয়সী এই পেসার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেছেন স্রেফ একটি। এই ম্যাচটি খেললেন তিনি হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে সাড়ে পাঁচ মাস পর ফিরে। প্রায় আনকোরা থম্পসনের সামনে এই পারফরম্যান্সের পর টেস্টে মিচেল স্টার্কের বাঁহাতি পেস সামলানো নিয়ে এখন প্রবল শঙ্কা জেগেছে। সাথে আরো তো আছেন জশ হ্যাজেলউড ও প্যাট কামিন্স।
ডারউইনেই প্রথম টেস্টে আগামী বৃহস্পতিবার খেলতে নামবে বাংলাদেশ। মাঝের চার দিনে এই ক্ষত সারিয়ে টেস্টে লড়াইয়ের পথ খুঁজতে হবে শান্ত বাহিনীকে। পুরো ফিট হয়ে ওঠার পথে থাকা লিটন কুমার দাসকে ফিরে পাওয়ার আকাক্সক্ষাও নিশ্চিতভাবে তীব্রতর করবে প্রস্তুতি ম্যাচের এই পারফরম্যান্স।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ২৬৩/১০ ও দ্বিতীয় ইনিংস : ২২ ওভারে ৫৪/১০ (আগের দিন ১৯/২) (তানজিদ ২২, সাদমান ৬, মুমিনুল ৬ সৌম্য ৫, মুশফিক ২, অমিত ৪, শান্ত ০, মিরাজ ৬, হাসান ২*, তাসকিন ০, ইবাদত ০; থম্পসন ৮/২৫, কোরি রোচিচিওলি ২/৬)।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ প্রথম ইনিংস : ৩৫৫/১০
ফল : ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ ইনিংস ও ৩৮ রানে জয়ী।



